পিভিসি রেশন কার্ড বিলির সূচনা,গণবণ্টন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে বিজেপি সরকার: সুশান্ত!!
সাংবাদিক সম্মেলনে এসআইআর, বিহার, এডিসি সহ,সংসদে নিজের কাজের তথ্য তুলে ধরলেন বিপ্লব দেব!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-সাংসদ হিসেবে সদ্য সমাপ্ত সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে দাবি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অতিদ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উত্থাপন করেছিলেন রাজ্যের সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।শুধু তাই নয়,রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও সংসদে সরব হয়েছেন শ্রীদেব।সংসদে প্রশ্ন উত্থাপন করে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জবাব চাওয়ার পাশাপাশি, প্রকল্প রূপায়ণে কাজের গুণগতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ধলেশ্বর বাসভবনে (ভাড়া) এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ শ্রীদেব সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে তার যাবতীয় কর্মকাণ্ডের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরেন রাজ্যবাসীর অবগতির জন্য। শুধু তাই নয়, এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এডিসি থেকে শুরু করে, বিহার নির্বাচন, এসআইআর সহ সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নেরও খোলাখুলি জবাব দিয়েছেন সাংসদ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।
এদিন তিনি বলেন, মানুষের সার্বিক কল্যাণে আমরা সংকল্পবদ্ধ। সাংসদ হিসেবে রাজ্যের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উত্থাপিত দাবি, প্রাপ্তি, চলমান প্রক্রিয়া এবং রাজ্যের উন্নয়ন ধারায় আরও গতি আনার লক্ষ্যে আমি যে কাজগুলি করেছি, সেগুলো রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরতে এবং রাজ্যবাসীকে অবগত করতেই এই সাংবাদিক সম্মেলন। সাংসদ শ্রীদেব বলেন, সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনে তিনি মোট ২১টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে। এর মধ্যে একটি ছিলো স্টারেড কোশ্চেন, কুড়িটি ছিলো আনস্টারেড কোশ্চেন। সাংসদ শ্রীদেব জানান, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে তার সংসদীয় এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ ৯২ হাজার ৩১৪ টাকা মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে, এগুলির মধ্যে রয়েছে স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, মার্কেট শেড, চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্রের জন্য ভবন, যোগা ইনডোর হল, অ্যাম্বুলেন্স, ওপেন জিম, ১৯টি স্কুলে জল শোধনাগার নির্মাণ ইত্যাদি। শ্রীদেব জানান, ১৮তম লোকসভায় এমপি ফান্ডের অধীন মোট ৭ কোটি ৯০ লক্ষ ৪১ হাজার ৫৮২ টাকা অনুমোদিত হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিল সংশোধনী বিল বর্তমানে সিলেক্ট কমিটিতে আছে। সিলেক্ট কমিটি এই বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করছে। এর বাইরেও কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নে নানাভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের জনজাতি কল্যাণে ১৩০০ কোটি প্রদান করেছে। ব্রু জনজাতিদের পুনর্বাসনে ৬০০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। পরবর্তীকালে আরও ২০০ কোটি প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা জঙ্গিদের কল্যাণে ২৫০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার জনজাতি কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিষয়ে খুবই আন্তরিক।
এসআইআর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাংসদ শ্রীদেব বলেন, এটা নিয়ে বিরোধীরা নাটক করছে। পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। অথচ বিরোধীরা সংসদে এই বিষয়ে আলোচনার দাবি জানিয়ে হাঙ্গামা করে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, নিবাচন কমিশনের বিষয়ে সংসদে কিভাবে আলোচনা হবে? এই আলোচনার জবাব দেবে কে? অথচ নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের ডেকেছে এই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। কিন্তু বিরোধীরা কেউই যায়নি। আসলে বিরোধীদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ঝামেলা করা। জনগণকে বিভ্রান্ত করা। তবে জনগণ এখন সব বুঝে। বিরোধীরা হৈচৈ করলেও, কেন্দ্রীয় সরকার জনস্বার্থ সম্পর্কিত যেমন বিল উত্থাপন করেছিলো, তা প্রায় সবই পাস হয়েছে।
বিহার নির্বাচন নিয়ে শ্রীদেব বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে স্ট্যালিন বিহারের জনগণকে চরমভাবে অপমানিত করেছে, তাকে বিহারে ডেকে এনে রাহুল গান্ধী, তেজস্বী যাদবরা র্যালিতে শামিল করেছে। বিহারবাসীর মান ইজ্জত আরও ডুবিয়েছে।আসলে এটা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিপ্লব এদিন দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিহারে পুনরায় এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসবে।এনিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।