January 10, 2026

পূর্বতন মনরেগা নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিলেন রতন,গ্রাম উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন ভিবি জি রাম জি আইন!!

 পূর্বতন মনরেগা নিয়ে অপপ্রচারের জবাব দিলেন রতন,গ্রাম উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা বাড়াতে নতুন ভিবি জি রাম জি আইন!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার মনরেগা সংশোধন করে 'ভিবি জি রাম জি আইন ২০২৫' নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। বৃহস্পতিবার মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ। এই নতুন আইনকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রী বলেন, নতুন এই আইনের আওতায় গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।যেখানে আগে সীমা ছিল ১০০ দিন।এই নতুন আইনের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ করা হবে। কংগ্রেস সরকারের আমলে (২০০৫-২০১৪) মনরেগা-র জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ২ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নে ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।অথচ, এই নতুন আইন সম্পর্কে বিরোধীরা অপপ্রচার করে দেশের গরিব জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।যদিও বিরোধীদের এই অপপ্রচার দেশের গরিব জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন। কেননা, দেশের জনগণ এখন সব বুঝে। মানুষকে বোকা বানানো এখন আর সম্ভব নয়। এই কারণেই বিরোধীরা যত দিন যাচ্ছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে।এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরায় ২০১৮ সালের পর গত সাত বছরে মনরেগা-র অধীনে বরাদ্দ হয়েছে ৭,৮০১ কোটি টাকা। যেখানে ২০১৮ সালের আগের সাত বছরে বরাদ্দ ছিল ৬,৪৯০ কোটি টাকা। গত সাত বছরে মনরেগা প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ লক্ষ ১০ হাজার সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে। বাম আমলে আগের সাত বছরে সৃষ্টি হয়েছিল ৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৩২টি সম্পদ। ২০১৮ সালের পর গ্রামীণ পরিবারগুলোর সরাসরি মজুরি বাবদ প্রদান করা হয়েছে ৫,৩৩২ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগের সাত বছরে এই অঙ্ক ছিল ৪,২৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে ত্রিপুরায় এই প্রকল্পের আওতায় ৬.৫৬ লক্ষ জব কার্ড এবং ১০.২০ লক্ষ নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছেন। তিনি আরও জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য কেন্দ্র সরকার ৯০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করে এবং রাজ্যগুলোর অংশ মাত্র ১০ শতাংশ। নতুন আইনে জল সংরক্ষণ, জল নিরাপত্তা, সম্পদ সৃষ্টি, জীবিকা উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয় যা আগে ৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল, তা বাড়িয়ে এখন ৯ শতাংশ করা হয়েছে। যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হয়। আগে শ্রমিকরা প্রায়ই মজুরি পেতে বিলম্বের সম্মুখীন হতেন। সংশোধিত ব্যবস্থায় এখন শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি স্থানান্তর করা হচ্ছে। ফলে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং সময়মতো অর্থ প্রদান নিশ্চিত হয়েছে। নতুন আইনটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত, যার লক্ষ্য দুর্নীতি ও আর্থিক লিকেজ সম্পূর্ণভাবে রোধ করা। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারকে নিশানা করেন। অভিযোগ তুলে বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মনরেগা প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। বিশালগড় ব্লকে ১৭ কোটি টাকার দুর্নীতি ক্যাগ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। নিরীক্ষা ও তদন্তের পর বিশালগড় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৪০টি মামলায় ১২ জন অভিযুক্তের বিরদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের পর মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রিপুরা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। জাতীয় স্তরে ত্রিপুরার অবস্থান ছিল ২০২০-২১ সালে দ্বিতীয়, ২০২১-২২ সালে তৃতীয়, ২০২২-২৩ সালে চতুর্থ এবং ২০২৩-২৪ সালেও চতুর্থ স্থানে ছিলো ত্রিপুরা। অথচ বিরোধীরা এই আইনকে নিয়ে ভুল ও অপব্যাখ্যা করছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এদিন কৃষিমন্ত্রী বিরোধীদের ঘরে বসে রাজনীতি না করে, গোটা রাজ্য ঘুরে উন্নয়ন দেখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে তিনি বিরোধীদের লাক্সারি বাসেরও ব্যবস্থা করে দেবেন। বিরোধীরা গোটা রাজ্য ঘুরে দেখুক গত সাত বছরে কতটা উন্নয়ন হয়েছে। কি কি উন্নয়ন হয়েছে। আরও কি কি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ঘরে বসে রাজনীতি করার দিন শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই।কিন্তু বিরোধীরা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছে না বলেই জনগণকে বিভ্রান্তি করার সহজ রাস্তায় হাঁটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *