ওয়াশিংটন, ২৮ সেপ্টেম্বর : অবশেষে সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে সমঝোথার পথে হাঁটল আমেরিকা ও চিন। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর ৩০০০ কোটি ডলারের একটি শুল্কচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাণিজ্য কাউন্সিল গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।
দুই দেশই সমঝোতার পথে হাঁটছে বলেই জানা গিয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, এই নতুন চুক্তির ফলে আমেরিকার কৃষিজাত পণ্য, কাঠ এবং প্রসাধনীর মতো রফতানি হওয়া পণ্যগুলি চিনে সুবিধা পাবে। আবার, চিনের ছোট যন্ত্রপাতি, খেলনা এবং সাজসজ্জার সামগ্রী আমেরিকায় রফতানির ক্ষেত্রেও অনুকূল শুল্ক ছাড় পাবে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কুয়ালালামপুরে হওয়া আগের আলোচনার ফলাফলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই এই নতুন বাণিজ্য কাউন্সিল তৈরি করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের পর এই প্রথম ওয়াশিংটন সফরে গেলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মাঝে কেটে গিয়েছে এক দশকেরও বেশি সময়। এই সফরে দুই দেশ তাদের বর্তমান ‘বাণিজ্য বিরতি’র মেয়াদ আরও দু’মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই বাড়তি সময় বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করার জন্য দুই দেশকে অতিরিক্ত সুযোগ দেবে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং জিনপিংয়ের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। এর পর নৈশভোজে যোগ দেন তারা, যেখানে সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এবং ওপেন এআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান।