August 30, 2025

প্রতিশ্রুতির খেলাপ, হতাশায় যুব সমাজ,বাড়ছে বেকারের সংখ্যা, অধরা নিয়োগ!!

 প্রতিশ্রুতির খেলাপ, হতাশায় যুব সমাজ,বাড়ছে বেকারের সংখ্যা, অধরা নিয়োগ!!

অনলাইন প্রতিনিধি :- রাজ্যে বাড়ছে বেকার।বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সমানুপাতে শূন্যপদে নিয়োগ নেই। গত সাড়ে সাত বছরে রাজ্যে প্রায় ৫৬ হাজার শিক্ষক কর্মচারী অবসরে গেছেন। হাজার হাজার শিক্ষক কর্মচারী অবসরে গেলেও শূন্যপদে প্রায় ১৭হাজার বেকারকে চাকরি দিয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রীতি এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা। সরকারী চাকরির দাবিতে প্রায় প্রত্যেকদিন বেকার বিক্ষোভনাজেহাল হচ্ছেন শিক্ষা দপ্তর, টিপিএসসি, টিআরবিটি, জেআরবিটি সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, ১০৩২৩ শিক্ষক
শিক্ষিকার চাকরি চুক্তির পর থেকেই শিক্ষক সংকটে জেরবার সরকারী বিদ্যালয়। অবাক করার বিষয় হল গত সাত বছরে রাজ্যশিক্ষা দপ্তরের অধীনে ১০ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ দিবাস্বপ্ন। উল্টো গত সাত বছরে দুই ধাপে স্নাতক ও অস্নাতক শিক্ষক পদে মিলিয়ে প্রায় ৫৫৭৮ টি গ্রেজুয়েট এবং আণ্ডার গ্রেজুয়েট শিক্ষকের পদ অবলুপ্ত করে দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। শুধু তাই নয় রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, গ্রুপ এ পদ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার শূন্য পদে এখন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
অন্যদিকে একাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়া আমলাদের দৌলতে যাচ্ছে। মুখ পুড়ছে সরকার।আমলাদের ব্যর্থতার জন্যে গত পাঁচ বছর ধরে রাজ্যে এসটিজিটি (গ্রেজুয়েট টিচার) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ। আমলাতন্ত্রের দৌলতে রাজ্য মন্ত্রিসভা পর্যন্ত হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। ফলে রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে বেকারত্ব। বেকার যুবক যুবতীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশ। ত্রিপুরা ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ বন্ধ। আরক্ষা দপ্তরে ৬০৩৮ টি পদে পুলিশ এগজিকিউটিভ পদে নয়োগ প্রক্রিয়াও লাটে উঠেছে।
অভিযোগ, রাজ্য সরকার টিআরবিটি, টিপিএসসি, জেআরবিটি, টিইএস সহ অন্যান্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যস্ত রয়েছে। অথচ রাজ্যে অর্ধশিক্ষিত বেকার যাদের ডিগ্রি অষ্টম মান উত্তীর্ণ।এই অংশের বেকারদের জন্য গত সাত বছরে রাজ্য সরকারের সাফল্য খুঁজে পাচ্ছেন না বেকাররা। রাজ্যে লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতী অষ্টম মান উত্তীর্ণ ডিগ্রি নিয়ে রাজপথে ঘুরছেন। এদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা করেনি রাজ্য সরকার। অভিযোগও রাজ্য সরকারের কর্ম বিনিয়োগ দপ্তর এই অংশের বেকারের সঠিক তথ্য নেই। রাজ্য কর্ম বিনিয়োগ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ২৮৮ জন বেকার পিএচইডি ডিগ্রি নিয়ে রাজপথে ঘুরছেন। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নথিভুক্ত মোট বেকারের সংখ্যা মোতাবেক পিএইচডি বেকার ২৮৮ জন। এই সংখ্যা আরও বাড়বে।রাজ্যের হাজারো যুবক-যুবতী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি উত্তীর্ণ। তাদের মধ্যে অনেকেই কর্ম বিনিয়োগ দপ্তরের নাম নথিভুক্ত করেনি। রাজ্যে স্নাতকোত্তর বেকার ৬৪০৯৬ জন। স্নাতক বেকার ৮৯০২১ জন। উচ্চতর মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার প্রায় ৫৮১১৭জন। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ডিপ্লোমাধারী বেকারের সংখ্যা ১২৬৪৯ জন।
মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ বেকার ৬৮৬৬৪ জন। অষ্টম মান পর্যন্ত উত্তীর্ণ বেকারের তথ্য পাওয়া যায়নি। আইটিআই উত্তীর্ণ বেকার প্রায় ১২৭৮৭ জন। ইঞ্জিনীয়ার ডিপ্লোমা, মাস্টার ডিগ্রি মিলিয়ে বেকার প্রায় ১৫ হাজার। এমবিবিএস, এমডি, এমএস, বিডিএস, এমডিএস, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক মিলিয়ে বেকার প্রায় ৩ হাজার। নার্সিং উত্তীর্ণ, ল্যাব টেকনিশিয়ান সহ অন্যন্য মেডিকেল কোর্সে উত্তীর্ণ সহ আইটিআই পাস মিলিয়ে বেকার প্রায় ৮ হাজার। বিএড, এমএড, ডিএলএড, বিবিএ, এমবিএ, বিএএলএলবি অনার্স, এলএলবি, এলএলএম মিলিয়ে বেকার প্রায় ১২ হাজার। নেট এবং স্লেট উত্তীর্ণ বেকার প্রায় ১৬৯৯ জন।
অভিযোগ আউট সোসিং পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োজিত বেকারদেরও নিয়মিত সরকারী কর্মচারী বানানোরর এক নয়া প্রবণতা দেখা দিয়েছে রাজ্যে। বেকারত্বের যন্ত্রণা রাজ্যের বেকার বহিঃরাজ্য যেতে বাধা হচ্ছেন। রাজ্য মহাকরণ সূত্রে খবর, সরকারী দপ্তরে এবং সরকার অধিগৃহীত দপ্তরে শূন্য পদের পাহাড়। প্রত্যেক দিন রাজ্য সরকারে বিভিন্ন দপ্তর বহু শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যাচ্ছেন। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর মুখ থুবড়ে পড়েছে।খোদ রাজ্য মহাকরণ এবং বিধানসভা পর্যন্ত কর্মচারী সংকটে ধুকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *