January 17, 2026

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সংস্কারে গতিঃ রতন,ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা বাড়িয়ে-নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার উদ্যোগ!!

 বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সংস্কারে গতিঃ রতন,ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা বাড়িয়ে-নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার উদ্যোগ!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আর ও মজবুত, আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন করতে বড়সড় সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (টিএসইসিএল)। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়নই এখন নিগমের মূল লক্ষ্য। তারই অঙ্গ হিসেবে প্রথমধাপে আগরতলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সাব স্টেশনে ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু জানিয়েছেন, গত তিন বছর ধরে আগরতলা শহরে প্রতি বছর গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধি পাচ্ছে।এই বাড়তি চাপের ফলে একাধিক এলাকায় ভোল্টেজ সমস্যা, ট্রান্সফরমার দ্রুত বিকল হয়ে যাওয়া এং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতেই সাব স্টেশন স্তরে ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নিগম সূত্রে জানা গেছে, প্রগতি বিদ্যুৎ সাব স্টেশনে বর্তমানে ৭.৫ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ট্রান্সফরমার, অর্থাৎ মোট ১৫ এমভিএ ক্ষমতা রয়েছে। এবার সেখানে ১৬ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হবে। ফলে এই সাব স্টেশনের মোট ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৩২ এমভিএ। একইভাবে এনএসআরসিসি সাব স্টেশনে বর্তমানে থাকা ৮ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের পরিবর্তে ১৬ এমভিএ ক্ষমতার একটি নতুন ট্রান্সফরমার বসানো হবে। বাধারঘাট স্টেডিয়াম সাব স্টেশনেও বড় পরিবর্তন আসছে। এখানে বর্তমানে ৭.৫ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে ১৬ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রান্সফরমার বসানো হবে।আগের ৭.৫ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রান্সফরমার যথারীতি কাজ করবে। সবমিলিয়ে এই সাব স্টেশনে বর্তমানে ১৫ এমভিএ এর জায়গায় মোট ২৩.৫ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার কাজ শুরু করবে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে আগরতলা শহরে প্রতিনিয়ত যে লোড বাড়ছে এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে ভোল্টেজকেও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত করা সম্ভব হবে।বিদ্যুৎ নিগম জানিয়েছে, এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুধু আগরতলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ধাপে ধাপে অন্যান্য জেলা ও মহকুমা শহরগুলিতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাব ডিভিশন স্তরেও অবকাঠামোগত সংস্কার করে পরিষেবাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা প্রদান করা। সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিগমের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলে গ্রাহকরা চার শতাংশ ছাড়ের সুবিধা পাবেন, যা সকলেরই গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মন্ত্রী। তিনি নাগরিকদের অনুরোধ করেন, কোথাও বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা চোখে পড়লে তা নিগমকে জানাতে। মন্ত্রীর কথায়, সময়মতো বিল পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ চুরি রোধ করা গেলে রাজ্যে আরও উন্নত, নিরবচ্ছিন্ন ও গুণগত বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *