জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা ক্রিকেট, সিকিমের কাছে পরাজিত ত্রিপুরা!!
নিগমের চেক জালিয়াতি,তদন্ত ভুলে ছুটির মেজাজে পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ, রহস্য!!
অনলাইন প্রতিনিধি :-আগরতলা পুর নিগমের ষোল কোটি টাকার জালিয়াতির গুরুতর মামলায় অভিযুক্তদের বাঁচাতে দায়িত্ব পড়লো ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি নারকোটিক্স শাখার উপর। পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যৌথভাবে এই মামলাটি ধামাচাপা দিতে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগরতলার এক রাজনৈতিক নেতা এবং কয়েকজন কোটিপতি জালিয়াতকে বাঁচাতে দ্রুত তদন্ত বন্ধ করে দিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের নামে কলকাতা ও নাগপুরে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসাররা মাঝে বেশ কিছুদিন ঘুরে এসেছেন। সরকারী টাকায় ঘোরাফেরা করে এখন তদন্ত প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেই এই মামলা নিয়ে কোনো কথা বলা হয় না। উল্টো অ্যান্টি নারকোটিক্স টিমের অফিসাররা ছুটি কাটাতে ব্যস্ত। রাজ্যের উন্নয়নের ষোল কোটি টাকা জালিয়াতি করে দুষ্ট চক্র খেয়ে নিলেও তদন্ত টিম মজায় আছে বলে অভিযোগ। তদন্তে চূড়ান্ত ব্যর্থ হলেও মামলাটি সিবিআই অথবা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে দেওয়া হয়নি। অথচ রাজ্যের বাইরে প্রতারকদের ধরে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে অ্যান্টি নারকোটিক্স বিভাগ। শুধুমাত্র সরকারী খরচে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ঘুরে এসেছেন পুলিশ অফিসাররা। নতুন করে একজনও গ্রেপ্তার নেই। উদ্ধার হয়নি আর এক টাকাও।আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে গেছেন ইউকো ব্যাংকের একমাত্র ধৃত কর্মচারী রামিয়ানি শ্রীময়ি।ক্রাইম ব্রাঞ্চ আগরতলা পুর নিগমে ক্যাশিয়ার সহ কোনো কর্মীকেও আটক করেনি। ইউকো ব্যংকের ম্যানেজারের নাম অভিযোগে বার বার এলেও তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। বড় অপরাধী ধরতে নাকি তাদের ছেড়ে রাখা হয়েছে। এই ধরনের যুক্তি ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসাররা প্রায়ই শুনিয়েছেন। এখন ধীরে ধীরে গোটা জালিয়াতি ধামাচাপা দেওয়ার পথে। অথচ ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইকোনমিক অফেন্স শাখার তদন্তে বড় বড় প্রভাবশালীদের নাম উঠে এসেছিল। প্রতারণার চক্র ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। চেক ও এটিএমের মাধ্যমেও উঠানো হয়েছে পুর নিগমের টাকা। মামলার তদন্তের জন্য বেশ কয়েকজন দক্ষ অফিসার প্রয়োজন। অথচ প্রভাবশালীদের নাম উঠে আসায় রাজ্য পুলিশের আইপিএস অফিসার অথবা সিবিআইয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অফিসাদের আর তদন্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। পরিকল্পনা করেই এমন অফিসারদের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাদের এত বড় কেলেঙ্কারি তদন্ত করার অভিজ্ঞতা নেই। ইউকো ব্যাংকের মামলাটি হচ্ছে চেক ক্লোন করে টাকা আরটিজিএস করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছিল। এটা ঋণ হিসাবে। কীভাবে এই ঋণ দেওয়া হলো? ব্যাংক কেন কোটি কোটি টাকা মুহূর্তে রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দিল? একদিনও অপেক্ষা করলেন না ইউকো ব্যাংকের আগরতলা শাখার ম্যানেজার সহ কর্মীরা? এই প্রশ্নের জবাব রাজ্য পুলিশ দেয় না। আগরতলা পুর নিগমের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনীয়ার কেন মামলা করলেন না? প্রশ্ন উঠছে কেন পুর নিগমের এঞ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনীয়ার, অ্যাকাউন্টেন্ট, ক্যাশিয়ারকে গ্রেপ্তার করে না পুলিশ? ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত টিমের নাকি ক্ষমতা নেই পুর নিগমের কারোর নাম মামলায় জড়াতে। এখানে প্রভাবশালী বড় নেতা, বড় প্রশাসনিক আধিকারিক জড়িয়ে পড়বেন। ষোল কোটির বদলে কয়েকশো কোটি টাকার কেলেঙ্কারি ধরা পড়তে পারে। কেলেঙ্কারি ধামাচাপা পড়ছে ক্রাইম ব্রাঞ্চে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এই অভিযোগ আগেও করেছিলেন। দ্রুত মামলার তদন্তে সিবিআই না নিলে ষোল কোটি টাকার নামে পুর নিগমের কয়েকশো কোটি টাকার হদিশ আর পাওয়া যাবে না। রাজ্যের উন্নয়নের টাকা কিছু নেতা, আমলাদের পকেটে কাটমানি হিসাবে থেকে যাবে। বাকি সব টাকা নিয়ে যাবে রাজ্যের বাইরে প্রতারকরা। এমনটাই মনে করছে রাজ্যবাসী।