জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
ত্রুটিপূর্ণ এসটিপিজিটি পরীক্ষা,প্রশ্নের মুখে টিআরবিটি!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-স্নাতকোত্তর শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষা নিয়েও কাঠগড়ায় টিআরবিটি।শিক্ষা দপ্তর টিআরবিটি কর্তৃপক্ষের দৌলতে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বেকার। বাড়ছে বয়স উত্তীর্ণ বেকার।শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শীতঘুমে রাজ্য সরকার।মূলত রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার জন্যই এসটিপিজিটি পরীক্ষা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল।৭ ডিসেম্বর টিআরবিটি আয়োজিত এসটিপিজিটি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোললেন বেকাররা। এসটিপিজিটি পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্ন ভুল ছিল। ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নিল টিআরবিটি। শুধু তাই নয়, এরপর টেন্টেটিভ আন্সার কি-তেও অসংখ্যা ভুল উত্তর প্রকাশ করা হয়।ত্রুটিপূর্ণ টেন্টেটিভ আন্সার কি-প্রকাশ্যে আসতেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরা সেই ভুল প্রশ্ন ও উত্তরের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ দাখিল করেন এবং প্রমাণসহ সংশোধনের দাবি জানান। বিস্ময়ের ঘটনা হল পরীক্ষার্থীদের সমস্ত আপত্তি উপেক্ষা করে ফাইনাল আন্সার কি-তে একই ভুল উত্তর বহাল রেখে টিআরবিটি আধিকারিকরা।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ বাংলা বিষয়ে (৮৯) নম্বর প্রশ্ন বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্তের দপ্তর-এর রচনাকাল হলো - টিআরবিটি কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত উত্তর A) ১৮৭৫ খ্রি.। যদিও সঠিক উত্তর হল 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১২৮০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র সংখ্যা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু হয়। ১২৮০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র সংখ্যা, ১২৮১ বঙ্গাব্দের আশ্বিন, কার্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ১২৮০ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১২৮০+৫৯৩=১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত গ্রন্থের রচনাকাল ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ হওয়া অসম্ভব ও অযৌক্তিক। প্রশ্নপত্রে প্রদত্ত Option B - ১৮৬৫ খ্রি. এবং C-১৮৭৭ খ্রি. একই যুক্তি অনুসারে অসম্ভব। তাই সঠিক উত্তর হবে Option D। অথচ টিআরবিটি'র সাবজেক্ট এক্সপার্টরা মতানুসারে, ১৮৭৫ সালে লেখা প্রবন্ধগুলোকে বঙ্কিমচন্দ্র টাইম মেশিনে করে দু'বছর পিছিয়ে গিয়ে প্রকাশ করেছেন।একইভাবে প্রশ্নসংখ্যা ১৪৭ ধ্বন্যালোক গ্রন্থের লেখক হলেন টিআরপিটি কর্তৃক প্রদত্ত উত্তর - B) আনন্দবর্ধন। যদিও সঠিক উত্তর-ধ্বন্যালোক গ্রন্থের মোট তিনটি অংশ, যথা- কারিকা, বৃত্তি ও টীকা। কারিকা অংশের রচয়িতা কে জানা যায় না, বৃত্তি অংশের রচয়িতা আনন্দবর্ধন এবং টীকার রচিয়তা অভিনব গুপ্ত।
২০২৫ সালের এসটিপিজি পরীক্ষার বাংলা বিষয়ের সিলেবাসের অন্তর্গত অতুলগুপ্তের 'কাব্যজিজ্ঞাসা' গ্রন্থের ভূমিকা অংশে অতুলগুপ্ত বলেছেন, ধ্বন্যালোক গ্রন্থের কারিকার রচয়িতা অজ্ঞাতনামা এক লেখক। এছাড়াও আরও অন্যান্য গ্রন্থের উক্ত মতের সমর্থন পাওয়া যায়। তাই প্রশ্নের উত্তর হবে Option-DIঅবাক করার বিষয় হল টিআরবিটি সাবজেক্ট এক্সপার্টগণ অজ্ঞাত নামা লেখককে ইতিহাস থেকেই মুছে দিয়েছেন। শুধু বাংলা নয়, প্রত্যেকটি সাবজেক্টে এ ধরনের প্রচুর ভুল ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় শুধু অবহেলাই নয়। উল্টো সাবজেক্ট এক্সপার্টদের যোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে।এসটিপিজিটি পরীক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ যারা প্রশ্নপত্র ও উত্তর যাচাই করেছেন। তাদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও একাডেমিক যোগ্যতা আদৌ পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ফাইনাল আন্সার কি নিয়ে অভিযোগ উঠলেও নীরব দর্শক শিক্ষা দপ্তর।বেকার যুবক যুবতীদের অভিযোগ বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শিক্ষা দপ্তর ও টিআরবিটিতে গেলে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা হয়। বেকারদের অফিস থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার চরম উদাহরণ। শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর গভীর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। এর পেছনে আসলে কাজ করছে ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং স্বজন পোষণ নীতি? বেকারদের দাবি অবিলম্বে সংশোধিত উত্তর প্রকাশ করতে হবে। যদি তা না হয়। তারা টিআরবিটি এবং শিক্ষা দপ্তর ঘেরাও আন্দোলনে যাবেন।
যদিও টিআরবিটি কর্তৃপক্ষের দাবি বেকাররা আদালতে যেতে পারেন। সাবজেট এক্সপার্টদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই। টিআরবিটি কর্তৃপক্ষের শিক্ষক পদে সরকারী চাকরি প্রদানের ক্ষমতা নেই। শুধু মাত্র টেট ১, টেট ২, এসটিজিটি, এসটিপিজিটি পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখে টিআরবিটি।
উল্লেখ্য প্রত্যেকটি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ঘিরেই আদালতে মামলা হচ্ছে। উচ্চ আদালত থেকে মামলা যাচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতে। এক্ষেত্রেও মহাকরণে শূন্যপদ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন, বিজ্ঞাপন প্রকাশ, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ, আদালতে মামলার নিষ্পত্তি এবং মন্ত্রীর উপস্থিতিতে অফার প্রদান ঘিরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় ৬ বছর সময় যাচ্ছে। বেকারের চাকরি জীবন থেকে ন্যূনতম ৬ বছর গায়েব হচ্ছে। বেকাররা চাকরির ফুল বেনিফিট এবং অবসরকালীন আর্থিক সুযোগ সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছেন না।এটাই রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তব হাল।