January 6, 2026

বিদ্যুৎ সুরক্ষায় নজির,এসএলডিসি’র,উত্তর-পূর্বে প্রথম আইএসও সার্টিফিকেশন পেলো ত্রিপুরা!!

 বিদ্যুৎ সুরক্ষায় নজির,এসএলডিসি’র,উত্তর-পূর্বে প্রথম আইএসও সার্টিফিকেশন পেলো ত্রিপুরা!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও পরিষেবাক্ষেত্রে আরও এক গর্বের অধ্যায় যুক্ত হলো। ত্রিপুরা স্টেট লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার সংক্ষেপে (এসএলডিসি) উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের আইএসও / আইইসি ২৭০০১:২০২২ সাইবার সিকিউরিটি সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে। এই স্বীকৃতি রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে দাবি করা হয়েছে। 
বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড-এর ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি রাজ্যের স্টেট লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার- এর জন্য এই সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক। এর উদ্দেশ্য হলো জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলিকে ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখা।তিনি জানান, এসটিকিউসি-এর মাধ্যমে পরিচালিত সিস্টেম সার্ভিল্যান্স অডিটে চিহ্নিত বিভিন্ন ত্রুটি- যেমন বায়োমেট্রিক অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, ইউজার আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্ট, ইন্টেলিজেন্ট থ্রেট সিস্টেম, ভেসডা স্মোক ডিটেকশন ও ফিজিক্যাল সিকিউরিটি, ইত্যাদি সংশোধনের পর ভারত সরকারের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক এই মর্যাদাপূর্ণ সার্টিফিকেশন প্রদান করেছে।নিগমের ২২তম প্রতিষ্ঠা দিবসে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যদিও রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম গঠিত হয়েছে ২০০৪ সালে, তবে ত্রিপুরার বিদ্যুৎ খাতের যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৮৯ বছর আগে, ১৯৩৭ সালে। রাজন্য শাসনের সময় ডিজেল ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৫ সাল থেকে রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রূপ নিয়েছে। ২০০৫ সালে যেখানে বিদ্যুৎ গ্রাহকের -- সংখ্যা ছিল মাত্র ৩.৯ লক্ষ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫.৭ লক্ষ। বিদ্যুৎ পরিকাঠামোতেও এসেছে অভূতপূর্ব অগ্রগতি। ১৩২ কেভি ও ৩৩ কেভি সাব--স্টেশন এবং ট্রান্সমিশন লাইনের বিস্তার রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়নের মূল ভিত্তি। তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জনমুখী করতে একাধিক সংস্কার আনা হয়েছে। লোডশেডিং এখন অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। স্মার্টমিটার ও স্বচ্ছ বিলিং চালু হয়েছে। গ্রাহকরা ঘরে বসেই বিল পরিশোধ করতে পারছেন। ২৪X৭ কল সেন্টার, দ্রুত ত্রুটি সারাই পরিষেবা ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে রাজ্যে বিদ্যুৎ নিগম আজ একটি আধুনিক – পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই চাহিদা পূরণে গ্যাস, সৌর ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রুখিয়া ১২০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল প্রকল্প, গোমতী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরুদ্ধার, ৮০০ মেগাওয়াট পাম্প স্টোরেজ প্রকল্প এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এরই অংশ।তিনি আরও জানান, আগরতলা পৌর নিগম এলাকায় সম্পূর্ণভাবে আণ্ডার গ্রাউণ্ড কেবল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইভ লাইন মেইনটেন্যান্স, ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান হেমন্ত ভার্মা, বিদ্যুৎ নিগমের এমডি বিশ্বজিৎ বসু সহ বিশিষ্ট জনেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *