বৃহস্পতিবার | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাড়ে পাঁচশ কোটির গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প, গরিব মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে জি-রাম-জিঃ শিবরাজ

 সাড়ে পাঁচশ কোটির গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প, গরিব মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে জি-রাম-জিঃ শিবরাজ
অনলাইন ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারী: ভিভি-জি রাম-জি আইন, ২০২৫ প্রণয়ন উপলক্ষে বুধবার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আয়োজিত জনপ্রতিনিধি সম্মেলন থেকে প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকারও বেশি বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার উপস্থিতিতে এই জনপ্রতিনিধি সম্মেলন এবং গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পগুলির ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। অনুষ্ঠানে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়ন গ্রামীণ ভারতের সম্পূর্ণ বিকাশের রোডম্যাপ হলো ভিভি জি রাম জি আইন, ২০২৫। এর মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের ছবির পাশাপাশি গরিব অংশের মানুষের ভাগ্যকেও পরিবর্তন করা যাবে। এখন থেকে এই আইনে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ দেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী যদি কেউ কাজের দাবি জানিয়ে সময়মতো কাজ না পান, তাহলে তাদের বেকার ভাতা এবং মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে ১৫ দিনের বেশি দেরি হলে মোট মজুরির উপর সুদ দেওয়ার কথাও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ১৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা হয়। হিসেব অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ব্যয় করা হবে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকায় গৃহীত কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ জীবনযাত্রায় মানও চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে অষ্টলক্ষ্মী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও ত্রিপুরা এই অস্টলক্ষ্মীর নামের পূর্ণ বৈভবের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবর্ষ বৈভবশালী, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তার কথায়, ভারত এখন বিশ্বগুরু হওয়ার পথে। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিরোধী দল নিজস্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। যার কোনো ভিত্তি নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান আরও বলেন, এই কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নে নিযুক্ত যেমন জিআরএস, ট্যাকনিকেল স্টাফও রয়েছেন। তাদের বেতন ভাতা দেওয়ার জন্য এই আইনে প্রশাসনিক ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে।

রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর নির্মাণের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিলো রাজ্যকে, তার ১৯ শতাংশ ঘরের কাজই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও রাজ্য সরকার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, আগামীদিনে রাজ্যে আরও প্রায় ২ লক্ষ ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১০৮ টি আবাসিক এলাকাকে সংযুক্ত করার জন্য এদিন নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে বলে জানান। এছাড়াও রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুততার সাথে আইসিএআর-এর কৃষি বিজ্ঞানীদের একটি দল রাজ্যে পাঠানো হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এদিন তিনি আরকেভিওয়াই মিশনে রাজ্যকে বর্তমান অর্থবছরের জন্য আরও অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলে জানান।

প্রধান অতিথি হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, গ্রামীণ মানুষের রোজগারের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আইন চালু এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। বিরোধীরা বরাবরের মতোই এই আইন নিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। যদিও পূর্বে বহুবার সময়ের দাবি মেনে বিভিন্ন প্রকল্প ও আইনের নাম পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমজিএন রেগার ত্রুটিগুলি দূর করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থায়ী ও দীর্ঘকালীন সম্পদ সৃষ্টিতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং গুণগত মান বজায় রেখে কাজ করতে হবে। এই আইন প্রণয়ন হলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দালালচক্রের অবসান এবং দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা সৃষ্টি সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসনের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজে রাজ্য দেশের মধ্যে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতিমধ্যে রাজ্য পঞ্চায়েতি কাজে সাফল্যস্বরূপ বিভিন্ন বিভাগে ৭ টি পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে, শক্তিশালী ভারত গড়া। গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং-ও এদিন স্বল্প কথায় তার ভাষণ রাখেন। অনুষ্ঠানে এদিন রাজ্যে ভিভি-জি রাম-জি আইন প্রণয়নের সমর্থন প্রস্তাবপত্র রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এদিন লাভার্থী সম্মেলনের অঙ্গ হিসেবে বিভিন্ন স্বসহায়ক দলের সদস্যদের হাতে ঋণ প্রদান বাবদ চেক, সয়েল হেলথ কার্ড, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর এবং বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের গাড়ির প্রতীকী চাবি তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায়ও মিলিত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *