নলুয়ায় শহিদ সমাবেশে বিপ্লব, জি রাম জি গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে!!
অনলাইন প্রতিনিধি :- সন্ত্রাসের কালো দিন আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। শান্তির ত্রিপুরা শান্তিতে থাকতে চায়। সিপিএম মানে সন্ত্রাস। সিপিএমের সন্ত্রাসের বেআব্রু রূপ দেখেছেন আপনারা। দক্ষিণ ত্রিপুরা জুড়ে এক সময় সিপিএমের সন্ত্রাস গ্রাস করেছিল। সিপিএমের লাল সন্ত্রাসে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী দক্ষিণের কর্মীরা। রবিবার ঋষ্যমুখ ব্লক এলাকার নলুয়ার শহিদ স্মরণে বিজেপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ রাখতে গিয়ে এই কথাগুলো বলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।
১৯৮৯ সালে বাম শাসনে নলুয়ার মাটিতে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে দুইজন বামবিরোধী আন্দোলনের নেতা কর্মী। এছাড়া বাম জমানায় এই দুইজন সহ মোট নয়জন খুন হয়। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার নলুয়া মাঠে শাসক বিজেপি দলের উদ্যোগে শহিদ স্মরণে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব শহিদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিপিএমকে নিশানা করে বলেন, সিপিএমের হাত সন্ত্রাসের হাত। ক্ষমতায় টিকে থাকতে সিপিএম পঁচিশ বছর রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে ইন্ধন দিয়ে গেছে। সিপিএমের সন্ত্রাসের বলি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুবিচার পায়নি। সাংসদ বিপ্লব দেব অভিযোগ করেন, সিপিএম মাওবাদী। এরা ক্ষমতায় ফিরে আসতে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাস করে করে রাজ্যকে ডুবিয়ে দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সিপিএম নেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী আজ বড় বড় কথা বলেন। মথার সমর্থন নিয়ে উনি সাব্রুম থেকে জিতে বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। এখন আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছেন, যা আর কোনদিন সম্ভব হবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের মসৃণ পথ ধরে হাঁটছে। রেগা নিয়ে নতুন আইন গ্রামীণ কর্মসংস্থানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। আগে এই স্কিমের কাজ ছিল ১০০ দিনের, এখন এটা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হচ্ছে। রেগা নিয়ে সংসদে সিপিএম-কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোট যে ভূমিকা নিয়েছে তার সমালোচনা করে বিপ্লব বলেন, গ্রামীণ জনগণের উন্নয়নের যে মিশন নরেন্দ্র মোদি শুরু করেছেন তার বিরোধিতা দেশবাসী মেনে নেবে না। গ্রামীণ রোজগারের এই নয়া বিল নিয়ে সিপিএম ও কংগ্রেস দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে। সিপিএম-কংগ্রেসের এটাই বৈশিষ্ট্য। জনগণকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে ত্রিপুরার উন্নয়ন এক উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে। দলীয় নেতৃত্ব এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে বলেন, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত আপনাদের হাতে রয়েছে। মানুষের কাছে যান। মানুষের সাথে কথা বলেন। সরকারী উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলুন। এমনকী বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

শহিদ সমাবেশে ভাষণ রাখতে গিয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক ২৫ বছরে সিপিএমের সন্ত্রাসের নানা চিত্র তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত আগামী দিন পৃথিবীর এক বৃহৎ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে দাবি করেন তিনি। সমাবেশে বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, জেলা সভাপতি দীপায়ন চৌধুরী, মণ্ডল সভাপতি নকুল পাল সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নলুয়ায় শহিদ স্মরণ সমাবেশে এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে ঘিরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তাকে ঘিরে এদিন সমাবেশে জনগণের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি এবং বক্তব্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।