জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও বড় উদ্যোগ,১০ স্থানে নদী থেকে আধুনিক প্রযুক্তির বিদ্যুৎ প্রকল্প: রতন!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড নদী থেকে অত্যাধুনিক হাইড্রোকাইনেটিক টার্বাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এই প্রকল্পের জন্য রাজ্যের ১০ টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ২৪ ×৭ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। শনিবার বনমালীপুরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী সুপার ইসিবিসি ভবনের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন-লাল নাথ।মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে মানুষ ও রাজ্য সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাবে। আমাদের সরকার নতুন প্রযুক্তি গ্রহণেচেষ্টা করছে। সুপার ইসিবিসি ভবনের জন্য ১২.৩৩ কোটি টাকা খরচ হবে। দেশের অন্যান্য জায়গায় আরও পাঁচটি ভবন নির্মানাধীন।তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ত্রিপুরাতেই এই সুপার ইসিবিসি বিল্ডিং নির্মিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা।
তিনি আরও জানান, ত্রিপুরায় বর্তমানে পিক আওয়ারে প্রায় ৩৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে এই চাহিদা প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট পৌঁছাবে। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২৩ ঘন্টা ৫৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে, যদিও মাঝে মঝে ট্রিপিং হয়। বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা বর্তমানে ১০.৫৭লাখ। ২০১৮ সালের আগে ৭.২১ লাখ ছিল। এটি রাজ্যের দ্রুত উন্নয়নের প্রমাণ।মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে যদি ৫ লাখ পরিবার ২ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনার আওতায়, তাহলে আমরা প্রতিদিন ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবো।এটি জনগণ ও রাজ্যকে ঠিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলবে।এর মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে, জিডিপি বাড়বে এবং ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পাবে।মন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুৎ নিগম ২০০০ টি সরকারী ভবনে সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, যার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এ পর্যন্ত ১৫,০০০ মানুষ সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপন করেছেন। যার মাধ্যমে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সৌরশক্তির কোনো সীমা নেই। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা গ্যাসের উপর নির্ভরশীল, যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা অপরিহার্য। আমরা দেখেছি ডুম্বুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, কিন্তু হাইড্রোকাইনেটিক টার্বাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদী থেকে ১৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও সহজ।এই জন্য ১০ টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলি হলো চাকমাঘাট, মহারাণী, ডুম্বুর, নতুনবাজার, কলসি, মনু, কুলাই, ফেনী, ধলাই নদী এবং অম্পি, লক্ষীপুর। আগামী মাস থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এদিন এই অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, মেয়র দীপক মজুমদার, পুর নিগমের কর্পোরেটরগন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।