জাঁকিয়ে শীত রাজ্যে।বেশ ক'দিন ধরেই ত্রিপুরার শীত সংবাদ শিরোনামে।শীত নিয়ে প্রবল চর্চা রাজ্যের আনাচে-কানাচে।গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের এই সময়ে শীত যে এখনও স্বমহিমায় বিরাজমান তাই বিরাট ব্যাপার। যেভাবে পৃথিবীর গড় উষ্ণতা দিন দিন বাড়ছে এই নিরিখে শীতও একদিন বোধহয় হারিয়ে যাবে এই প্রকৃতি পরিবেশ থেকে। সেদিন পৃথিবীর ভারসাম্যের কি হবে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হিসাবে দেখা দিয়েছে পরিবেশবিদদের কাছে, আবহাওয়াবিদদের কাছে। এরই মধ্যে যেন প্রাকৃতিক ভারসাম্যও একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে কোথাও অতিবৃষ্টি কোথাও খরা কোথাও বন্যা আবার কোথাও চড়া রোদ। কোথাও আবার প্রচণ্ড গরম তো কোথাও প্রবল তুষারপাত। এই সমস্ত প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটেই চলেছে অহরহ পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে। প্রকৃতির অতি সক্রিয়তার জন্য দায়ী কিন্তু মানুষই। নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্রকৃতির উপর ব্যাপক অত্যাচার করছে, প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে। ফলে সবুজ বনানী, গাছপালা, নদী, নালা, জলবায়ু বাতাস, প্রকৃতি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য কোথাও না কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে। এজন্য কোন প্রাকৃতিক ঘটনাতেও আজকাল আর নিরবিচ্ছিন্নতা নেই। অর্থাৎ সবক্ষেত্রেই প্রকৃতির অতি সক্রিয়তা। যেমন বৃষ্টি হলে তো বৃষ্টি বেশি হচ্ছে, ফলস্বরূপ প্রবল বন্যা ভূমিধস, সম্পত্তিহানি, প্রাণহানি ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। শীতের সময় অতিমাত্রায় শীত, অতিমাত্রায় তুষারপাত, প্রবল শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি ঘটনাও ঘটে। এর জন্য পুরোপুরি দায়ী প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অভাব। এর নেপথে কারিগর হচ্ছে মানুষ। মানুষ তার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য, বিলাস ক্রমবর্ধমান নগরায়ন, শিল্পায়ন ইত্যাদির জন্য প্রকৃতিকে নির্বিচারে ধ্বংস করছে, গাছ কাটা হচ্ছে, বন নিধন হচ্ছে, এক কথায় পরিবেশকে ধ্বংস করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশের উপর চাপ বাড়ছে এর ফলেই প্রাকৃতিক ভারাসাম্য একদিকে নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে প্রকৃতিও অতি সক্রিয়তা দেখাচ্ছে অনেক সময়।
আজকের দিনে উত্তরাখণ্ড, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে প্রকৃতির উপর নির্যাতনের। ফলে সেই সমস্ত অঞ্চলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টি শীতের সময় অতি মাত্রায় শীত ইত্যাদি প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটছে আবার এমনও হচ্ছে এই সমস্ত অঞ্চলগুলি আগে সারা বছর শীত মরশুম থাকতো। এখন আর সেই সমস্ত জায়গাগুলিতে সারা বছর শীত থাকে না। শুধু শীত সময়ে শীত পড়ে।আবার অনেক ক্ষেত্রে শীত যখন পড়ে তাতে শীতের অতি সক্রিয়তা পরিলক্ষিত হয়।এর জেরে প্রবল ঠাণ্ডা তয়ারপাত ইত্যাদিও হয়। এরপরও বলা যায় হিমাচল প্রদেশ উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ অংশ সিকিম লাদাখের মতো আগের তুলনায় মৌসুমে এখন সেই শীত নেই। তবুও যেন কটা দিন জীবনযাত্রা ধারণ করাই কঠিন বিষয়।এই ত্রিপুরার কথাই যদি আমরা ধরি এমন আবহাওয়া কিন্তু ত্রিপুরাতে কোনদিন ছিল না। শীতের সময় শীত পড়তো কিন্তু শীতের সময় টানা তের রৌদ্রের দেখা না মেলা এটা অনেকটাই নজিরবিহীন ঘটনা। ২০১৩ সালে ত্রিপুরাতে হাড় হিম করা ঠাণ্ডা পড়েছিল এবার পারদ নেমে এসেছিল তিন'র ঘরে। পূর্বোত্তরের রাজ্যে ত্রিপুরায় এবারও বেশ জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তেমন না নামলেও গত কদিন ধরে শীতের অনুভূতি কিন্তু বেশ চলছে রাজ্যে তাই রাজ্য সরকার স্কুলে স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছে। বেসরকারী স্কুলের জন্য একই নির্দেশ জারি হয়েছে। মূলত এ দেশে নভেম্বর থেকে জানুয়ারী পর্যন্তই শীত থাকে। ফেব্রুয়ারীতে হাল্কা শীত থাকে। এরপর শীত বিদায় নেয়। আবার কোন কোন বছর শীতের অনুভূতি তেমন থাকে না। শীতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এবং বয়স্ক লোকেদের বেশি কষ্ট অনুভূত হয়। তাই শীতের সময় স্কুলে স্কুলে শীতের ছুটি দেওয়া হয়। বয়স্কদেরও এই সময় সাবধানে চলাফেরা করার জন্য বলা হয়। কেননা শীতের সময় বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সে সময় শিশু এবং বৃদ্ধদের সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য বলা হয়ে থাকে।প্রকৃতির যে ছয় ঋতু এর অন্যতম হচ্ছে শীত।শীতকাল যেমন প্রকৃতি তাদের মেলে ধরে তেমনি শীতের সময় প্রকৃতিও উপভোগ করার মতো। তাই প্রকৃতি অনেক সময় অতিসক্রিয়তা দেখালেও শীতকাল একপ্রকার উপভোগ করার মতোই আমাদের এক ঋতু।তবে সাবধানতা অবলম্বন করে শীতকে উপভোগ করায় শ্রেয়।