January 19, 2026

সময় বদলায়, মানুষও বদলায় তবু,ভালোভাবেই টিকে রয়েছে মোমশিল্প!!

 সময় বদলায়, মানুষও বদলায় তবু,ভালোভাবেই টিকে রয়েছে মোমশিল্প!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-মানুষ আঁধার সহ্য করতে পারে না।সে চায় আলোর পরশ। তাই মোমবাতি শিল্প এখনও টিকে আছে খোয়াই জেলার কল্যাণপুরে। একাংশে বদলে দিচ্ছে গ্রামীণ জীবনের আর্থ-সামাজিক চিত্র। পূর্ব কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তোতাবাড়ি এলাকার শিক্ষিত যুবক কাজল দাস নিজের শ্রম, সাহস ও দৃঢ় সংকল্পের জোরে গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রমী আত্মনির্ভরতার গল্প, যা আজ এলাকার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সরকারী চাকরির অনিশ্চয়তা কাজলের জীবনেও একসময় হতাশার ছায়া ফেলেছিল। দীর্ঘদিন চাকরির আশায় ঘুরেও সাফল্য না পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েননি বা হতাশ হননি। বরং সেই হতাশাকেই শক্তিতে পরিণত করে প্রায় এক দশক আগে সামান্য পুঁজি ও সীমিত পরিসরে শুরু করেন মোমবাতি তৈরির ক্ষুদ্র উদ্যোগ। ধীরে ধীরে পরিশ্রম, ধৈর্য ও পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই উদ্যোগ আজ পরিচিত হয়েছে দাস এন্টারপ্রাইজ-এর লোটাস ব্র্যান্ড হিসাবে। বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমায় এই ব্র্যান্ডের মোমবাতির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। মোমবাতি দৈনন্দিন জীবনে যেমন জরুরি আলোর উৎস, তেমনি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, সামাজিক উৎসব, জন্মদিন, শৈল্পিক সাজসজ্জা এবং আধুনিক রেস্তোরাঁ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অনুসঙ্গ।কম খরচে বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এই বাহারী মোমের আজ দারুণ চাহিদা।দীপাবলির মরশুমে কাজলবাবুর কারখানায় দেখা যায় ব্যস্ততার ভিন্ন ছবি। দিনরাত এক করে চলে উৎপাদনের কাজ, যাতে সময়মতো বাজারের চাহিদা পূরণ করা যায়।এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বর্তমানে প্রায় কুড়ি থেকে ত্রিশটি পরিবারের মহিলারা এখানে শ্রমিক হিসাবে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন রং এবং সাইজের মোম গড়ার সঙ্গে সঙ্গে এইসব কারিগরদের জীবনে গড়ে উঠছে আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি। সংস্থার কর্ণধার কাজল দাস স্পষ্টভাবে জানান, এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও সরকারী সহায়তা পাননি। তবে এটা তার গর্ব যে সরকারী সহায়তা বিনা তার প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগ ও পরিশ্রমের ফসল আজ। তার কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য নিজে কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি এলাকার বহু পরিবারকে নিয়মিত রোজগারের সুযোগ করে দিতে পারা। বর্তমানে ইলেকট্রনিক আলো ও আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থার দাপট থাকলেও কাজলবাবু বিশ্বাস করেন, মোমবাতির প্রয়োজন শেষ হবে না। কারণ লোডশেডিং তো আর বলে কয়ে আসে না। এমনিতেই কল্যাণপুরের বিদ্যুৎ পরিষেবা জরাজীর্ণ। ভবিষ্যতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কাজল জানান, সরকার ও প্রশাসনের উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে এই ক্ষুদ্র শিল্পকে বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। পাশাপাশি আরও বেশি বেকার যুবক ও গ্রামীণ মহিলাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে একটি সামাজিক বার্তাও দিতে চান। কীভাবে ইচ্ছে শক্তি থাকলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় এবং কর্মসংস্থানও করা যায়। দায়বদ্ধতাই যেন আজ তার মূল লক্ষ্য। কাজল দাসের এই উদ্যোগ আজ নি:শব্দে এক দৃঢ় বার্তা বহন করছে গ্রাম থেকেই শুরু হতে পারে এক অদম্য বিপ্লব। যেখানে আছে শুধু ইচ্ছে শক্তি এবং কঠোর শ্রমের ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *