বুধবার | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বেসরকারী বিনিয়োগেও জোয়ার এসেছে: মুখ্যমন্ত্রী!!

 বেসরকারী বিনিয়োগেও জোয়ার এসেছে: মুখ্যমন্ত্রী!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- নীতি আয়োগের স্টেট সাপোর্ট মিশনের অন্তর্গত পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নিয়ে আয়োজিত তৃতীয় আঞ্চলিক কর্মশালার উদ্বোধন করে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুশাসন মানে শুধু সরকার পরিচালনা নয়। বরং প্রতিটি নাগরিকদের জীবনকে উন্নত করাই হচ্ছে সুশাসন। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই ভাবনাকে পাথেয় করেই রাজ্যের উন্নতির ধারাকে অব্যাহত রেখেছে।নীতি আয়োগ এর সাথে জাতীয় পর্যায়ের এই কর্মশালার আয়োজনে অংশীদারিত্ব করে ত্রিপুরা সরকার এবং ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন (টিআইএফটি)।রাজধানী আগরতলার বেসরকারী একটি হোটেলে আয়োজিত কর্মশালায় মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই হলো প্রকৃত উন্নয়নের চাবিকাঠি। এই লক্ষ্যেই রাজ্যে সুশাসন দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় নীতি আয়োগের নির্দেশনায় গড়ে তোলা হয়েছে ত্রিপুরা ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন (টিআইএফটি)। যা বর্তমানে দেশের প্রথম সারির সাতটি রাজ্য প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।


এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে রাজ্যের এক শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, স্টেট সাপোর্ট মিশন ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অংশীদারিত্বভিত্তিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নীতি আয়োগ রাজ্যগুলিকে তাদের স্টেট ইনস্টিউশন ফর ট্রান্সফরমেশন শক্তিশালী করার সুযোগ প্রদান করেছে। টিআইএফটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রণয়নের ভূমিকা রেখেছে। এছাড়াও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে চলছে সফলভাবে।রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের একমাত্র যেখানে মন্ত্রিসভা থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত পেপারলেস প্রশাসন কার্যকর রয়েছে। সামাজিক কল্যাণমূলক ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সরাসরি বেনিফিসিয়ারি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ডিজিটালি প্রদান করা হচ্ছে। ‘ডিস্ট্রিক্ট গুড গভর্ন্যান্স ইনডেক্স’ চালু করা হয়েছে। ইজ অব ডুইং বিজনেসের ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।


তিনি বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে প্রকাশিত ইকোনমিক সার্ভে ২০২৫-২৬ এ ত্রিপুরার সুশাসন এবং টিআইএফটির কাজেরও বিশেষ প্রশংসা করা হয়। আরও বলেন, রাজ্যে বেসরকারী বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে ত্রিপুরার অগ্রণী ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্ষদের (এনইসি) মাধ্যমে তাকে এই অঞ্চলের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো ও লজিস্টিক্স বিষয়ক উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্ক ফোর্সের আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নতি স্বীকৃতি স্বরূপ গত আট বছরে রাজ্য ৩৪৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক পুরস্কার অর্জনে সক্ষম হযেেেছ। এটা নি:সন্দেহে সুশাসনের স্বীকৃতি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারত-২০৪৭’ গড়ার ক্ষেত্রে ত্রিপুরাও ওঁৎপ্রোতভাবে যুক্ত। আরও বলেন, সুশাসন কোনও লক্ষ্য নয় বরং এটি একটি নিরন্তর জনকল্যাণমূলক সেবাযাত্রা। এই তৃতীয় আঞ্চলিক কর্মশালার মাধ্যমে পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি একে অপরের অভিজ্ঞতারআদান-প্রদানের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মশালায় মুখ্যসচিব জে কে সিনহা বলেন, নীতি আয়োগের স্টেট সাপোর্ট মিশনের অধীনে আয়োজিত এই আঞ্চলিক কর্মশালা ত্রিপুরার জন্য একটি মাইলফলক। এটি ত্রিপুরার উন্নয়ন যাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বর্তমানে ত্রিপুরা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি অগ্রণী উন্নয়নমূলক রাজ্য হিসেবে গড়ে উঠতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এছাড়াও সুশাসন দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে এই দিনটি ঐতিহাসিক। এ দিন তিনি টিআইএফটির সার্বিক কর্মপ্রণালী সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। স্টেট সাপোর্ট মিশন, নীতি আয়োগের যুগ্ম সচিব ও মিশন অধিকর্তা কে এস রেজিমন, নীতি আয়োগের অতিরিক্ত সচিব রোহিত কুমার সহ আরও অনেকেই ভার্চুয়ালি অংশ নেন এই কর্মশালায়।



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *