জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
লাগামছাড়া মূল্য ওষুধের নীরব স্বাস্থ্য দপ্তরঃ ক্ষোভ!!
অনলাইন প্রতিনিধি :- বাজারে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর দাম হুহু করে বাড়ছে। ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অগ্নিমূল্যে রোগ নিরাময়ে সাধারণ ও নিম্ন আয়ী মানুষ পড়ছেন প্রচণ্ড বিপাকে। দিন দিন কেবল লাফিয়ে লাফিয়ে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্য বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারোরই কার্যকরি কোনো উপযুক্ত পদক্ষেপ নেই। তবে কেন্দ্রীয় সরকার বাজারে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্য দিন দিন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য বৃদ্ধি রোধে, ওষুধ কোম্পানীর বিরুদ্ধে কোন উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলেও বিকল্প ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার রোগ নিরাময়ে গুণমান সম্পন্ন সস্তায় জন ওষুধির ওষুধ তথা জেনারিক মেডিসিন ব্যবহার করার জন্য জোর দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে গত কয়েক বছর ধরে রোগ নিরাময়ে উপযুক্ত গুণমান সম্পন্ন জেনারিক মেডিসিন ব্যবহার করার জন্য ত্রিপুরা সহ গোটা দেশে শয়ে শয়ে কোটি কোটি খরচ করে পত্র পত্রিকায়, সংবাদ মাধ্যমে ও নানাভাবে দেশের জনগণকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক ভাবে বিজ্ঞাপন – দিচ্ছে। কিন্তু বিস্ময় ও পরিতাপের ব্যাপার হল কেন্দ্রীয় সরকার রোগ নিরাময়ে জনগণকে সস্তায় জেনেরিক মেডিসিন করার জন্য সচেতনতার কাজ চালিয়ে গেলেও । ডাবল ইঞ্জিনের রাজ্য ত্রিপুরায় তার সুফল মিলছে না। – এমনটাই অভিযোগ ক্ষুব্দ রাজ্যের রোগী ও জনগণের। রাজ্যের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে রোগীরা সস্তায় জেনেরিক মেডিসিন ব্যবহার পাচ্ছেন না বলে রাজ্যের – বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন এই অভিযোগ করছেন রোগীও রোগীর আত্মীয়রা। রাজ্যের কোনো কোনো হাসপাতালে জেনেরিক মেডিসিন বিক্রির কাউন্টার চালু থাকলেও সেই কাউন্টার গুলিতে জেনারিক মেডিসিন চাহিদামত রোগীর পাচ্ছেন কিনা তার খোঁজ খবর নেওয়ার স্বাস্থ্য দপ্তরের কেউ নেই। রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটি হাসপাতালে অনেক বছর আগেই জেনারিক মেডিসিন কাউন্টার খোলা হলেও তাতে নাম কা ওয়াস্তে ওষুধের স্টক থাকছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগীরা কাউন্টারে গেলেও জেনারিক মেডিসিন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। কিন্তু তারপরও স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল গুলির কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক ভাবেই ঠুটো জগন্নাথ হয়ে আছেন। আর তার মাসুল দিচ্ছেন রোগীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগীরা। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের নামী কম্পানীর ব্যান্ডেডেড ওষুধ অস্বাভাবিক চড়া মূল্যে ওষুধের দোকান থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্যের প্রধান হাসপাতাল জিবিতে জেনারিক মেডিসিনের নতুন দুটি কাউন্টার হাসপাতাল প্রাঙ্গণে খোলা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ একাংশ চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে জেনারিক মেডিসিন না লেখায় কাউন্টারের গিয়ে সস্তায় ওষুধ নিতে পারছেন না। সস্তায় ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যদপ্তর এই বিষয়ে কোন খোঁজ খবর রাখছেন না। চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অডিট করলেই তার প্রমান মিলবে। কিন্তু জিবি হাসপাতালের অডিট কমিটিও রহস্যজনক কারণে সেই কাজটাও করছে না বলে অভিযোগ। জিবি’তে মার্কফেডের জেনারিক মেডিসিন কাউন্টারে পর্যাপ্ত ওষুধও রাখা হচ্ছে না। জিবিতে আরও কাউন্টার চালুর দাবি উঠেছে। রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তর হাসপাতাল আইজিএমে মার্কফেডের কাউন্টারে ও জেনারিক মেডিসিন পর্যাপ্ত রাখা হচ্ছে না। আইজিএমে খুব দ্রুত পর্যাপ্ত জেনারিক মেডিসিন যাতে রোগীরা পান স্বাস্থ্য দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দাবি উঠেছে। চিকিৎসকরা যাতে প্রেসক্রিপশনে জেনারিক মেডিসিন লেখেন সেই ব্যবস্থা করারও দাবি উঠেছে রোগীর তরফে। – আরও দাবী উঠেছে রাজ্যের সরকারী বেসরকারী সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক জেনারিক – মেডিসিন কাউন্টার চালু করার জন্য রাজ্য সরকারকে – পদক্ষেপ নেওয়ার।