ফুল চাষে স্বয়ম্ভরতার পথে এগোচ্ছে ত্রিপুরা: কৃষিমন্ত্রী!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-জীবনকে বেকার রাখতে চাইলে কারোর ক্ষমতা নেই কাউকে উঠিয়ে আনার। অলস জীবন মানেই নিজেকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। আলস্য জীবন না কাটিয়ে অন্তত ফুল চাষে নিজেদের ব্যবহার কর। যুব সমাজের উদ্দেশে এই বার্তা দিলেন কৃষি ও বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ। ফুল চাষ কেন তার তথ্য ব্যাখ্যায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের একটা ভালো অংশ আজ ফুল চাষ করে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে। তাছাড়া রাজ্য সরকার জোরালো পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের ফুল চাষির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার মোহনপুর স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে প্রকৃতির সবুজে ঘেরা বিবেকানন্দ পুষ্প উদ্যানের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।মোহনপুর কলেজ সংলগ্ন স্থানে ১৪ কানি এলাকা জুড়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন তৈরি করতে গড়ে উঠেছে বিবেকানন্দ ফুল উদ্যান। এটি তৈরি করতে বর্তমানে এক কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। শুধু বিনোদন পার্ক নয়, এরমধ্যে শিশুদের খেলাধুলা করার ব্যবস্থার সাথে সাথে একটি রেস্টুরেন্টও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের মোহনপুর কৃষি দপ্তরের সহায়তা তৈরি হচ্ছে এই পার্ক। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন রাকেশ দেব, মনপুর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন অনিতা দেবনাথ, মোহনপুর স্বামী বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারাধন সাহা, মোহনপুর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারপার্সন শংকর দেব ও উদ্যান দপ্তরের আধিকারিক সুজিত দাস সহ অন্যরা। উদ্যান দপ্তরের আধিকারিক স্বাগত ভাষণে এই ফুল বাগানের উদ্দেশকে তুলে ধরে। বলেন, নানা রঙের ফুলের মাধ্যমে শিশুরা রংয়ের বিষয়ে হাতে কলমে শেখার সুযোগ
পাবে।কলেজের অধ্যক্ষ হারাধন সাহা বলেন, মোবাইলের মাধ্যমে যে শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে। সেই শৈশবকে আনন্দমুখর করে তুলতে এই ফুল বাগান সহযোগিতা করবে। অভিভাবকরা শিশুদের এখানে নিয়ে আসলে নান্দনিক বিকাশ ও উন্নত চিন্তার উপলব্ধি করতে পারবে। সাথে বলেন, কলেজের সায়েন্স ল্যাবটারই দেখার জন্য ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ নিচ্ছেন।এই ফুলের সৌন্দর্যের তৈরি পার্ককে কেন্দ্র করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এক সময় ফুল চাষ করে আয় হতে পারে সেভাবে মানুষ চিন্তা করত না। এরফলে রাজ্যের বাইরে থেকে প্রচুর পরিমাণে ফুল আমদানি করতে হতো। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় আজ ৫৯ হাজারের বেশি ফুল চাষি এই কাজে যুক্ত হয়েছে। সাথে রাজ্য ফুল চাষে স্বয়ম্ভরতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বিভিন্ন ফুল চাষিদের উদাহণ টেনে বলেন, একটা সময় খোলা মাঠে ফুল চাষ হতো ২৭৩৮ কানি জমিতে কিন্তু
বর্তমান সরকারের সাত বছরে এই চাষ ১১ হাজার ৮২০ কানিতে হচ্ছে।আগে ফুলের চাষ করতো ২১৯০জন। বর্তমানে ৫৯১০০ জনের বেশি ফুল চাষি রয়েছে। আগে উৎপাদন হত ১১৭০ মেট্রিকটন। এখন হচ্ছে চারশ মেট্রিক টন।

ফুল চাষ রাজ্যে কি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তার উদাহরণ দিতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগে রাজ্যের ফুলের চারশ পঁয়ত্রিশ শতাংশ। এখন তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ঊনআশি শতাংশ। মাত্র ২১ শতাংশ ফুল বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। আগামী দিনে তাও পূরণ হবে বলে আশা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, লেম্বুছড়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সেন্টার অফ এক্সিলেন্স তৈরি হচ্ছে। যেখানে বিভিন্ন ফুলের চাষ প্রশিক্ষণ নিতে রাজ্যের বাইরে থেকে আসবে। রাজ্যের কৃষিতে যে উন্নতি হচ্ছে তার কথায় মন্ত্রী বলেন, আগামীদিনে বাসমতি ধান চাষি কাঞ্চনপুরের লক্ষণ রিয়াং সহ জার্মান যাচ্ছেন।