January 8, 2026

বাতাসে বিষ!!

 বাতাসে বিষ!!
ভয়ানক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে দিল্লীর দূষণ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকার হাত তুলে দিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি তো নয়ই, বরং দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এর প্রতিকার কী? কী ব্যবস্থা নিলে দিল্লীর দূষণ কমবে- তা নিয়ে যেন কারোর কোনো হেলদোল নেই। অতি সম্প্রতি দিল্লীর বিজেপি সরকারের পরিবেশমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যেকেই হাত তুলে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন সময় দিল্লী সরকারকে ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছিলো। কিন্তু কোনো ওষুধেই যেন দিল্লীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই অবস্থা বেশিদিন চললে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা ভেবে অনেকেই আঁতকে উঠছেন। সদ্য সমাপ্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এনিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলো বিরোধীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়নি। এর দায়ও বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়েছে বিজেপি তথা শাসক শিবির। আদতে এই আলোচনা হলেও এতে কাজের কাজ কিছু হতো কিনা তা বলা মুশকিল।
দিল্লীতে দূষণ আজকের সমস্যা না। পৃথিবীর পাঁচটি দূষণযুক্ত শহরের মধ্যে দিল্লী একটি। সে জন্য ভারতের প্রথম শহর হিসাবে দিল্লীতে সিএনজি চালু হয়। দিল্লী একটি ছোট শহর। এর পরিধি তেমন বিশাল নয়। কিন্তু তাকে ঘিরে রেখেছে বিরাট এলাকা। একদিকে হরিয়ানা অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ। উত্তরপ্রদেশের শিল্পাঞ্চলগুলি দিল্লীর একেবারে লাগোয়া। তেমনি হরিয়ানার একেবারে সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চল হচ্ছে দিল্লী। বাইরে থেকে প্রতিদিন প্রচুর গাড়িঘোড়া দিল্লীতে প্রবেশ করে। ফলে দিল্লীর উপর বেজায় চাপ বাড়ে। এ অবস্থা যে একদিনে হয়েছে এমনটা নয়। দিনদিনই তা বেড়েছে বৈ কমছে না। গোটা বছরই দিল্লীর দূষণ একটি চর্চার বিষয়। কিন্তু অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে দিল্লীর উপর দূষণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। একদিকে ধোঁয়া, অন্যদিকে দূষণ- সব মিলিয়ে ধোঁয়াশায় দিল্লীর জনজীবন একেবারে বেহাল হবার উপক্রম। পাকিস্তান, রাজস্থান, হরিয়ানার দিক থেকে প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে খেতের খড় পোড়াবার ফলে প্রচুর ধোঁয়া দিল্লীতে প্রবেশ করে। এর উপর রয়েছে দিল্লীর মাত্রাতিরিক্ত দূষণ। ফলে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশা। এই ধোঁয়াশার জেরে দিনের বেলায় একটা অস্বস্তির পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়। এটা প্রতিবছরই অক্টোবর-নভেম্বর মাসে শুরু হয়। চলে একেবারে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। এবার সেই দিল্লীর দূষণ একেবারে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দিল্লীর বিজেপি সরকার দূষণের দায় চাপাতে ব্যস্ত পূর্বতন আপা সরকারের উপর। দিল্লীর দূষণের সূচক এই মুহূর্তে মারাত্মক উদ্বেগজনক। দিল্লীর বাতাসে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) এর মান ২০০-এর গণ্ডি ছাড়িয়েছে ইতোমধ্যেই। কিন্তু সূচক দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী চললেও দিল্লী সরকার কিছু ব্যবস্থা নিয়েই দায়িত্ব খালাস করছে। বলা যায় প্রকৃতির উপর পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে বিষয়টি। যে ব্যবস্থা দিল্লী সরকার নিয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন দিল্লীর দূষণ রুখতে।দিল্লী সরকারকে এই ব্যবস্থা নিলে চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকারকেও অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে। কেননা দিল্লীর এই দূষণ সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি। এর আগেও দিল্লী সরকার দূষণে লাগাম পরাতে একাধিক ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছিলো। কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছু নি। দূষণ তো কমেইনি, উল্টো বেড়ে গেছে। সুতরাং দিল্লীর দূষণ কাবিলায় কেন্দ্র এবং দিল্লী সরকারকে অবিলম্বে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নওয়া প্রয়োজন। দিল্লীতে রীতিমতো এমন অবস্থা চলছে যে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া মুশকিল। বাতাসে শুধু বিষ উড়ছে। ভয়ানক পরিস্থিতি। এর পরিণতি কী হতে যাচ্ছে তা ভাবলে গা শিউরে উঠছে। অবিলম্বে সরকারকে ভাবনাচিন্তা করতেই হবে। ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবার আগে বিকল্প চিন্তাভাবনা করা আশু প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *