অনলাইন প্রতিনিধি :-রাজ্যেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী আহূত সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে পথে নামল বামেরা। শ্রমকোড বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন। এদিন সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে রাজধানীতে মিছিল-সমাবেশ করেছে বামেরা। মেলারমাঠ থেকে বামেদের মিছিল শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শকুন্তলা রোডের সমাবেশে মিলিত হন সিআইটিইউর নেতা কর্মীরা সমর্থকরা।সমাবেশে সিট্যুর সাধারণ সম্পাদক শংকর দত্ত, সভাপতি মানিক দে-কে পাশে বসিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, দেশে ও রাজ্যে জনবিরোধী সরকারের একনায়ক রাজত্ব চলছে। দেশের একাংশ পুঁজিপতিদের স্বার্থে সিলমোহর প্রদানে ব্যস্ত বিজেপি সরকার। পুঁজিবাদীদের খুশি করার লক্ষ্যেই নয়া ৪টি শ্রম কোড নিয়ে এসেছে বিজেপি। এর ফলে শ্রমিকের স্বার্থ বিপন্ন হবে। যদিও আবার এই শ্রমিকবিরোধী শ্রম কোডের দৌলতে পুঁজিপতিদের শ্রীবৃদ্ধি হবে।মানিক সরকার বলেন, সারা পৃথিবীতে শ্রমিকদের জন্য ৮ ঘন্টা কাজ, ৮ ঘন্টা বিনোদন এবং ৮ ঘন্টা বিশ্রামের নিয়ম লাগু রয়েছে। ভারতবর্ষে শ্রমিকবিরোধী বিজেপি সরকার নয়া ৪টি শ্রম কোড কেন বলছে এখন থেকে শ্রমিকদের ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা কাজ করতে হবে। যদিও এই অতিরিক্ত সময়ের জন্য শ্রমিকদের অতিরিক্ত মজুরি দেওয়া হবে না। এর থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, বিজেপি সরকার শ্রমিকবিরোধী।তিনি বলেন, বিজেপি সরকার বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশের দুই মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থনে কেন্দ্রের ক্ষমতা দখল করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও বিজেপি সরকার মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে।ত্রিপুরাতেও শ্রমিক, কৃষক, জুমিয়া,বেকার,ব্যবসায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিজেপি সরকার। মানুষের ভোটে ক্ষমতা দখল করে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা এখন আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। শোষকদের স্বার্থ রক্ষা করছে বিজেপি সরকার।
মানিক সরকার বলেন, সাধারণ ধর্মঘট রাখার জন্য এখন থেকেই বিজেপি সরকার হুলিয়া জারি করে দিয়েছে। মানুষকে হুমকি দিয়ে দোকান খোলা রাখতে, মোটর শ্রমিকদের পথে নামানো, শিক্ষক কর্মচারীদের অফিসে হাজিরার জন্যও রাজ্য সরকার হুমকি দিচ্ছে। এর থেকেও একটি বিষয় স্পষ্ট, ত্রিপুরায় বিজেপির জনসমর্থন বলে কিছু নেই।মানিক সরকার বলেন, রাজ্যে বামেদের মিছিল মিটিংয়ে মানুষের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির বিদায় নিশ্চিত। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই রাজ্যে হিন্দু মুসলিমের প্রশ্ন তুলে আরএসএস নেতৃত্বাধীন বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।