প্রতিশ্রুতির খেলাপ, হতাশায় যুব সমাজ,বাড়ছে বেকারের সংখ্যা, অধরা নিয়োগ!!
রাজ্যের পিএসইউগুলি আইসিইউ’র ভেন্টিলেশনে রিপোর্টে মারাত্মক তথ্য!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- ডবল ইঞ্জিনের সুশাসনে রাজ্যের পিএসইউগুলোর অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে।এক কথায় পিএসইউগুলো কোমায় চলে গেছে। দুই-তিনটি পিএসইউ বাদ দিলে অধিকাংশ পিএসইউ আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে আছে।বিষয়টি শুনতে অবাক লাগলেও,এটাই বাস্তব ঘটনা। এমন নয় যে, রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কিছুই জানে না।রাজ্যের পিএসইউগুলোর এই ভয়ানক পরিস্থিতির তথ্য উঠে আসে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পালবিক ফাইনান্স অ্যান্ড পলিসির রিসার্চ টিমের রিপোর্ট থেকে।রাজ্য সরকারই এনআইপিএফপিকে দিয়ে পিএসইউগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে,যাবতীয় বিষয় পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দিতে বলে। সেই সাথে পিএসইউগুলিকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, এ ব্যাপারেও পরামর্শ দেওয়ার কথা বলে। সংস্থাটির রিসার্চ টিম পিএসইউগুলোর যাবতীয় বিষয় খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করে রাজ্য সরকারকে যে রিপোর্ট প্রদান করেছে, তা এক কথায় ভয়ঙ্কর। এই রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজ্যের পিএসইউ (দুই থেকে তিনটি বাদ দিয়ে) গুলো এখন আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে আছে।
এই রিপোর্ট পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা গত ১৫ মে সমস্ত পিএসইউগুলোর এমডিদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা করেছেন। রিপোর্ট তুলে ধরে পিএসইউগুলিকে বাঁচিয়ে তুলতে কী কী করা যায়, বা কী কী করণীয় এমডিদের এই ব্যাপারে পলিসি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যতটুকু জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী এমডিদের স্বল্প মেয়াদি, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদি পলিসি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। খবর নিয়ে জানা গেছে, এমডিরা পিএসইউগুলিকে বাঁচিয়ে তুলতে এখনো তেমন কোনও ওষুধের সন্ধান দিতে পারেননি।
রিপোর্টে যে তিনটি বিষয় সবথেকে বেশি হাইলাইট করা হয়েছে, সেগুলো হলো- (এক) আয় থেকে ব্যয় বেশি। (দুই) আভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। নেই বললেই চলে। (তিন)পিএসইউ পরিচালনা করার মতো অভিজ্ঞতার চরম ঘাটতি। অর্থাৎ পিএসইউ পরিচালনা করার জন্য যে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন, তা কারোর নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। রিপোর্টে প্রতিটি পিএসইউ সম্পর্কে একেবারে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সেই মতো রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই রিপোর্টে এতটাই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যে, যা দেখে অনেকের চোখ কপালে উঠে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোভিড মহামারি পরিস্থিতিতেও কিছু কিছু পিএসইউ লাভজনক অবস্থায় ছিলো। কিন্তু এগুলি এখন লাভের অবস্থান ধরে রাখা তো দূরের কথা, সরকারী অনুদান ছাড়া কর্মীদের বেতনভাতা পাওয়ারও সুযোগ নেই। বিভিন্ন মহল থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে রাজ্যের পিএসইউগুলির এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিত হওয়ার পিছনে শুধু উপরিউক্ত তিনটি কারণই নয়, আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে। আর এই কারণগুলি হলো সীমাহীন দুর্নীতি, মুখ থুবড়ে পড়া কর্মসংস্কৃতি, অপ্রয়োজনীয় লাগামহীন খরচ, নেই কোনও ইতিবাচক পরিকল্পনা ইত্যাদি। যদিও বিগত বাম সরকারের আমল থেকেই পিএসইউগুলিতে এই সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এখনো সেই সংস্কৃতি অব্যাহত। বরং ডবল ইঞ্জিনের সুশাসনের এই সংস্কৃতি আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে পিএসইউগুলো হয়ে উঠেছে শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের পূণর্বাসন কেন্দ্র রূপে। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা থাকুক না থাকুক, নেতা নেত্রীদের পিএসইউগুলোর মাথায় চেয়ারম্যানের পদে পূনর্বাসন দেওয়া হচ্ছে। আর চেয়ারম্যানের পদে বসেই নেতা নেত্রীরা নিজেদেরকে মন্ত্রী, কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রী ভাবতে শুরু করে দেন। পিএসইউ-এর এক টাকা ইনকাম নেই, কর্মচারীদের বেতনভাতা পর্যন্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। অথচ চেয়ারম্যানরা জনগণের অর্থে দামি গাড়ি ভাড়া নিয়ে চড়ছেন। কাজে অকাজে তেল পুড়ছেন। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়া নিচ্ছেন। আরাম-আয়েশ এবং ঠাটবাটের কোনও ঘাটতি নেই। এদের চালচলন এবং জীবনযাত্রা দেখলে মনে হয়, এরা সাংঘাতিক বিশাল কিছু। অথচ কাজের বেলায় অশ্বডিম্ব! পিএসইউগুলোকে বাঁচিয়ে তুলতে এদের বিন্দুমাত্র মাথা ব্যথা নেই। তাদের একটাই ধান্ধা, যতদিন চেয়ারে আছে, ততদিন আরাম-আয়েশে কাটানো আর যত দ্রুত সম্ভব কামিয়ে নেওয়া। বলা তো যায় না, কখন এই চেয়ার চলে যাবে। তাই আজ পিএসইউগুলোর এই অবস্থা। এমনটাই অভিমত প্রকাশ করেছেন অনেকে। যে রিপোর্ট আমরা হাতে পেয়েছি, তা আমরা রাজ্যবাসীর অবগতির জন্য পরবর্তী সময় তুলে ধরবো। রাজ্যবাসীর অধিকার রয়েছে পিএসইউগুলোর কি অবস্থা,পিএসইউগুলোতে কি চলছে।