জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
বিনা নীতিতে সিনিয়র রেসিডেন্ট নিয়োগ এজিএমসিতে: ক্ষোভ!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-এক বেআইনি ও নীতিহীন প্রশাসনিক নির্দেশ ঘিরে ত্রিপুরা সরকারের চাকরিরত চিকিৎসক মহলে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও জিবি হাসপাতালের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এক অফিস আদেশে একাধিক সরকারী চিকিৎসককে এক বছরের জন্য সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক মহলের মতে, এই নির্দেশ সাংবিধানিক কাঠামো, পরিষবা আনি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।চিকিৎসকদের বক্তব্য, সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছরের অভিজ্ঞতা বর্তমানে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে পদোন্নতির জন্য একটি বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। ফলে সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ কোনো সামজিক দায়িত্ব নয়, বরং সরকারী চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি ও অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। এই প্রেক্ষিতে এমন গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে সিনিয়রিটি, স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ- এই তিনটি মৌলিক নীতি অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।সবচেয়ে বড় গুরুতর অভিযোগ হল- এই নির্দেশ জারির ক্ষেত্রে সিনিয়রিটির কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। একই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বহু সিনিয়র সরকারী চিকিৎসককে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সরকারী চাকরিতে সিনিয়রিটি একটি প্রতিষ্ঠিত ও বাধ্যতামূলক মানদণ্ড। তা উপেক্ষা করে নির্বাচন করা হলে সেটি স্বেচ্ছাচারিতা (arbitrariness) ছাড়া আর কিছু নয়।
এছাড়া, এই নিয়োগের জন্য ত্রিপুরা সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি, বিধি বা বিজ্ঞপ্তি বিদ্যামান আছে বলে জানা নেই। কোনো ক্যাডার রুল, সার্ভিস রুল বা সরকারীভাবে অনুমোদিত পলিসি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ আইনসম্মত প্রশাসনের ধারণাকেই ভেঙে দেয়। চিকিৎসক মহলের বক্তব্য, নীতিহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে টেকসই হতে পারে না।এই প্রেক্ষিতে সংবিধানের ১৪ ও ১৬ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অনুচ্ছেদ ১৪ আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও স্বেচ্ছাচারিতা থেকে সুরক্ষা দেয়, আর অনুচ্ছেদ ১৬ সরকারী চাকরিতে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। কিন্তু সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে, কোনো নীতিগত কাঠামো ছাড়াই,সীমিত কয়েকজন চিকিৎসককে এমন একটি ক্যারিয়ার-নির্ধারক সুযোগ দেওয়া স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এর ফলে বহু যোগ্য ও সিনিয়র সরকারী চিকিৎসক পিজি ডিগ্রি অর্জনের পরেও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে পদোন্নতির যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত হবেন। অন্যদিকে, এই নির্দেশের আওতাভুক্ত চিকিৎসকেরা অগ্রাধিকারমূলক অবস্থানে চলে যাবেন। এই বৈষম্য কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, এটি সরকারী পরিষেবা ব্যবস্থার ভিতকেই দুর্বল করে দেবে বলে মত চিকিৎসক মহলের।
আরও প্রশ্ন উঠছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নিয়েও। যেহেতু এই নির্দেশ ত্রিপুরা সরকারের অধীন সমস্ত সরকারী চিকিৎসকের পরিষেবা শর্তকে প্রভাবিত করে, সেক্ষেত্রে এটি গভর্নরের নামে, যথাযথ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জারি হওয়া প্রয়োজন ছিল। একজন কলেজ অধ্যক্ষ বা একটি নির্দিষ্ট দপ্তরের প্রশাসনিক অনুমোদনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার শামিল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
প্রসঙ্গত, এই বিষয়ে চিকিৎসকেরা আগেই স্বাস্থ্য দপ্তরের ডিরেক্টরের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে সংবিধানসম্মত অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই আশ্বাস কার্যকর না হওয়া! ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বে থাকলেও, তার জ্ঞাতসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চিকিৎসক মহলের স্পষ্ট বক্তব্য- সিনিয়রিটি উপেক্ষা, নীতির অনুপস্থিতি এবং সংবিধানের ১৪ ও ১৬ অনুচ্ছেদের প্রকাশ্য লঙ্ঘনের উপর দাঁড়িয়ে কোনো প্রশাসনিক আদেশ আইনি পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারে না। অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে সকল সরকারী চিকিৎসকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ ও বিধিসম্মত নীতি প্রণয়ন না করলে, বিষয়টি অনিবার্যভাবে আইনি লড়াই ও বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক আন্দোলনের দিকে এগোবে।