বিধানসভা বসছে আজ বাজেট পেশ সোমবার
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১২ মার্চঃ পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে ত্রয়োদশ বিধানসভার নবম অধিবেশন। এই সময়ের মধ্যে মোট ৯ দিন কার্যদিবস বা সিটিং ডে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল এবং জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নান্নু এই বাজেট অধিবেশন আহ্বান করেছেন। রীতি অনুযায়ী প্রথম দিনে রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সম্প্রতি প্রয়াত প্রাক্তন স্পিকার বিশ্ববন্ধু সেন-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রস্তাব ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পর অধিবেশন মূলতবি রাখা হবে।

এরপর ১৬ মার্চ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করবেন। বাজেট পেশের পর অর্থমন্ত্রী বাজেট সংক্রান্ত ভাষণ দেবেন এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ও আর্থিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।

বাজেট পেশের পরবর্তী দিন ১৭মার্চ বিধানসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করার পরিকল্পনা বিধানসভা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস বিল, যার মাধ্যমে রাজ্যে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি বিল এবং উইমেন্স ইউনিভার্সিটি বিল বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে। এই বিলগুলিকে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৮ মার্চ থেকে রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা শুরু হবে, যা দুই দিন ধরে চলবে। এই আলোচনায় শাসক ও বিরোধী দলের সদস্যরা রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরবেন। ১৯ মার্চ থেকে বাজেটের উপর বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। পরবর্তী দিনগুলিতে বিধায়করা বিভিন্ন দপ্তরের বরাদ্দ, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করবেন।
২৫ মার্চ অধিবেশনের শেষ দিনে বাজেট সংক্রান্ত আলোচনার সমাপ্তি ঘটবে এবং বিধানসভায় বাজেট পাস করা হবে। এদিকে জানা গেছে, বিভিন্ন ইস্যুতে এবার বিধানসভায় বিরোধীরা সরব হবে। অন্যদিকে, বিরোধীদের মোকাবিলায় রণকৌশল তৈরি করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে শাসকদলের সমস্ত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।