প্রতিশ্রুতির খেলাপ, হতাশায় যুব সমাজ,বাড়ছে বেকারের সংখ্যা, অধরা নিয়োগ!!
নিত্য ট্রাফিক জ্যামে দিশাহারা স্মার্ট সিটি!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- স্মার্ট সিটির আগরতলায় ট্রাফিক জ্যামে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ যেন ঠুটো জগন্নাথ। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় অফিস টাইমেই হোক বা অফিস টাইম ছাড়াই হোক, সব সময়ই এখন ব্যাপক ট্রাফিক জ্যাম লেগেই রয়েছে। যানবাহন নিয়ে বা যানবাহন চড়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ কোন রাস্তা দিয়ে এখন যাতায়াত করতে গিয়ে রাস্তায় অনেক সময় ধরে আটকে থাকতে হচ্ছে। এমনও হচ্ছে এক ঘন্টা দুই ঘন্টা ধরেও রাস্তায় আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে করে রাস্তায় চরম ট্রাফিক জ্যামের কারণে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্কুল, কলেজ, অফিস-কাছারির যাত্রীরা রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ে বা অতি ধীরগতিতে ট্রাফিক জ্যামে যানবাহন এগিয়ে যাওয়ায় সময়মত গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারছেন না। তাতে শুধু বিপাকেই নয়, অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ছেন। মুমূর্ষু রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ছে। মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে দ্রুত নিতে অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ায় আবার কোন সময় রাস্তায় জ্যামের জন্য খুব ধীরেগতিতে থেমে থেমে এগিয়ে যাওয়ায় সময় বেশি লাগায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর মুমূর্ষু ও সঙ্কটাপন্ন রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যামে রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর রোগী আটকে পাড়ায় হাসপাতালে পৌঁছতে বিলম্ব হওয়ায়, রোগী আরও সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ায় রোগীর আত্মীয়রা প্রচণ্ড উদ্বেগের মধ্যে পড়ছেন। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জ্যামের কারণে অগ্নিনির্বাপক দপ্তরের গাড়িও কোন দুর্ঘটনায় ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছুটে যেতে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ছে।শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের চাপ কেবল বাড়লেও রাস্তার জ্যাম মুক্ত করতে রাজ্য সরকার ও তার প্রশাসন,ট্রাফিক বিভাগ কারোর কোন বাস্তবসম্মত প্রয়াস নেই বলে রাস্তা নিত্য ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়া ক্ষুব্দ মানুষের অভিযোগ। রাস্তা ট্রাফিক জ্যামমুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তব বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনা না থাকায় দিন দিন স্মার্ট সিটির রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে মানুষকে প্রচণ্ড নাজেহাল হতে হচ্ছে। শহরের অনেক রাস্তা ঘেঁষে ও রাস্তা দখল করে সরকারী জায়গায় অবৈধ উপায়ে দোকানপাট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সেই দিকে আগরতলা পুর নিগম ও প্রশাসনের উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ। ফুটপাথ দখল করে হকার স্টল নিয়ে বসে রয়েছে। তাতেও, বহু রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যানবাহন সংকুচিত সেই সব রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ছে বা কখনও গতি মন্থর হয়ে পড়ছে। রাস্তায় যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখছে। পার্কিং প্লেস তৈরি করে দিতে পারেনি। শহরের যাত্রী পরিবহণে টাউন বাস সার্ভিস প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে যাত্রী পরিবহণে বিকল্প ব্যবস্থায় ছোট ছোট যান তথা টমটম অটো শহরের রাস্তায় ব্যাপক সংখ্যায় যাতায়াত করায়ও ট্রাফিক জ্যাম লেগে রয়েছে। শহরের রাস্তাগুলিতে ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করার কাজে এখন আর আগের মতো ট্রাফিক পুলিশও সেই সংখ্যায় রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে না।
শহরের রাস্তা চওড়া না করায় ও বিভিন্ন রাস্তা জবরদখল করে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় সংকুচিত রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম কেবল বাড়ছেই।
এদিকে অভিযোগ শহরের উদ্ভূত ট্রাফিক জ্যাম মুক্ত করতে রাজ্য সরকার বিকল্প সড়ক-রাস্তা তৈরি করার দিকে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনায় অভাব থাকলেও নতুন করে শহরে আরও একটি উড়ালপুল নির্মাণ করার উদ্যোগ ঘিরে ট্রাফিক জ্যামের সমস্যাকে আরও চরম বেহাল দশায় নিয়ে যাবে। এমনটাই দাবি করছেন শহরের বহু নাগরিক। যে রাস্তা দিয়ে উড়ালপুল নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই সব অঞ্চলের রাস্তাগুলি এতোই সংকুচিত যে উড়ালপুল নির্মাণ করার ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। উড়াল পুল নির্মাণকাজ যদি শুরু হয় তাতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন বছর লেগে যাবে।উড়ালপুল নির্মাণকাজ শুরু হলে পুরো রাস্তা জুড়েই হবে কাজ। ফলে রাস্তা আটকে যাবে। নির্মাণকাজের জন্য এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন যাতায়াত করা খুব কঠিন হয়ে উঠবে। তাতে ট্রাফিক জ্যাম আরও তীব্রতর হয়ে উঠবে বলেও অনেকেরই আশঙ্কা। মানুষকেও অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে।