কলকাতা অফিস, ১ জুন– বাংলায় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের শুরুটা হয়েছিল গত ৪ মে। বাংলায় প্রথম ক্ষমতায় আসে বিজেপি। পরে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভাও গঠন হল। সোমবার লোকভবনে এর রাজকীয় ও জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শপথ নিলেন ৩৫ জন মন্ত্রী। মন্ত্রীসভার সদস্যসংখ্যা হল ৪১।
রাজ্যপাল আরএন রবি নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের প্রথা মেনে শপথ গ্রহণ করান। ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি ও জাতীয় সঙ্গীতের পবিত্র আবহে শুরু হওয়া এই মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রথমবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, তখন তার সঙ্গে মাত্র পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডুদের নিয়ে গঠিত সেই প্রাথমিক কোর কমিটির হাতে ইতিপূর্বেই দফতর বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই মন্ত্রীসভার পরিধি আরও বাড়ল। রাজভবন ও নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি এদিনের দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ছিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু।
মোট ৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ১৩ জনকে পূর্ণমন্ত্রী (ক্যাবিনেট), ৩ জনকে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী হলেন তাপস রায় (মানিকতলা), মনোজ ওরাওঁ (কুমারগ্রাম), অর্জুন সিংহ (নোয়াপাড়া), গৌরীশঙ্কর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ), দীপক বর্মণ (ফালাকাটা), শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর), অরূপকুমার দাস (কাঁথি দক্ষিণ), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি), কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দহ), শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি), অজয় পোদ্দার (কুলটি), দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মালতি রাভা রায় (তুফানগঞ্জ), রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর), ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)।এর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন অশোক দিন্ডা (ময়না), কৌশিক চৌধুরী (রায়গঞ্জ), জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর), হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক), শান্তনু প্রামাণিক (ভগবানপুর), মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ), উমেশ রাই (হাওড়া উত্তর), পূর্ণিমা চক্রবর্তী (শ্যামপুকুর), ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর), দিবাকর ঘরামি (সোনামুখী), নাদিয়ারচাঁদ বাউড়ি (পারা), গার্গী দাস ঘোষ (কান্দি), অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম), কলিতা মাজি (আউশগ্রাম), বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি), সুমনা সরকার (বলাগড়), আনন্দময় বর্মণ (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি), বিশাল লামা (কালচিনি), দীপঙ্কর জানা (কাকদ্বীপ)।