জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
রেজিস্ট্রারের পুনর্নিয়োগে ক্ষুব্ধ কেন্দ্র,নিয়োগ দুর্নীতির প্রমাণ লোপাটে গোপন বৈঠক বিশ্ববিদ্যালয়ে!
অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-নিয়োগ-আর্থিক
দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। উপাচার্য নিয়ে প্রক্রিয়া ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপালের নামে গুজব রটানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্য সরকার। যদিও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হেলদোল নেই। উল্টো রাজ্য সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কর্তৃপক্ষ। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো আগামী চার জানুয়ারী রবিবার ছুটির দিনেও এক গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে নয়া গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সংবাদপত্রে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা দুর্নীতির খবর প্রকাশের জেরে নড়েচড়ে বসেছে ভারত সরকার। শুধু তাই নয়, কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ সিনিয়র প্রফেসর এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নিয়ে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্ক করে দিয়েছে দেশের সরকার।ভারত সরকারের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে বাঁচার জন্য ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় জনৈক সিনিয়র প্রফেসর এবং একজন প্রশাসনিক আধিকারিক নয়া চক্রান্ত সরব হয়েছেন। এ লক্ষ্যেই আগামী চার জানুয়ারী রবিবার ছুটির দিন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ সিনিয়র অধ্যাপক এবং আধিকারিকরা। বিস্ময়ের ঘটনা হলো, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. মৃগাঙ্ক এস শর্মা। ছুটির দিনে সকাল সাড়ে দশটায় আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী ছুটির দিনে কোনো বৈঠক করা যায় না। শুধু তাই নয়, ইউজিসির আধিকার কোন কোন বিষয়ে বৈঠক করবেন এই বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে থাকবেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারার প্রফেসর দীপক শর্মা। কারণ ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে নিয়মিত উপাচার্য নেই। এখন প্রশাসনিক প্রধান হলেন রেজিস্ট্রারারই। এদিকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান রেজিস্টারার কার্যকাল আগামী দুই জানুয়ারী শেষ হচ্ছে। এরপর রেজিস্টারার পদও শূন্য হয়ে যাবে। তাই এই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রেজিস্ট্রারার থাকতে পারবেন না। কোন ক্ষমতাবলে এই বৈঠক ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে। এ নিয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় আইন আনুযায়ী বর্তমানে রাজ্যপালের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের বৈঠক করা যায় না। যেহেতু উপাচার্য নেই। রেজিস্ট্রারার চাইলে বৈঠক করতে পারেন। এক্ষেত্রে ভারত সরকারের অনুমতি নিতে হবে। তবে কোন ক্ষমতাবলে এই বৈঠক হচ্ছে? শুধু তাই নয়, এই বৈঠকের জন্য আর্থিক অনুদানে কারা অনুমতি দিলেন। এই বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। যদিও বৈঠক ঘিরে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বলা হয়েছে বৈঠক হবে উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনে। অথচ বাস্তব হলো বৈঠক হবে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে।
অভিযোগ, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গোষ্ঠী নিয়োগ আর্থিক কেলেঙ্কারিকে ধামাচাপা দিতে এ বৈঠকের আয়োজন করেছেন। যাতে ভারত সরকারের কাছে সুষ্ঠু রিপোর্ট পাঠানো যায়। কোটি কোটি টাকার আর্থিক ঘোটালা থেকে মুক্তি পাবার জন্য এই বৈঠক হচ্ছে বলে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর।যদিও শেষরক্ষা হয়নি। এই বৈঠকের রিপোর্ট রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপাল ভবনে আজ সন্ধ্যায় পৌঁছে গিয়েছে। জানা গিয়েছে উপাচার্য পদে ইন্টারভিউতে তিনজন সিনিয়র অধ্যাপক বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নাম সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল এর প্রার্থী বলে তারা নিজেদের প্রচার করছেন। অথচ এই তিন সিনিয়র প্রফেসর আদতে সিপিএমের লেভি দেওয়া প্রতিনিধি।
এদিকে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারার দীপক শর্মার কার্যকাল আগামী চার জানুয়ারী শেষ হচ্ছে। যেহেতু দুই জানুয়ারী শুক্রবার সপ্তাহের শেষ দিন। তাই রেজিস্ট্রারের কার্যকাল দুই জানুয়ারী সমাপ্ত হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিল এগজিকিউটিভ কাউন্সিল বৈঠকের মাধ্যমেই রেজিস্ট্রারার পুনর্নিয়োগের জন্য।যদিও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রারের কার্যকাল বৃদ্ধির জন্যে এগজিকিউটিভ কাউন্সিল বৈঠক করেনি। রেজিস্ট্রারার-পুনর্নিয়োগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রকের অনুমতির প্রয়োজন নেই। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ৬ এর (১) (২) (৩) অনুযায়ী এগজিকিউটিভ কাউন্সিল বৈঠকের মাধ্যমেই রেজিস্ট্রারার পুনর্নিয়োগ দেওয়া যায়। এটাই ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন।
জানা গিয়েছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে এগজিকিউটিভকাউন্সিলের বৈঠক করলেন না।যাতে রেজিস্টারার চার জানুয়ারী বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন। রেজিস্ট্রারার বৈঠকে উপস্থিত থাকলে তাদের বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে রেজিস্ট্রারার যদি দুই জানুয়ারী রাজ্য থেকে চলে যান। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচল অবস্থা তৈরি হবে। বিপাকে পড়বেন রাজ্যের হাজারো ছাত্রছাত্রী সহ শিক্ষক কর্মীরা। জানা গিয়েছে, রেজিস্ট্রারের পুনর্নিয়োগ সিদ্ধান্ত ঘিরে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন কেন্দ্রীয়-রাজ্য সরকার এবং লোক ভবন। কোটি টাকার নিয়োগ-আর্থিক দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে ইউজিসির আধিকারিকের সাথে রবিবার ছুটির দিন গোপন বৈঠক হবে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে বলে অভিযোগ উঠেছে।