January 7, 2026

ভাষণ ও প্রতিশ্রুতিই সার,কৃষকরা পাশে পাচ্ছেন না নেতা মন্ত্রীদের, ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ পরিবার!!

 ভাষণ ও প্রতিশ্রুতিই সার,কৃষকরা পাশে পাচ্ছেন না নেতা মন্ত্রীদের, ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ পরিবার!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ভাষণে কৃষকদের 'অন্নদাতা' বলে সম্মান জানানো হলেও বাস্তবে তাদের সমস্যার সমাধানে কার্যত পাশে নেই শাসকদলের নেতা, মন্ত্রীদের অনেকেই। স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সমেত নেতাদের বারবার জানিয়েও গত এক বছরেরও বেশি সময় যাবৎ সামান্য একটি সমস্যার সমাধান না হওয়ায় জমিতে জলসেচ নিয়ে মহা বিপাকে নলছড় বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন সোনামুড়ার বটতলির সুইস গেট সংলগ্ন এলাকার বড়দোয়াল চরের পঞ্চাশ থেকে ষাটজন কৃষক। গত এক বছরেও এই অন্নদাতাদের খোঁজখবর নেওয়ার বা সমস্যাটি সমাধান করে দেওয়ার সময় মেলেনি এলাকার পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানের। সমস্যা সমাধানে কোন হেলদোল নেই সংশ্লিষ্ট সেচ দপ্তরের। যার ফলে নিজেদের উদ্যোগে বহু কষ্টে সেচের জলের ব্যবস্থা করা হলেও উল্লেখিত এলাকার প্রায় দুশো থেকে আড়াইশ কানি জমিতে ধান সহ শীতকালীন সবজি ফলিয়ে আশানুরূপ লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না সমস্যাপীড়িত কৃষকরা। অভাবে আড়াইশ কানির বিরাট অংশ পরিণত হয়েছে পতিত জমিতে।গত প্রায় দুই বছর আগে সোনামুড়া-মেলাঘর মূল সড়কের বটতলি এলাকার সুইস গেট সংলগ্ন সেচ দপ্তরের প্রায় ত্রিশ বছর পুরনো সেচের জলের মেশিন ঘরটি স্থানান্তরিত করে কিছুটা উত্তর দিকের মন্নান মিয়ার জমিতে নিয়ে বসানো হয়। এই সড়কটি আগের তুলনায় কিছুটা প্রশস্ত করা হয়েছে। যার ফলে পুরনো ফ্লুইস গেটের বিপরীত পাশে নতুন ফ্লুইস গেট নির্মাণের কাজ চলছে। এই নতুন সুইস গেট নির্মাণের স্বার্থেই সেচ দপ্তরের মেশিন ঘরটি স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়ে পরে। সমস্যাপীড়িত কৃষকরা জানিয়েছেন শর্ত সাপেক্ষে তখন ওই সেচের পাম্প মেশিন নিজের জমিতে বসানোর অনুমতি দিয়েছিলেন মন্নান। সে সময় নলছড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সমেত স্থানীয় নেতা এমনকী দপ্তরের আধিকারিকরা মন্নানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেশিন বসানোর জন্য জায়গা দানের বিনিময়ে তার ছেলেকে পাম্প অপারেটরের চাকরি দেওয়া হবে। এই শর্তেই তিনি সরকারী কাজের জন্য জায়গা ছাড়েন। তখন এও বলা হয় বর্তমান অপারেটর আতিকুল ইসলামের চাকরির শেষে মন্নানের ছেলেকে দেওয়া হবে এই কাজ। বর্তমানে আতিকুলের এই চাকরির সময়সীমা রয়েছে আর দেড় বছরের মতো। এই অবস্থায় প্রথম বছর কোন সমস্যা হয়নি। মন্নানের জমিতে বসানো পাম্প থেকেই এই বিরাট অংশের জমির সেচের ব্যববস্থা হয়েছিল। কিন্তু গত বছর থেকে বেঁকে বসেন মন্নান। তিনি আর তার জমিতে থাকা মেশিন চালাতে দিচ্ছেন না। যার ফলে জল সমস্যা শুরু হয় প্রায় আড়াইশ কানি জমির ষাটজন কৃষকের।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন এর ফলে গত আমন ধানের মরশুমেও তারা ঠিকভাবে চাষবাস করতে পারেননি। এখন বোরো ধান লাগানোর আগেও একই সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। গত এক বছর যাবৎ ঘন্টায় আড়াইশো থেকে তিনশো টাকার বিনিময়ে ছোট পাম্প মেশিন ভাড়া এনে তাদের চাষবাস করতে হচ্ছে। এতে মরশুমে কানি প্রতি তাদের অন্তত ছয়-সাত হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। অনেকের জমি পতিত পড়ে রয়েছে। শীতকালীন সবজিও উৎপাদন করতে পারছেন না সকলে। মিজানুর রহমান নামের এক কৃষকের পনেরো-ষোল কানি জমি জলের অভাবে দুই বছর যাবৎ পতিত। সমস্যার কথা নলছড় পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাস, স্থানীয় শাসক দলীয় নেতা এমনকী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের বারবার জানিয়েও লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *