মাটি ছুঁয়ে সাফল্য,কুল চাষে লাখপতি চাষি!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-পানিসাগরের রৌয়া পানিসাগর এলাকার বাসিন্দা শামসুল হোসেন ও তার ছেলে সালমান হোসেন কুল চাষে বর্তমানে প্রেরণা হয়ে উঠেছেন গোটা পানিসাগর মহকুমায়। তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন ইচ্ছাশক্তি, প্রয়াস ও পরিকল্পনা থাকলে জীবনের বহু দুর্দশা কাটিয়ে শক্ত পায়ে দাঁড়ানো যায়। তাদের সাফল্যের কথা বলতে বলতে টগবগে যুবক সালমান বলছিল আগে এই জমিতে তারা সবজির চাষ করতেন।
কখনো সিম, বেগুন, মরিচ কখনো বা অন্য কিছু। কিন্তু ওই সবজি চাষের পর আতঙ্ক থাকতো মনে। বাজার ভালো হলে মুনাফা ভালো হতো। আবার কখনো খারাপ হলে ঋণের বোঝা ঘাড়ে চাপতো। কখনো লাভ কখনো লোকসান। এভাবেই স্বল্পালয়ের মধ্যে দিয়েই সংসার চলতো। আর্থিক টানা পূরণের কারণে ইচ্ছে থাকলেও খুব একটা পড়াশোনা করতে পারেনি সালমান।শুধু তাইনা জীবনের বহু স্বপ্ন পূরণ করতে পারতো তারা তখন।এরই মধ্যে তার বাবা শামসুল হোসেন জানতে পারেন তাদেরই এক নিকটাত্মীয় ইউটিউবে কুল চাষের পদ্ধতি লক্ষ্য করে কদমতলা এলাকায় কুলের চাষ করে সফলতা পেয়েছে।এতে নাকি বেশ ভালো লাভ রয়েছে।এই কথা শুনে শামসুল হোসেন অর্থাৎ।সালমানের বাবা কদমতলা ছুটে যান কুল চাষের বিস্তারিত জানতে।সেখান থেকে বিস্তারিত জেনে এসে সবজি চাষের বদলে ২০২২ সালে প্রথম ৬০০টি কুলের চারা লাগান রৌয়া স্থিত নিজ জমিতে। প্রথম বছর এই ৬০০ গাছ সহ শ্রমিকের খরচ ও চাষাবাদ নিয়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ হয় তাদের।এরপর ২০২৩-এর প্রথম বছরের কুলের ফলনে বিক্রি হয় প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। এরপর আরো ৬০০ নতুন গাছ লাগানো হয়।দ্বিতীয় বছরের চাষাবাদে তাদের খরচ হয় প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা।ওই বছর তারা ১২লক্ষাধিক টাকার কুল বিক্রয় করে।প্রথম দু জায়গাতে প্রায় চারশ গাছ লাগিয়েছেন। বর্তমানে এদের মোট সাতকানি জায়গাতে ১৬০০ কুলগাছ রয়েছে। প্রথম বছর প্রতি গাছে গড়ে আট থেকে দশ কিলো কুলের ফলন হয়েছিল। দ্বিতীয় বছর প্রতি গাছ পিছু ফলন হয়েছিল গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কিলো, তৃতীয় বছর অর্থাৎ এবছর প্রতি গাছে ৩৫ থেকে ৪০ কিলো করে কুলের ফলন হচ্ছে। যা অধিক মুনাফার জন্য অত্যন্ত লাভজনক।এ বছর কুলের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার কুল বিক্রি হচ্ছে। এ বছর কুলের ফলন দেখে ধারণা করা হচ্ছে এবার প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা মুনাফা হতে পারে। জানা গেছে, যে নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে তারা কুল চাষের পদতি রপ্ত করেছিলেন তার চাইতেও অনেক বেশি পরিমাণ জায়গা নিয়ে বর্তমানে শামসুল হোসেনদের কুল চাষ চলছে। বর্তমানে তাদের জমিতে মোট চার প্রকারের কুল রয়েছে।

বল সুন্দরী কুল, ভারত সুন্দরী কুল যা আবার মিস ইন্ডিয়া কুল নামেও এলাকায় পরিচিত, টাইগ্রিন আপেল কুল, কাশ্মিরী আপেল কুল। প্রতিটি প্রজাতির কুলই অত্যন্ত সুস্বাদু। তার মধ্য থেকে যেমন টাইগ্রিন আপেল কুল আকারে অনেকটা বড়।প্রতিটি কুলের ওজন প্রায় দেড়শ দুশো গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং খেতেও খুব সস্বাদ।তার মধ্য থেকে যেমন টাইগ্রিন আপেল কুল আকারে অনেকটা বড়। প্রতিটি কুলের ওজন প্রায় দেড়শ দুশো গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং খেতেও খুব সুস্বাদু। বাজারে এই কুল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কিলো দরে। তবে সবচাইতে সুস্বাদু হলো বল সুন্দরী ও কাশ্মীরি আপেল কুল যা বাজারে প্রায় ১৬০ টাকা কিলো করে বিক্রি হয়। এবং মিস ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারত সুন্দরি কুল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কিলো দরে। ওই দিন কথা বলতে বলতে দেখছিলাম ধর্মনগর থেকে শুরু করে দামছড়া, খেদাছড়া, পানিসাগর বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক ছুটে এসে কুল ক্ষেতের পাশে থাকা সলমানদের ছোট্ট কুলের দোকানে ভিড় জমিয়ে তাদের চাহিদা মতো পছন্দের কুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সালমান জানিয়েছে, আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে তাদের কূল বিক্রি। তারপর তারা কুল গাছগুলোর গোড়ার কিছুটা উপরে কেটে ফেলবে। ধীরে ধীরে বর্ষার মরশুমে সেখান থেকেই নতুন ডালের সৃষ্টি হবে। ধীরে ধীরে সেই ডাল বেড়ে উঠে তাতেই আগামী বছরের কুলের ফলন হবে। বর্তমানে তারা কুল বিক্রির সাথে সাথে বিভিন্ন প্রজাতির কুলের চারা বিক্রি করছেন। কুলের পাশাপাশি বাজারে চারা গাছের চাহিদাও রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। পানিসাগরের বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে অনেকেই তাদের কাছ থেকে চারা নিয়ে কুল চাষের উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকী তাদের কুল ক্ষেতের আশেপাশে অনেক কৃষকরা ধান কিংবা সবজির চাষ বাদ দিয়ে কুলের চাষ শুরু করেছেন। অধিকাংশের সফলতা আসছে। পানিসাগরে বিভিন্ন দিকে বাজারে ও আশপাশ এলাকায় রাস্তার ধারে ধারে এ বছর কুল বিক্রির হিড়িক চলছে। যা অন্যান্য বছর লক্ষ্য করা যেতো না। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে অনেকেই এখন কুল চাষে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু ওইদিন তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কৃষি দপ্তর থেকে তেমন কোনো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি তাদের। প্রথম প্রথম এক দুইবার এসেছিলেন কিছু ছবি সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে দপ্তর। এতেই শেষ। তবে কৃষি দপ্তর যদি কুল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে পারে তবে অন্যান্য কৃষকদেরও কম খরচে অধিক মুনাফা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।