শনিবার | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হায়রে গণতন্ত্র!

 হায়রে গণতন্ত্র!

হত্যার চেষ্টা বনাম এলওপিকে বলতে বাধা।লোকসভা সাক্ষী হথাকল থাকল এক ঐতিহাসিক ঘটনার। গত ৭৫ বছরের দেশের ইতিহাসে যা হয়নি তা চলতি বাজেট অধিবেশনে হয়েছে। চলতি বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের উপর ভাষণ রাখতে ওঠেও ভাষণ দিতে পারেননি লোকসভার এলওপি রাহুল গান্ধী। সেনাপ্রধানের একটি বইয়ের উদ্ধৃতি তিনি পড়তে চেয়েছিলেন দেশের বিদেশনীতি নিয়ে। প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাবানে তার বইতে চিন-ভারত সম্পর্ক নিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন। রাহুল গান্ধী সেটি পড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা পড়তে পারেননি। দুদিন চেষ্টা করেও এলওপি লোকসভায় তার ভাষণ রাখতে পারেননি। এর পরেরদিন রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের উপর জবাবি ভাষণ দেবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু সারাদিন প্রধানমন্ত্রী না এলেও জবাবি ভাষণ দিতে এসেছিলেন তিনি সন্ধ্যা নাগাদ। কিন্তু বিরোধীদের প্রবল বাধাদানে তিনিও ভাষণ দিতে পারলেন না। লোকসভার ইতিহাসে এমন নজির আর নেই যেখানে কোনো অধিবেশনে এলওপি এবং শাসক দলের নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী উভয়ই ভাষণ রাখতে পারেননি। এটি একটি ঐতিহাসিক নজিরবিহীন ঘটনা। ২০০৫ সালেও প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বলতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সেবার এলওপি বলেছিলেন। কিন্তু এবার বাজেট অধিবেশনে লোকসভার দুইপক্ষের দুই নেতাই তাদের বক্তব্য রাখতে পারেননি। এটি একটি রেকর্ড, যা ভারতের গণতন্ত্রে দীর্ঘদিন লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে। এবার প্রধানমন্ত্রীকে বলতে না দেবার খেসারত দিতে হল কংগ্রেসকে। বিজেপি লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে দেশবাসীকে জানায় যে, কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর গায়ে হাত দেবার ল্যান করে। যাকে বলা যায় একেবারে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষতি করার চেষ্টা। হত্যার চেষ্টা। স্পিকার ওম বিড়লা স্বয়ং সভাকে জানান যে, তিনি গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে, তিনি যেন সভায় না আসেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সভায় আসেননি।
যদিও কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সংসদের বাইরে সারাদিন বলে বেড়িয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী তাকে 'ফেস' করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। তাই সংসদে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এরই মধ্যে বিজেপি এবং স্পিকার যে তত্ত্ব খাড়া করেছেন তাতে বিস্মিত দেশের রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেস যদি সত্যি সত্যি প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে ক্ষতির চেষ্টা করার প্ল্যান করেছিলো তাহলে এর তো তদন্ত হওয়া দরকার। এর জন্য এফআইআর করা প্রয়োজন। লোকসভার ভেতর যদি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষিত না থাকেন তা তো সাংঘাতিক ঘটনা।প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যথারীতি বলেছেন যে, এটা ডাহা মিথ্যা। প্রধানমন্ত্রীকে কোনোরকম ক্ষতির চেষ্টা এটা একেবারেই মিথ্যা। জলজ্যান্ত মিথ্যা বলছে সরকার এবং বিজেপি। কংগ্রেস এটা করতে পারে না- জানান প্রিয়াকা।তবে দুধের স্বাদ অবশ্য ঘোলে মিটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।লোকসভায় বলতে পারেননি তো কী হয়েছে, রাজ্যসভায় একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় তার যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেসের উপর। বলেছেন, মোদিকে মেটানো সম্ভব নয়। তার দাবি, মোদির কবর খুঁড়তে চায় কংগ্রেস। মোদি ভালো ভালো কাজ করছে বলে মোদির উপর এত ঘৃণা কংগ্রেসের। এজন্য মোদির কবর খুঁড়তে চায় কংগ্রেস। হায়রে দেশের গণতন্ত্র!এই দিন দেখার জন্যই কি দেশে স্বাধীনতা এনেছিলেন বীর শহিদরা।
কত রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিলো। দেশের বীর শহিদরা এজন্য কি তাদের রক্ত, ঘাম, প্রাণ বলি দিয়েছিলেন। যে দেশের মানুষের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সংসদ চলে, এক ঘন্টায় যেখানে সংসদের খরচ লক্ষাধিক টাকা, সেই সংসদে এসব কী হচ্ছে? ভাষার মর্যাদা হারাচ্ছেন সাংসদরা। সংসদের গরিমা প্রতি পদে পদে পদদলিত হচ্ছে।সরকার-বিরোধীদের মধ্যে এখন চূড়ান্ত বৈরিতা চলছে। গণতন্ত্র একেবারে কি জলাঞ্জলির পথে? একদিকে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে সচেষ্ট সরকার পক্ষ, অন্যদিকে বিরোধীরাও নাছোড়বান্দা। যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। বিরোধীদের কন্ঠ দাবিয়ে গণতন্ত্র কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারে না। অবিলম্বে সংসদে অচলাবস্থা কাটা জরুরি দেশের সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *