মঙ্গলবার | ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুশাসনের রাজ্যে দুর্নীতির নগ্নচিত্র,পুষ্টি প্রকল্পে কোটি টাকার কেলেঙ্কারি, নীরব সরকার!

 সুশাসনের রাজ্যে দুর্নীতির নগ্নচিত্র,পুষ্টি প্রকল্পে কোটি টাকার কেলেঙ্কারি, নীরব সরকার!

অনলাইন প্রতিনিধি :-এডিসির সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের অধীন পুষ্টি প্রকল্পে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর। বিশেষ করে দশদা সিডিপিও অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে লোপাট বাণিজ্য চলছে তা প্রশাসনিক মহলে চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে এডিসির সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের ছয়টি প্রকল্পের মাধ্যমে ফিডিং বিলের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।অভিযোগ, কাঞ্চনপুর মহকুমার বড়হলদি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দীর্ঘ ছয় মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।সেখানে কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নেই, শিশু বা প্রসূতি মায়ের উপস্থিতিও নেই। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে ওই কেন্দ্রের নামে নিয়মিত পুষ্টি প্রকল্পের ফিডিং বিল তোলা হচ্ছে। এই ঘটনাই গোটা প্রকল্প জুড়ে চলা দুর্নীতির নগ্নচিত্র সামনে এনেছে। দশদা সিডিপিও অফিসের অধীনে নথিভুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৩৮৫টি যা কাগজে-কলমে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির প্রায় সত্তর শতাংশই বাস্তবে অস্তিত্বহীন।শুধুমাত্র সরকারী নথিতে কেন্দ্র দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে পুষ্টি প্রকল্পের অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে প্রসূতি মা ও শিশুদের তালিকা নিয়ে। জানা গেছে পাঁচ বছর আগে যেসব প্রসূতি মায়েদের নাম পুষ্টি প্রকল্পে নথিভুক্ত করা হয়েছিল তাদের সন্তানেরা ইতিমধ্যেই বড় হয়ে সরকারী ও বেসরকারী স্কুলে পড়াশোনা করছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই মায়েরা আবার নতুন করে সন্তানের মা হয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনিক নথিতে তাদের নাম এখনও গর্ভবতী মা হিসেবেই বহাল রয়েছে। ফলে তাদের নামে আজও বিনামূল্যে ডিম, ডাল, চাল ও খেলনা বরাদ্দ দেখানো হচ্ছে। এই ভুয়া তালিকার সুযোগ নিয়েই চলছে ফিডিং বিল-এর নামে নিয়মিত আর্থিক লুট। অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মাসিক চার হাজার টাকারও বেশি ফিডিং বিল দেখানো হয়। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্র পিছু প্রায় দুই হাজার টাকা করে সেক্টর সুপারভাইজারদের কাছে পৌঁছায়। এই হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাত লক্ষ সত্তর হাজার টাকা এবং বছরে প্রায় বিরানব্বই লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের করোনা মহামারির সময় যখন দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি বন্ধ ছিল সেই সময়েও ভূয়া ফিডিং বিল দেখিয়ে কাঞ্চনপুর প্রজেক্টে কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ। সেক্টর সুপারভাইজরদের সার্টিফায়েড ছাড়পত্রের মাধ্যমেই এসব বিল অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো দশ থেকে বারো বছর ধরে একই জায়গায় একই সেক্টর সুপারভাইজরদের বহাল রাখা হয়েছে। আনন্দবাজার ও গছিরামপাড়া সেক্টরের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয় বলে অভিযোগ। সেখানে প্রায় আশি শতাংশ ফিডিং বিল সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় মানুষের দাবি এত দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত দুর্নীতি কোনও একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। এর পিছনে একাধিক স্তরের প্রশাসনিক মদতের ইঙ্গিত স্পষ্ট। অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রকৃত নথিভুক্ত শিশুদের তালিকা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে এই বিষয়ে এডিসির সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার মুক্তিপদ পালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান কিছুদিন আগেই তিনি টিসিএস অফিসার পিংকু দেববর্মারের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।অভিযোগগুলি সম্পর্কে অবগত হয়ে তিনি সবকিছু সরেজমিনে তদন্ত করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *