জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
মহাকাশে নতুন ইতিহাস
এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যখন সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।দুই দেশের কূটনৈতিক সংঘাত যখন একপ্রকার চরমে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই চলমান অস্থিরতা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। ঠিক তখনই ভারত গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়ে ফের একবার মহাকাশে ইতিহাস রচনা করলো। বছর শেষে এবং বড়দিনের ঠিক আগের দিন গোটা বিশ্ববাসীকে বিশেষ উপহার দিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’। একইসাথে আরও এক সাফল্যের মাইলফলক অর্জন করলো ‘ইসরো’। বুধবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটা থেকে সবথেকে ভারী কৃত্রিম উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ করলো ‘ইসরো’।
খবরে প্রকাশ আমেরিকার ‘ব্লু বার্ড ব্লক-২’ নামে একটি পরবর্তী প্রজন্মের অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইটকে, ইসরো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট এলভিএম-৩ এর মাধ্যমে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা এই রকেটকে ‘বাহুবলী’ নাম দিয়েছেন। ইসরোর এই সাফল্য কেবলমাত্র প্রযুক্তিগত কৃতিত্ব নয়, ইসরোর এই সাফল্য ভারতকে মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য গ্লোবাল লিডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমনটাই অভিমত আন্তর্জাতিক মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। ইসরোর এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে আরও অনেকেই। শুধু তাই নয়, ইসরোর এই সাফল্যে গর্বিত এবং আনন্দিত গোটা দেশবাসীও।
ইসরোর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের যুবশক্তির হাত ধরেই দেশের মহাকাশ গবেষণা ও কর্মসূচি আরও আধুনিক এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারতের তরুণদের উদ্যমেই স্পেস প্রোগ্রাম আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার কথায় ‘এলভিএম-৩’ যেভাবে ভারী উপগ্রহ বহনে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তাতে আকাশযানের মতো ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের ভিত আরও মজবুত হয়ে গেল।পাশাপাশি বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ পরিষেবা বাড়ানো ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার পথও খুলে গেল। এই সাফল্যের কারণে আগামী প্রজন্ম আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করবে।’
প্রথমে সময় নির্দিষ্ট করা ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হবে। কিন্তু মহাকাশের বর্জ্য ও অন্যান্য কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণের সময় ৬০ সেকেন্ড পিছিয়ে দেয় ইসরো। সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ভারতের ‘বাহুবলী’ রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিল ৬,১০০ কেজি ওজনের মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ। এর আগে এত ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেনি ইসরো।’ কিন্তু বুধবার ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো তাদের এলভিএম-৩ এম ৬ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে মহাকাশে পাঠিয়ে ইতিহাস গড়ল।
ইসরো থেকে জানানো হয়েছে, উৎক্ষেপণের প্রায় পনেরো মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ব্লু বার্ড ব্লক-২। এরপর প্রায় ৫২০ কিলোমিটার উচ্চতায় নির্ধারিত কক্ষপথে গিয়ে থিতু হবে। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণ জানিয়েছেন, ভারতের মাটি থেকে এর আগে এত ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হয়নি। এরজন্য ৪৩.৫ মিটার উঁচু এলভিএম৩-এম৬ রকেটটিকেই এই কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। ভারী কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম এলভিএম৩ রকেটগুলির মধ্যে এটি ষষ্ঠ সংস্করণ। জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনে সরাসরি উচ্চগতির সেলুলার ব্রডব্যান্ড সরবরাহ করার জন্য এই উপগ্রহটি ডিজাইন করা হয়েছে। এক কথায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও প্রযুক্তিগত বিপ লব ঘটবে। এটি মহাকাশ থেকেই সরাসরি পৃথিবীর সাধারণ স্মার্টফোনে হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড সিগন্যাল পাঠাতে সক্ষম। এরজন্য কোনও টাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। সব মিলিয়ে আজকের দিনটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর সাফল্যের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হয়ে থাকবে।