সোমবার | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পাহাড়ে ফের সশস্ত্র বৈরী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি, জনমনে আতঙ্ক

 পাহাড়ে ফের সশস্ত্র বৈরী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধি, জনমনে আতঙ্ক

দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৫ ফেব্রুয়ারী: উত্তর ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমার একাধিক প্রত্যন্ত এলাকায় ফের বৈরী সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন তুলনামূলক শান্ত থাকার পর হঠাৎ করেই পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের পুনরুত্থান ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদারদের কাছে

মহকুমার ‘ট্যাক্স’ বা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ভান্ডারীমা ও আনন্দবাজার সংলগ্ন এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের উপর বৈরী চাঁদার জন্য চাপ বাড়ানো হয়েছে। এর জেরে একাধিক দপ্তরের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ভান্ডারীমা-আনন্দবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন কাজের সাইট থেকে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কাঞ্চনপুর সদর এলাকায় চলে এসেছে। ঠিকাদাররা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় কাজ বন্ধ রেখেছে।

কাঞ্চনপুর মহকুমার আনন্দবাজার থানার পক্ষ থেকে বিকেল চারটার পর প্রত্যন্ত এলাকায় শ্রমিক ও ঠিকাদারদের অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সতর্কতামূলক নির্দেশ পরিস্থিতির গুরুত্বই স্পষ্ট করেছে। ভান্ডারীমা, সীমানাপুর ও আনন্দবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর বক্তব্য, ওইসব অঞ্চলে বৈরি গোষ্ঠীর অবাধ আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু এলাকাকে তারা কার্যত ‘মুক্তাঞ্চল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষত ভান্ডারীমা ও আনন্দবাজার এলাকায় তাদের উপস্থিতি বেশি বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি মহকুমার সীমানাপুর এলাকায় অবস্থানকারী কয়েকজনের কাছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে এসেছে যে কিছু নকল বৈরী সেজে আত্মসমর্পণের নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারী চাকরি বা আর্থিক সহায়তার আশায় তারা গোয়েন্দা সংস্থা বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে পাহাড়ি গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বৈরীরা অর্থ সংগ্রহে নামার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যারা অর্থ সংগ্রহ করছে তারা প্রকৃত বৈরী গোষ্ঠীর সদস্য নাকি ভুয়া পরিচয়ে সক্রিয়- তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দীর্ঘদিন শান্ত থাকার পর স্বশাসিত জেলা পরিষদ এবং ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। ফলে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আনন্দবাজার থানার অধীন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা খানক্লাংয়ে একটি বৈরী দলের অবস্থানের খবর মিলেছে। সীমান্তবর্তী এই অবস্থান নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সূত্রের দাবি কয়েক মাস ধরে সীমান্তের ওপারে প্রশিক্ষণ নিয়ে এপারে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির জেরে কাঞ্চনপুরের পূর্বাঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন নজরদারিতে আছে বলে আরক্ষা প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *