January 16, 2026

ওষুধে জিএসটি কমলেও সুবিধা পাচ্ছে না প্রান্তিক দরিদ্র মানুষেরা!!

 ওষুধে জিএসটি কমলেও সুবিধা পাচ্ছে না প্রান্তিক দরিদ্র মানুষেরা!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-কেন্দ্রীয় সরকার ওষুধের উপর জিএসটি ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করলেও রাজ্যের সাধারণ মানুষ তার কোনও সুবিধা পাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ ওষুধ বিক্রেতা জিএসটি কমার সুবিধা ক্রেতাদের দিচ্ছে না। বরং ২২ সেপ্টেম্বর আগে নির্মিত ওষুধের ক্ষেত্রে যে ৭ শতাংশ ছাড় দেওয়া বাধ্যতামূলক, তা না দিয়ে সেই অর্থ নিজেদের মুনাফায় যোগ করছেন বিক্রেতারা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে এই অভিযোগ সামনে এসেছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্র সরকার একাধিক পণ্যের উপর জিএসটি হার কমায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ওষুধের ৫ শতাংশ জিএসটি কার্যকর হয়। কিন্তু তার আগে উৎপাদিত ও বাজারে থাকা ওষুধের গায়ে ১২ শতাংশ জিএসটি হিসাব করেই এমআরপি ছাপা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এই পুরনো ওষুধ বিক্রির সময় বিক্রেতাদের ত্রেতাকে ৭ শতাংশ জিএসটি ছাড় দিতে হয়, কারণ সরকার এখন বিক্রির সময় নিচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ। অথচ বাস্তবে অধিকাংশ জায়গায় সেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না

এর ফলে বিক্রেতারা দ্বৈত সুবিধা নিচ্ছেন। একদিকে তারা ক্রেতার কাছ থেকে আগের মতোই সম্পূর্ণ এমআরপি আদায় করছেন, অন্যদিকে সরকারকে কম জিএসটি জমা দিচ্ছেন। ফলে মাঝের ৭ শতাংশ সরাসরি বিক্রেতার অতিরিক্ত মুনাফায় পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার যেখানে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে করছাড় দিয়েছে, সেখানে সেই ছাড় কার্যত গিলে খাচ্ছেন একাংশের ওষুধ বিক্রেতারা।
একটি উদাহরণে বিষটি পরিষ্কার। ধরা যাক ২২ সেপ্টেম্বর আগে নির্মিত একটি ওষুধের মূল দাম ১০০ টাকা, তার উপরে ১২ শতাংশ জিএসটি যোগ হয়ে রিটেলারের ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১২ টাকা এবং এমআরপি ছাপা হয়েছে ১৫০ টাকা। ২২ সেপ্টেম্বরের আগে এই ওষুধ বিক্রি হলে বিক্রেতা সরকারকে ১৬.০৭ টাকা জিএসটি দিতেন এবং ১২ টাকা ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট পেয়ে নিজের পকেট থেকে ৪.০৭ টাকা জমা করতেন। কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বরের পর নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে দিতে হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭.১৪ টাকা। ফলে এই ওষুধ বিক্রির সময় ক্রেতাকে ৭ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে বিক্রেতারা সেই পুরো টাকা নিজেদের লাভ হিসেবে রেখে দিচ্ছেন। উপরন্তু আগের ৪.০৭ টাকা নিজের পকেট থেকে আর দিতে হচ্ছে না, ফলে প্রতি ওষুধে বিক্রেতার অতিরিক্ত মুনাফা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, বহু জায়গায় ক্রেতারা রিসিট পাচ্ছে না। জিএসটি ব্রেকআপ দেখানো হচ্ছেন না। এবং প্রশ্ন তুললে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে অসুস্থ, বয়স্ক ও দরিদ্র মানুষ বুঝতেই পারছেন না যে তারা ঠকছেন। উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর পরে তৈরি ওষুধের গায়ে ৫% জিএসটি যুক্ত করেই মূল্য মুদ্রিত থাকছে।

ওষুধ মানুষের বিলাস নয়, বাঁচার প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনকে পুঁজি করে যদি এভাবে অতিরিক্ত মুনাফা তোলা হয় তা শুধু অনৈতিক নয়। অবশ্যই প্রতারণার শামিল।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল ও জিএসটি দপ্তরের নজরদারি কোথায়? কেন এই অনিয়ম রোখার জন্য অভিযান হচ্ছে না এবং কেন সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে না। সরকার যেখানে করছাড় দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছে, সেখানেই সেই ছাড় যদি বাজারে না পৌছায় তবে সরকারের আসল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। এমন সমালোচনা এখন ঘুরছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *