শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যমে বয়সসীমা? অস্ট্রেলিয়া–ফ্রান্সের পথে হাঁটার ইঙ্গিত কেন্দ্রের
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৮ ফেব্রুয়ারী: অস্ট্রেলিয়ার পর এবার কি ভারতেও নির্দিষ্ট বয়সের নীচে সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ হতে চলেছে? সরাসরি কোনও ঘোষণা না করলেও, সেই সম্ভাবনার কথাই ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের সুরক্ষা এবং সমাজমাধ্যমের কুপ্রভাব কমাতে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মন্ত্রী জানান, এই আলোচনার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিপফেক। ভুয়ো ভিডিও ও কনটেন্টের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিশুদের পাশাপাশি গোটা সমাজকে এই ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে বর্তমানে চালু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাইরে আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটিও বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে এবং সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে পৌঁছনোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট করে দেন, নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, মেটা বা এক্স— যে সংস্থাই হোক না কেন, সবাইকেই ভারতের আইনি কাঠামো ও সংবিধান মেনে চলতে হবে। তাঁর মতে, ডিপফেকের মতো সমস্যার মোকাবিলায় শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব, এক্স, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম-সহ একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক নাবালকের অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে ব্লক করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ফ্রান্স-সহ আরও কয়েকটি দেশও শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যমে বিধিনিষেধ আরোপের পথে হেঁটেছে। এই আন্তর্জাতিক প্রবণতার দিকেই এবার নজর দিচ্ছে ভারতও।