শনিবার | ০৭ মার্চ ২০২৬

স্পীকারের বিরুদ্ধে অনাস্থাবিরোধী শিবিরে তৃণমূল

 স্পীকারের বিরুদ্ধে অনাস্থাবিরোধী শিবিরে তৃণমূল

দৈনিক সংবাদ, অনলাইন।।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা–র বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের আনা অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দলের আনা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস । ফলে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেশ বাড়ল।


সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। সেই অধিবেশনেই স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সম্ভাব্য ভোটাভুটির বিষয়টি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে অধিবেশন শুরু হতেই এই ইস্যুতে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস প্রথম জমা দেয় কংগ্রেস । গত ১০ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ লোকসভার সচিবালয়ে লিখিত নোটিস জমা দেন। সেই নোটিসে কংগ্রেসের পাশাপাশি সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে ) এবং এন সিপি (শারদ পাওয়ার )–সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদ সই করেন। অভিযোগ, লোকসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকার পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন।
তবে প্রথম দিকে ওই নোটিসে তৃণমূলের কোনও সাংসদের স্বাক্ষর ছিল না। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়। পরে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক ব্যানার্জি স্পষ্ট করেন যে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে তৃণমূলের আপত্তি নেই। তবে তার আগে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-ভুক্ত দলগুলির একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করার দাবি তোলেন তিনি। সেই প্রক্রিয়া মেনে নেওয়ার পরেই তৃণমূল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন আলোচনায় বিরোধী দলের অনেক সাংসদকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী –কেও যথাযথভাবে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি আট জন সাংসদকে একতরফাভাবে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্তও স্পিকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
লোকসভায় কংগ্রেসের সহকারী দলনেতা গৌরব গগই বলেন, “স্পিকারের এই আচরণ অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে।”
অনাস্থা নোটিস জমা পড়ার পরেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন স্পিকার বিড়লা। সেই সময় তিনি লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল –কে নোটিস পরীক্ষা করে দেখার নির্দেশ দেন। এরপর বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের বাকি দিনগুলিতে তিনি আর সভা পরিচালনা করেননি।
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের জন্য এর আগেও একাধিকবার চেষ্টা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষেত্রেই তা সফল হয়নি। সংবিধানের ৯৪ (সি) ধারা অনুযায়ী, লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরাতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থনে প্রস্তাব পাশ হতে হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের প্রস্তাব আনার জন্য অন্তত ১৪ দিন আগে লিখিত নোটিস দিতে হয় এবং সেই নোটিসে কমপক্ষে দু’জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। তবে কতজন সাংসদ এতে সই করবেন তার কোনও সর্বোচ্চ সীমা নেই। এবারের প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই প্রায় ১২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকে আলোচনার সময় পর্যন্ত সাধারণত স্পিকার নিজে অধিবেশন পরিচালনা করেন না। সেই ক্ষেত্রে ডেপুটি স্পিকার সভা পরিচালনা করেন। যদি ডেপুটি স্পিকারও অনুপস্থিত থাকেন, তবে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনও সাংসদ সেই দায়িত্ব পালন করেন।
যদিও বর্তমান সংসদীয় অঙ্কে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তবু বিরোধী শিবিরের মতে, এই প্রস্তাব মূলত সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক রীতি বজায় রাখার দাবিতেই আনা হয়েছে।
এদিকে এই বিতর্ককে ঘিরে কংগ্রেস এবং বিজেপি —দুই শিবিরই নিজেদের সাংসদদের জন্য হুইপ জারি করেছে। ফলে সোমবার সংসদে এই ইস্যুতে তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *