সংসদে হইচই, থমকে লোকসভা; স্পিকার ইস্যুতে নতুন সংঘাত
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ৯ মার্চঃ কথা ছিল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে সোমবারই। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে সংসদে আলোচনার দাবিতে অনড় থেকে বিরোধীরা প্রবল হইচই করে লোকসভায়। আর তারই জেরে অন্য কোনও সংসদীয় কার্য হতে পারল না। দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গেল লোকসভা। সরকারপক্ষের দাবি, খোদ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর দীর্ঘ এবং বিস্তারিত বিবৃতি দিয়েছেন সংসদের দুই কক্ষে। বিরোধীদের যা যা প্রশ্ন অথবা উদ্বেগ, তার সবই উত্তর দেওয়া হয়েছে ওই বিবৃতিতে। তাহলে আর কেন নতুন করে ফের ওই ইস্যুতে আলোচনা চাইছে বিরোধীরা? সরকারপক্ষের তরফে জগৎপ্রকাশ নাড্ডা রাজ্যসভায় এবং লোকসভায় কিরণ রিজিজু বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁরা বলেন, বিরোধীদের সংসদ অচল করার জন্য শুধু কিছু একটা অজুহাত চাই। আর সেই কারণেই এই নীতিহীন ও যুক্তিহীন দাবি। এদিকে সরকারপক্ষের অস্বস্তির অন্যতম কারণ হল, লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে যেহেতু সোমবারই আলোচনা এবং ভোটাভুটি সেরে ফেলতে চেয়েছিল সরকার, সেটা হতে পারেনি। যতদিন না তাঁকে অপসারণের দাবিতে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং ওই প্রস্তাবের একটি মীমাংসা না হয়, ততদিন তিনি লোকসভায় হাজির হবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন ওম বিড়লা। এবার সংসদীয় রীতিতে যদি লোকসভার স্পিকার দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সরকারপক্ষ এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় বড়সড় সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে লোকসভায় তো বটেই। কারণ রাজ্যসভায় কক্ষ পরিচালনার জন্য থাকেন চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান। কোনও পদ শূন্য নয়। কিন্তু লোকসভায় ২০১৪ সালের পর থেকে মোদি সরকার ডেপুটি স্পিকারের পদ শূন্য রেখেছে। বস্তুত সংবিধানে ডেপুটি স্পিকার রাখা বাধ্যতামূলক না হলেও একজন ডেপুটি স্পিকার সাধারণত সর্বদাই ছিল, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। ডেপুটি স্পিকার থাকলে তিনি স্পিকারের গরহাজিরায় বাকি সংসদীয় কাজকর্ম পরিচালনা করেন। যেহেতু লোকসভায় বিরোধীরা বারংবার দাবি করা সত্ত্বেও মোদি সরকার ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করেনি, তাই এখন স্পিকার না থাকা মানে একাধিক কাজ অচল। সবথেকে বড় যে সমস্যা, সেটি হল বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠক হতে পারছে না। এই বৈঠক প্রতি সপ্তাহে স্পিকারের ঘরে হয়ে থাকে। এই বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী সপ্তাহে সভার কার্যক্রম স্থির হয়। সেটি না হলে স্থির হতে পারে না যে, কোন বিল কবে পেশ করা হবে, কোন বিষয়ে কবে আলোচনা হবে ইত্যাদি। তাই সরকার যখন জানেই যে, স্পিকারকে সংখ্যার বিচারে অপসারণ সম্ভব নয়, তখন দ্রুতই ওই অনাস্থা প্রস্তাবের পর্ব সমাপ্ত করতে চাইছে তারা। মঙ্গলবার সম্ভবত স্পিকার অপসারণ নিয়ে আলোচনা হবে, যদি বিরোধীরা পশ্চিম এশিয়া নিয়ে আলোচনার দাবি প্রসঙ্গে নরম হয়। বিরোধীরা কেন এই দাবিতে এত উৎসুক? কারণ, এই আলোচনায় সরকারকে চেপে ধরা হবে যে, আমেরিকা কেন ভারতকে বলল যে আমরা অনুমতি দিচ্ছি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের। আর ভারতের অবস্থানও স্পষ্টীকরণ চাইবে বিরোধীরা।