বুধবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হাইকোর্টে ধাক্কা মথা বিধায়ক রঞ্জিতের হেডলাইনসের বিরুদ্ধে মামলা চেয়ে রিট আবেদন খারিজ

 হাইকোর্টে ধাক্কা মথা বিধায়ক রঞ্জিতের হেডলাইনসের বিরুদ্ধে মামলা চেয়ে রিট আবেদন খারিজ

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারী: এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে সবথেকে বেশি আলোচিত সমালোচিত হচ্ছেন তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক তথা প্রাক্তন টাইগার জঙ্গি গ্রুপের সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মা। মঙ্গলবার ফের একবার তিনি আলোচনায় উঠে এলেন উচ্চ আদালতের কল্যাণে। কেননা উচ্চ আদালতে তিনি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন। রাজ্যের প্রথম শ্রেণীর বৈদ্যুতিক সংবাদমাধ্যম ‘হেডলাইনস ত্রিপুরার’ বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রঞ্জিতবাবুর রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি টি অমরনাথ গৌড় সোমবার এই রায় দিয়েছেন। ২৪ রামচন্দ্রঘাট (এস/টি) কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি-র গত ০৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখের চিঠি চ্যালেঞ্জ করে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলো। ওই চিঠিতে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। কারণ প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো ‘আমলযোগ্য অপরাধ’ খুঁজে পায়নি পুলিশ।

বিধায়কের দাবি ছিল ‘Headlines Tripura National’ নামের একটি ইলেকট্রনিক মাধ্যম তার বিরুদ্ধে ভুয়া বাংলাদেশি ভোটার আইডি ও জাল জন্ম সনদ সংক্রান্ত খবর প্রচার করে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, তথ্য প্রযুক্তি আইন ও তপশিলি জাতি ও জনজাতি (অত্যচাব প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় এফআইআর রুজুর আবেদন জানান।

কিন্তু পুলিশ জানায়- অভিযোগে মূলত মানহানির বিষয় রয়েছে, যা অ-আমলযোগ্য অপরাধ। জাল নথি তৈরিতে অভিযুক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণও মেলেনি।

হাইকোর্টে শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের Lalita Kumari vs Government of Uttar Pradesh মামলার রায় অনুযায়ী অভিযোগে আমলযোগ্য
অপরাধের উপাদান থাকলে এফআইআর নথিভুক্ত বাধ্যতামূলক। কিন্তু সরকারপক্ষ যুক্তি দেয়-০১ জুলাই ২০২৪ ইং থেকে কার্যকর হওয়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৭৩ (৩) অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধান বৈধ। বিচারপতি ড. টি অমরনাথ গৌড় দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে পর্যবেক্ষণে বলেন, নতুন আইনের অধীনে তদন্তের পদ্ধতি পুরনো ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪ থেকে ভিন্ন। পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান করে যুক্তিসহ সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং অভিযোগকারীকে তা জানিয়েছে। ফলে প্রক্রিয়াটি আইনের পরিপন্থী নয়।

আদালতের মতে, অভিযোগে মানহানির উপাদানই প্রধান। এসসি / এসটি আইনের অপরাধের প্রাথমিক উপাদানও স্পষ্ট নয়। তাই রিট পিটিশন খারিজ করা হয়।

এই রায় রাজনৈতিক পরিসরে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। আদালত কার্যত ইঙ্গিত করেছে। আইনের প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে চাপ সৃষ্টির কৌশল সফল হবে না। অভিযোগে যথাযথ প্রমাণ ও আইনি উপাদান থাকা আবশ্যক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানহানির সীমা এবং নতুন ফৌজদারি আইনের বাস্তব প্রয়োগ- এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে এই মামলাটি দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো। উচ্চ আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট হলো, আইন তার নিজস্ব কাঠামো মেনেই চলবে, রাজনৈতিক অভিযোগ প্রমাণের মানদণ্ড অতিক্রম না করলে তা বিচারিক পরীক্ষায় টিকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *