শুক্রবার | ০৮ মে ২০২৬

উৎপাদন ক্ষেত্র নির্ভরতা

 উৎপাদন ক্ষেত্র নির্ভরতা

পরপর রপর নবম বর্ষে সংসদে দাঁড়িয়ে পরবর্তী বছরের আর্থিক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।২৯ জানুয়ারী যে আর্থিক সমীক্ষা প্রকাশ করেছিলেন সেই মতোই ২০২৬ অর্থবর্ষে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৭ এর মাঝামাঝি তা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছুবে বলে জানালেন তার বাজেট ভাষণে। বেসরকারী বিনিয়োগ এবং দেশের আর্থিক ভিত্তিতে বড়সড় সংস্কারের আগাম আভাস দিলেন এই দিন।দেশ আজ অর্থনৈতিক এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই কেন্দ্রীয় বাজেট দেশকে পরবর্তী আর্থিক রূপান্তরের মুখে দাঁড় করাতে চায়। এই রূপান্তর হলো বিকশিত ভারতের থিম। বাজেট পেশের পর বিভিন্ন সংস্থা বাজেটের পর্যালোচনা শুরু করেছে। তাদের মতে বাজেটে যে সব রূপরেখা দেওয়া হয়েছে যে সমস্ত বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে তা প্রবৃদ্ধির গতিকে তেজি করবে। ভারতীয় অর্থনীতিকে এক স্থিতিশীল জায়গায় পৌঁছে দিতে ব্যবসা বাণিজ্যকে আগামীর জন্য তৈরি করা হবে। এই ক্ষেত্রে এআই নির্ভরতার পাশাপাশি মেধা, পরিকাঠামো, প্রশাসন ও বিশ্বাস এই বিষয়গুলিতে আলোকপাত করা হয়েছে।সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের সংস্কারের কথা বলে কেন্দ্রীয় বাজেট দেশের অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে আনার চেষ্টায় নতুন কিছু পথ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে। এছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছেন বাজেট পর্যালোচনাকারীরা। প্রসঙ্গত, আর্থিক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল না বরং শক্তিশালী ভিত্তি এবং বিভিন্ন বিকাশমান প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।গ্রামীণ অর্থনীতিকে সশক্ত করতে স্বদেশি একটি বড় রণকৌশল হয়ে সামনে আসছে। তবে নির্মাণ ক্ষেত্র ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে বড় জায়গা নিয়েছে। 
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তার বাজেট ভাষণে এই দিন টানা নয় মিনিট সময় দিয়েছেন নির্মাণ ক্ষেত্রের বিষয়ে।বাজেটে স্পষ্ট আভাস রয়েছে বিদেশি কোম্পানির জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং বহুজাতিক সংস্থার জন্য নিয়মকানুন সংস্কারের আভাসও আছে। পাশাপাশি স্বদেশি অর্থাৎ স্থানীয় উৎপাদকদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে জাতীয় অর্থনৈতিক যে রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে তাতে মূলত ছয়টি ক্ষেত্রকে সুস্পষ্টভাবে সামনে আনা হয়েছে এবং বিস্তৃত আলোকপাত করা হয়েছে।এই ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে গুচ্ছ কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে এমএসএমইকে কার্যকর ভূমিকায় আনা। অর্থাৎ যারা মাঝারি মাপের শিল্পের জন্য কাজ করে তাদের আরও গতিশীল ও ক্ষমতাশালী করা, পরিকাঠামো নির্মাণে আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়া, দীর্ঘকালীন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করা, সিটি ইকোনোমিক রিজিওন গঠন করা ইত্যাদি।যে ছয়টি ক্ষেত্রকে চোখের মণি করে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে বায়োফার্মা। বায়োফার্মা শক্তি ইনিশিয়েটিভ-এর মাধ্যমে ভারতে বিশ্বসেরা বায়োফার্মা হাব করার কথা বলা হয়েছে। এর জন্য বাজেটে ১০০ বিলিয়ন টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে আগামী পাঁচ বছরের জন্য। ১০০০ এক্রিডিয়েটেড ক্লিনিক্যাল ট্রায়েল সাইট থাকবে এই হাবে। এর পরেই রয়েছে সেমি কন্ডাক্টর। দেশে সেমি কন্ডাক্টর মিশন ২ পয়েন্ট ০ এর উদ্দেশ্য হলো ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ম্যানুফেকচারিং স্কিম গঠন করা। বাজেটে এর বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪০০ বিলিয়ন টাকা করা হয়েছে।বাজেটে রেয়ার আর্থ খনিজ নিয়ে একটি অতি প্রত্যাশা এবং স্থায়ী সমাধানের ভাবনা ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।খনিজ সমৃদ্ধ বিভিন্ন রাজ্য ওড়িশা,কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাডুতে খনিক উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা এবং নির্মাণের জন্য ডেডিকেটেড করিডর স্থাপন করা হবে।চতুর্থত, ক্যামিক্যাল পার্ক। বিভিন্ন রাজ্যগুলিকে তিন ধরনের কেমিক্যাল পার্ক গঠনে সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। এর উদ্দেশ্য হলো দেশিয় প্রয়োজন মেটাতে অন্য দেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানি কমিয়ে দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা। দেশে কন্টেইনার তৈরির পরিমাণ বৃদ্ধিতে ১০০ বিলিয়ন টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বয়ন শিল্পের উন্নয়নে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন স্কিমে সরকারী সহায়তার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। খাদি, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্পজাত সামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধিতে মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ নামে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *