জোট নিয়ে জল্পনা, বৈঠক করলেন মহম্মদ সেলিম–হুমায়ুন কবীর
বুধবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেলিম ও কবীরের মধ্যে এই বৈঠক হয়।
অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতা ও জোট গঠন নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হল। সিপিআই(এম)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সম্প্রতি নবগঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক ঘিরেই দুই দলের সম্ভাব্য জোট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুধবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেলিম ও কবীরের মধ্যে এই বৈঠক হয়। হুমায়ুন কবীর প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক এবং সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।
বৈঠকের পর মহম্মদ সেলিম জানান, আসন সমঝোতার কোনও প্রস্তাব এলে তা প্রথমে সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টের মধ্যে আলোচনা করা হবে। এরপর ফ্রন্টের বাইরে থাকা বামপন্থী দলগুলির সঙ্গে এবং পরে আইএসএফ-এর সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বৈঠকে কোনও জোট চূড়ান্ত হয়নি।
“আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম, উনি কী করতে চান এবং তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কী,” বলেন সেলিম।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করে লড়লেও কোনও আসন জিততে পারেনি। সেই নির্বাচনে বিজেপি ছাড়াও একমাত্র বিরোধী বিধায়ক ছিলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও স্বীকার করেন যে সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোট গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য তিনি সেলিমকে অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি আইএসএফ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলার কথাও তিনি তুলেছেন। কবীর আরও বলেন, প্রয়োজনে তাঁর দল AIMIM-এর সঙ্গেও জোট নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
“আমাদের লক্ষ্য দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনকে হারিয়ে রাজ্যবাসীকে স্বচ্ছ সরকার দেওয়া,” দাবি কবীরের।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, সিপিআই(এম) এবং নবগঠিত এই দলের কোনও জনভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, “সিপিআই(এম) রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করার পর এখন তারা জোটের জন্য ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরছে।”