জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
স্মৃতিতে ধুসর ধুনকরের টংকার!!
অনলাইন প্রতিনিধি :- প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বহির্বিশ্বে আজ মানুষের হাতের মুঠোয়। সমাজে বেড়েছে যন্ত্রের ব্যবহার। সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো অনেক কারিগরি কৌশল। এর মধ্যে রয়েছে শীতের লেপ। দুই হাজার সালেও শীতের উষ্ণতায় লেপের জুড়ি ছিল না। বর্তমানে লেপের জায়গা দখল করে নিয়েছে দেশি বিদেশি রকমারি কম্বল। ফলে ধুনকররা ক্রমেই কাজ হারায়। কুমারঘাট ব্লকের ফটিকরায় সহ আশপাশ এলাকায় লেপ তৈরির সঙ্গে প্রায় একশ শ্রমিক যুক্ত ছিল। কিন্তু কম্বলের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে লেপ তৈরি প্রায় বন্ধের পথে। হাতে গোনা তিন চারজন এই ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আর লেপের উষ্ণতা সম্পর্কে ধারণা জন্মাচ্ছে না। লেপ তৈরির খরচ কম্বলের দামের চেয়ে বেশি। মানুষ লেপের উষ্ণতা তুলে কম্বলে জুড়ে গিয়েছে। ফটিকরায় বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং তারাপুর এলাকাটি একসময় লেপ তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল। এদের বানানো লেপ ফটিকরায় বাজার, কাঞ্চনবাড়ি বাজার, পেচারথল, মাছলি বাজারে বিক্রি হতো। বিশাল অংশের মানুষ ব্যবহার করতো তাদের বানানো লেপ। অনেক ব্যবসায়ী ছিল যারা লেপ উৎপাদকদের কাছ থেকে পাইকারি দামে লেপ কিনে বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতো। শীতের কাঁপুনি শুরু হবার আগেই লেপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে যেতো। ধুনকররা একদিনে সত্তর থেকে একশটি লেপ তৈরি করতো। কিন্তু এখন দিনে সাত থেকে আটটি লেপ তৈরি হচ্ছে। ফটিকরায় এলাকার লেপ ব্যবসায়ী ধনা মিয়া জানান, ছোট বেলা থেকেই এই ব্যবসার সাথে যুক্ত। আজকাল তার লেপের বাজার নেই। তুলার দামও বেশি। শ্রমিকের মজুরিও বেশি। ভালো তুলা দিয়ে একটি লেপ তৈরি করতে তিন হাজার টাকা খরচ পড়ে। কিন্তু বাজারে আরও কম দামে সুদৃশ্য কম্বল পাওয়া যাচ্ছে। অপর ব্যবসায়ী আব্দুল মসিদ জানান, আগে প্রতিদিন সত্তর থেকে একশটি লেপ তৈরি হতো। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রায় একশ শ্রমিক। শ্রমিকরা লেপ ধুনতো আর মহিলা শ্রমিকরা সেই লেপ সেলাই করতো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতো লেপ বানানো। বাবুল মিয়া জানান, আগে তিনি লেপের ব্যবসা করতেন। কুমারঘাট শহরে দোকান ছিল। শীতের সময়ে বছরে তার দোকানে ত্রিশ পঁয়ত্রিশটি লেপ বিক্রি হতো।কয়েক বছর আগে তিনি এই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।কারণ আগের মতো বিক্রি নেই।ফটিকরায়ের আসকর আলি জানান, তিনি লেপ ধুনার কাজে যুক্ত। আগে প্রতিদিন ২০টি লেপের তুলা ধুনতো। প্রতি লেপের ধুনার জন্য পঞ্চাশ টাকা। কিন্তু বর্তমানে চারটির বেশি লেপ হয় না। গ্রামের সুবেদা বিবি জানান, তিনি লেপ সেলাই করেন। কিন্তু তার কাজ কমে গিয়েছে। দুই হাজার সালের পর থেকে লেপের চাহিদা কমতে শুরু হয়। এর পরের ১৫ বছরে লেপের বাজার সম্পূর্ণ দখল করে নেয় কম্বল। উত্তর জেলার দামছড়া দিয়ে মিজোরাম থেকে বিদেশি কম্বল আসছে কুমারঘাট সহ আশপাশের বাজারগুলিতে। ব্যবসায়ীরা বহিঃরাজ্য থেকে কম্বল, রিজাই নিয়ে আসছে।দামও থাকছে মানুষের হাতের নাগালে।স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা রকমারি কম্বলের দিকে।এতে হারিয়েই যেতে বসেছে লেপ তৈরি, ধুনকরের পেশা।