জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
ফেনীর তীরে এক স্বপ্নের জগতে!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-ফেনী নদীর অববাহিকার প্রান্তিক গ্রাম ছোটখিল। একসময় নিস্তরঙ্গ, সাধারণ জীবনের এই গ্রামে ২০১৬-১৭ সালে শুরু হয়েছিল এক অসাধারণ যাত্রা- মাত্র সাতটি শূকর নিয়ে গড়ে উঠেছিল একটি ক্ষুদ্র ফার্ম। ছয়টি স্ত্রী এবং একটি পুরুষ শূকর দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ তা রূপ নিয়েছে দেড় হাজার শূকরের বিশাল খামারে। এই আশ্চর্য যাত্রার প্রথম পথিক ছোটখিল এলাকার কৃষক মৃণালকান্তি দাস। বর্তমানে তাঁর বার্ষিক টার্নওভার ছয় থেকে সাত কোটি টাকা, যা শুধু সাব্রুম বা দক্ষিণ জেলার গণ্ডিতে আটকে নেই। রাজ্যের বাইরেও পরিচিতি রয়েছে মৃণালের শূকর ফার্মের।সাক্রম সদর থেকে ছোটখিল-থাইবুং রাস্তার পাশে সাড়ে তিন কানি জমি জুড়ে সাজানো মৃণালের ফার্ম। আট থেকে দশ শ্রমিক প্রতিদিন পালা করে কাজ করেন এখানে। সাধারণ লোকের ফার্মে প্রবেশ নিষিদ্ধ- যে কোনো কারও ঢুকতে হলে সম্পূর্ণ স্যানিটেশন প্রক্রিয়া মেনে ভেতরে ঢুকতে হবে।ফার্মকে জীবাণুমুক্ত রাখাই প্রথম শর্ত। মৃণাল জানান, শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া সাতটি শূকরই তার মূলধন। 'অভিজ্ঞতা ছিলো না, ছিলো শুধু ইচ্ছাশক্তি,'- বলতে গিয়ে তিনি জানান, এলাকার মানুষের পরামর্শ, আর পশু পালন দপ্তরের কর্মীদের সহযোগিতাই তার সাহস বাড়িয়েছে।আজ ফার্মে তিনশোটি ফিমেল শূকর রয়েছে। নিয়মিত বাচ্চা উৎপাদন হয়। সরকারী নিয়ম মেনে প্রতি বছর পশু পালন দপ্তর তার খামার থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে। বেসরকারী সংস্থা থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থ- নিয়মিত বাচ্চা কিনে নিয়ে যান।চব্বিশ ঘন্টা নজরদারি চলে তাদের উপরে।নিয়ম করে তাদের খাওয়াদাওয়া থেকে প্রয়োজনীয় অষুধপত্র সব যথাসময়ে করা হয়। একটাই লক্ষ্য, পুরো ফার্মকে রোগমুক্ত, জীবাণুমুক্ত রাখা। কোভিড-এর দিনগুলির কথা সে আজও ভুলতে পারেনি। বিশাল ক্ষতির মুখ দেখতে হয়েছিল। শূকর পালন যেহেতু অতি স্পর্শকাতর তাই সবসময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে। ফার্মের ভিতরে আস্ত ফার্মাসি। মৃণাল শুধু শূকর পালনে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তার বিস্তৃত ফার্মে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল, রেওয়াজি খাসি ছাড়াও হাঁস, মোরগ ও গরু। রয়েছে কৃষিকাজ ও মাছ চাষ। ধান থেকে তিল, আলু, শীতকালীন সবজির চাষ হচ্ছে এখন। গ্রীষ্মের পটল আর করলা সব হয় এই জমিতে। সবক্ষেত্রেই তিনি সফল।
পশুপালনের পাশাপাশি কৃষিতেও তাঁর সাফল্য আজ দক্ষিণ জেলার সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্যজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। চলতি বছরে বিশিষ্ট কৃষক হিসেবে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথের হাত থেকে বিশেষ সম্মান গ্রহণ করেন।কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কাজে লাগাচ্ছেন। অন্যদিকে পশুপালন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের দল তার ফার্ম নিয়ে গর্ব করেন। এক পরিশ্রমী কৃষকের মতো চাষ ও কৃষি ছাড়া ভাবনার আর কোনো বিষয় নেই। সকাল থেকে রাত অবধি কীভাবে ফার্মকে আরো উন্নতি করা যায় সেই কাজটাই করে চলছে। মৃণালের সাফল্য দেখতে -আজ রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে লোক আসছে প্রতিদিন, কীভাবে শূকর পালন করা হচ্ছে! মৃণালের বক্তব্য, শুধু উচ্চশিক্ষিত বেকার বেকার বলে লাভ নেই, একটু সাহস আর বুদ্ধি রেখে কাজ করলে যে কোনো কাজে সাফল্য আসে। সততা আজও মরে যায়নি বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পশু পালন আর কৃষির পাশে তিনি সাক্রম মহ কুমার একজন মৎস্য চাষি হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন। নিজের পাঁচ কানি জলাশয়ের পাশাপাশি বার্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে আশপাশের গ্রামের দশ-পনেরোটি বড় পুকুর নিয়ে বিস্তৃত মাছ চাষ শুরু করেছেন। গলদা চিংড়ি চাষ শুরু হয়েছে। মাছ চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার তার খামারে দেখার মতো।মৃণালের স্বপ্ন- তার কৃষি, পশুপালন এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে আগামী দিনে অন্তত একশ গ্রামের মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা।
ফেনী নদীর অববাহিকায় দাঁড়িয়ে মৃণাল দেখিয়ে দিয়েছেন-পরিশ্রম, সততা ও সাহস থাকলে স্বপ্নের বাস্তবায়ন কঠিন নয়। আজ তার বার্ষিক টার্নওভার ছয় থেকে সাত কোটি টাকা। তার সাফল্য আগামী দিনে বহু যুবকের প্রেরণার উৎস হবে।