গ্র্যান্ট ইন খাতে ১২ বছরে ত্রিপুরা পেলো ৬৬ হাজার কোটি!!
অনলাইন প্রতিনিধি :- ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমানে (বিই) ত্রিপুরার জন্য কর হস্তান্তর বাবদ ১০,০৭০.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই সাথে গ্র্যান্ট ইন এইড খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ত্রিপুরার জন্য ১০,৭৪৯ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের কথা (বাজেট অনুমান) উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে ত্রিপুরাকে কর হস্তান্তর বাবদ মোট ৬৬,০৫১ কোটি টাকা এবং গ্র্যান্ট ইন এইড খাতে মোট ৬১,৯৬৪ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।একই সাথে মূলধনী বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে রাজ্যগুলোকে বিশেষ সহায়তার অধীনে ত্রিপুরার জন্য ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ জানুয়ারী মাস পর্যন্ত মোট ৪,৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২১ সালে দেওয়া হয়েছে ৩০০ কোটি, ২০২১-২২ সালে দেওয়া হয়েছে ৬৬৩ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ সালে দেওয়া হয়েছে ১,৫৮৭ কোটি টাকা এবং ২০২৫-২৬ সালে জানুয়ারী মাস পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ১,৪৭২ কোটি টাকা।কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে মূলধনী ব্যয়ের জন্য এই বিশেষ সহায়তা প্রদান করে থাকে। এই প্রকল্পের অধীনে, রাজ্য সরকারগুলোকে ৫০ বছর মেয়াদী সুদবিহীন ঋণের আকারে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা হয়, যার সুদের ব্যয় সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র বহন করে থাকে। এটি হল অর্থ কমিশনের সুপারিশের অতিরিক্ত সহায়তা।২০১৬ সালে ত্রিপুরা প্রথমবারের মতো ব্রড গেজ রেলের মানচিত্রে স্থান পায়।তবে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ত্রিপুরা ১৩টি এক্সপ্রেস ট্রেন সহ মোট ১৯টি ট্রেনের মাধ্যমে আরও ভালোভাবে সংযুক্ত হয়েছে। আগরতলা – আখাউড়া রেল প্রকল্পটি হল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম কোনো রেল প্রকল্প, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন। বর্তমানে অমৃত ভারত প্রকল্পের অধীনে ৪টি রেলওয়ে স্টেশন তথা আগরতলা, ধর্মনগর, কুমারঘাট এবং উদয়পুর স্টেশনের পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য রেকর্ড পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে।এই অঞ্চলের জন্য বার্ষিক গড় বাজেট বরাদ্দ ২০০৯-১৪ পর্যন্ত ছিল ২,১২২ কোটি টাকা। আর ২০২৫-২৬ সালের বাজেট বরাদদ্দদ ধরা হয়েছে ১০,৪৪০ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৫ গুণ বেশি। ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১,৬০৪ কিলোমিটার রেলপথকে বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে। মেঘালয় এবং নাগাল্যান্ড রাজ্যে ১০০ শতাংশ রেলপথকে বিদ্যুতায়িত করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ৪৭৮টি রেল ফ্লাইওভার ও আন্ডার-ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে আসাম সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোট ১,৮২৪ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে, যা শ্রীলঙ্কার সমগ্র রেল নেটওয়ার্কের চেয়ে বেশি। এই অঞ্চলের চলমান প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নতুন রেলপথ ১৮টি, যার মোট দৈর্ঘ্য ১,৩৬৮ কিলোমিটার। এর জন্য ব্যয় হবে মোট ৭৪,৯৭২ কোটি টাকা। সেই সাথে ২,০৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০টি অমৃত স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।আরসিএস উড়ান প্রকল্পে আগরতলা থেকে ৩টি নতুন বিমানপথ চালু করা হয়েছে। সেই সাথে আগরতলা বিমানবন্দরকে কৃষি উড়ান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছে এই রাজ্যের কৃষকদের কৃষি পণ্য পরিবহণে সহায়তা করার জন্য। ইতোপূর্বে ২০২২ সালের জানুয়ারীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) বিমানবন্দরের নতুন সমন্বিত টার্মিনাল ভবন উদ্বোধন করেছিলেন।৩০.০৬.২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ত্রিপুরায় ৮৮৯ কিলোমিটারের বেশি জাতীয় সড়ক নির্মিত হয়েছে।গত ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ গ্রাম, বাজার, স্কুল এবং হাসপাতালে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যতনবাড়ি মন্দিরঘাট -তীর্থমুখ সড়কটির উদ্বোধন করা হয়। একই দিনে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ গণ্ডাছড়া – রইস্যাবাড়ি – নারিকেল কুঞ্জ সড়কটিরও উদ্বোধন করা হয়, যা জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে জেলা সদরের সাথে সংযুক্ত করেছে।ভারতমালা পরিযোজনা ত্রিপুরায় ৯৪ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক করিডরের উন্নয়নের জন্য আনুমানিক মোট ১,৪৭০ কোটি টাকা মূলধর ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে। ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ত্রিপুরায় খোয়াই-হরিণা সড়কের ১৩৫ কিলোমিটার অংশের উন্নতি কল্পে ও প্রশস্ত করার জন্য অনুমোদন দিয়েছে, যার জন্য ২,৪৮৬ কোটি টাকারও বেশি খরচ হবে। এর জন্য জাইকা থেকে ১,৫১১ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।