অনলাইন প্রতিনিধি :-শীত এলেই মনে পড়ে তাদের কথা।উঠে আসে সোনামুড়ার নাম।যেখানে খেজুর গাছের রস থেকে তরল গুড় সুস্বাদু লালি আর নলেন গুড় তৈরি হয়। এই প্রান্তের মানুষের সুপ্রাচীন সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, ঐতিহ্য আর পরম্পরার সাথে সম্পৃক্ত! এই সামগ্রী কিন্তু এই ঐতিহ্য পরম্পরা আর কদিন ধরে রাখতে পারবে সোনামুড়া! দিনবদলের জাঁতাকলে গত কয়েক বছর ধরে তীব্র হচ্ছে এই সংশয়। নব প্রজন্ম এই কাজে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে আশঙ্কার মেঘ যেন কিছুটা হলেও এখন কাটতে শুরু করেছে। সারা বছর অন্য কাজের সাথে যুক্ত থেকেও মরশুমি এই কাজ থেকে ভালো উপার্জন হয় বলে মানসিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।শীত এলেই গাছি পরিবারগুলির বাড়িঘরে লাকড়ির উনুনে জ্বাল দেওয়া খেজুর রসের এই গন্ধ। একসময় এই চিত্র প্রায় প্রতিটি গ্রামে দেখা যেতো।পরিধি এখন অনেকটাই করলেও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বারো মাসের তেরো পার্বণের পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠের সঙ্গে লালি আর নলেন গুড়ের সম্পর্ক চলে আসছে প্রাচীনকাল থেকে। স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে সোনামুড়ার লালি ও নলেন গুড়ের চাহিদা। বিক্রি বাড়ায় লাভবান হচ্ছে গাছি পরিবারগুলি। প্রবীণ গাছি আবুল কালাম জানান সারা বছর অন্য কাজ করেও লালি ও নলেন গুড় তৈরি করে তার বাড়তি রোজগার হয় দুই থেকে চার লক্ষ টাকা। লাভ ভালো হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেক ছেলেরা আসছে এই কাজে।
তার উৎপাদিত লালি ও গুড় শুধু সোনামুড়া বা রাজ্য নয়, বহিঃরাজ্যেরও বহু মানুষ প্রতিবছর তার বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। এ বছর তার ছেলে রব্বি হোসেনও যুক্ত হয়েছে এই কাজে। এখন থেকে বাবার সঙ্গে - এ কাজটা সেও করবে বলে জানিয়েছে।কারণ বাবার বয়স বাড়ছে। কর্মসংস্থান আর কাজের সযোগ কমে যাওয়ায় সোনামুড়ার রাঙামাটিয়ার নীলু মিয়া, বড়দোয়ালের জাহাঙ্গীর হোসেনদের পাশাপাশি রবীন্দ্রনগরে ঝুটন দাস, পাপন সাহা, মীর ভুইঁয়া, দিদার হোসেনরা পরম্পরার মরশুমি পেশায় ফিরছেন বলে জানিয়েছেন। আগে তাদের বাবা, জেঠা বা দাদারা এ কাজ করতেন। এখন তারা হাত লাগাচ্ছেন।
আর এক প্রবীণ গাছি আবুল কালাম জানান, এ কাজ খুব একটা সহজ নয়। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের। সন্ধ্যায় খেজুর গাছে হাঁড়ি বেঁধে আসা আর সকালে নামিয়ে আনা। সারারাত নলি বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা রসে ভর্তি হয় পাত্রগুলি। বাড়ি এনে মাটির উনুনে জ্বাল দিতে দিতে তৈরি হয় সুস্বাদু লালি ও নলেন গুড়। বাড়ি আনার পর পরিবারের অন্যরাও কাজে হাত লাগান। কিন্তু বর্তমানে নগরায়নের ফলে খেজুর গাছের সাথে সাথে বনভূমি কমতে থাকায় লাকড়ি সংগ্রহের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। খেজুর গাছ লাগানোর কথাও ভাবা দরকার বলে তাদের মত।