জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
অবক্ষয়ের আরও এক নৃশংসতা সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধা মাকে খুন করেছে মেয়ে ও জামাতা, গ্রেপ্তার!!
অনলাইন প্রতিনিধি:- সামাজিক অবক্ষয়ের আরও এক নৃশংসতা সামনে এলো। সম্পত্তির লোভে নিজের জন্মদায়িনী বৃদ্ধা মাকেই খুন করে ফেললো মেয়ে। আর এই নৃশংসতায় তাকে যোগ্য সহযোগিতা করেছে স্বামী। দু'জনে মিলেই বৃদ্ধাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, এই হত্যাকাণ্ডের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে, বৃদ্ধা মায়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেন, কান ছিঁড়ে কানের দুল, হাতের চুড়ি ইত্যাদি নিয়ে গেছে মেয়ে ও জামাতা। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে রবিবার শহরের পশ্চিম ভুবনবন এলাকায়। পুলিশ পারিপার্শ্বিক তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত করে সন্দেহজনকভাবে বৃদ্ধার জামাতা বিষ্ণু দেবকে সোমবারই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপরই বেরিয়ে আসে খুনের আসল রহস্য। সম্পত্তির লোভেই খুন হয়েছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধা। এই ঘটনায় তার মেয়ে এবং জামাতাকে গ্রেপ্তার করল
পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে নিহত বৃদ্ধার স্বর্ণের চেন, হাতের বালা উদ্ধার ও করা হয়েছে। এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কিনা মৃতার মেয়ে ও জামাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। ধৃতরা হল বুল্টি দে এবং তার স্বামী বিষ্ণু দে।গত ২১ ডিসেম্বর পশ্চিম ভুবনবনের সারদা পল্লীতে বৃদ্ধা সুলেখা দে (৭০)-কে হত্যা করা হয়েছিল। তার রক্তাক্ত দেহটি খালি ঘরে উদ্ধার হয়েছিল। মেয়ে বুল্টি ও জামাতা বিষ্ণুকে নিয়ে একই বাড়িতে থাকতেন সুলেখা। এসডিপিও দেবপ্রসাদ রায় জানান, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য সুলেখাকে খুন করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। অভাবের সংসারে সুলেখার টাকার উপর নজর ছিল তার মেয়ে ও জামাতার। কয়েকদিন আগেই সুলেখার আড়াই লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট ম্যাচিউর হয়েছে। যার নমিনি বুল্টি ছিলেন না। এটা নিয়েই ঝামেলা আরও বাড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে বুল্টি ও তার স্বামী বিষ্ণু স্বীকার করে নেয় তারা বৃদ্ধা মা-কে মারধর করেছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় তারাই তাকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যান। যাওয়ার আগেই সুলেখার গলা থেকে স্বর্ণের চেন খুলে এক আত্মীয় বাড়িতে রেখে দিয়েছিলেন। পুলিশ এই চেনটি উদ্ধার করেছে। এদিকে, নিহত সুলেখার মেয়ে বুল্টি প্রথমে দাবি করেছিলেন, ঘরের মধ্যে তিনি প্রথমে মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি ফোন করে দুই মাসি, মেসো ও অন্যদের জানান। খবর পেয়ে ছুটে যায় রামনগর ফাঁড়ির পুলিশও। মৃতদেহের কানের দুল ছিঁড়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ।বুল্টি দাবি করেছেন, ঘরে তার মা একা ছিলেন। এমন সময় কেউ হয়তবা এসে তার মায়ের গলা থেকে স্বর্ণের চেন এবং কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। মায়ের মাথার পেছনে রক্ত জমাট ছিল। এটা খুন বলেই তিনি দাবি করেন। পুলিশ এই ঘটনায় বুল্টির স্বামী বিষ্ণুকে আটক করে। যদিও বিষ্ণু গল্প বানিয়েছিল ঘটনার সময় বাড়ি ছিল না বলে। ঘটনার সময় ঊষাবাজারে এক বাড়িতে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণের কাজ করছিল। ছিনতাইবাজ বা চোর ঘরে খুন করে পালিয়েছে দাবি করে আসছিল অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু টানা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেয় অভিযুক্তরা। এদিন সাংবাদিকদের সামনে পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি জানান, অভিযুক্ত বুল্টি ও তার স্বামী বিষ্ণুকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হবে।