বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬

দায় একমাত্র কমিশনের।।

 দায় একমাত্র কমিশনের।।

পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর খেলা একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কেননা বিধানসভা ভোটের আর বেশি দিন বাকি নেই।তাই প্রথম পর্যায়ের ভোটের জন্য ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়াও দু-একদিনের মধ্যেই শেষ হতে যাচ্ছে। বহু রাজ্যেই এস আই আর প্রক্রিয়া হয়েছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো এস আই আর নিয়ে এত ঝামেলা আর কোথাও হয়নি। বিষয়টা যতটা নির্বাচনী সংস্কার প্রক্রিয়া বলা হচ্ছে আদতে মোটেও তা কিন্তু নয়। আসলে পশ্চিমবঙ্গের এস আই আর প্রক্রিয়াটি গোটাটাই একটা রাজনৈতিক বিষয়।

কেন্দ্রের শাসক বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি ব্যবহার করে এই এস আই এর প্রক্রিয়া করাতে চেয়েছে এবং এখনো চাইছে।তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য হচ্ছে এই এসআই এর মাধ্যমেই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকা থেকে ছেটে ফেলা হবে।কিন্তু এখন অব্দি এস আই আরে কত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গার নাম রয়েছে তা জানাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন।বিজেপি দলের নেতাদেরও এ প্রশ্ন করা হলে তারাও নিরুত্তর থাকছেন।কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তার কলকাতা সফরের সময় এই প্রশ্ন করা হলে তিনিও কোন জবাব দিতে পারেননি।একইভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও তার কলকাতা সফরের সময় এ সংক্রান্ত কোন জবাব দিতে পারেননি। এর থেকেই স্পষ্ট যে আদতে এস আই আর টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বেলায় করা হচ্ছে।

অতি সম্প্রতি এস আই আর এস আই আর খেলার সর্বশেষ যে রায়টি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বের হয়েছে তা চমকে উঠার মত ঘটনা। এস আই আর এ ও যার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল পরবর্তীতে বিচারকদের তত্ত্বাবধানে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়ও ওই ব্যক্তির নাম ছিলনা কিন্তু ট্রাইব্যুনালে ওই ভোটারের নাম বৈধ বলে গণ্য হয় এবং ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ওই ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাতে নির্দেশ দেওয়া হয় । ওই ভোটার আর কেউ নন তিনি ফারাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী। যিনি মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি। এস আই এর প্রক্রিয়ায় ট্রাইবুনালের এটি প্রথম বিচার বা রায়দান বলা চলে।

সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেসি জানান যে আদতে এস আই আর এর কোন প্রয়োজনই নেই।তার বক্তব্য ছিল ভোটার তালিকায় সংশোধন কিংবা সংযোজন বিয়োজন একটি নীরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। এই কাজটি সারা বছর ধরেই করে থাকেন সংশ্লিষ্ট বি এল ও থেকে নির্বাচনের কাজে যুক্ত সুপারভাইজার সহ সংশ্লিষ্টরা। সুতরাং আলাদা করে এক্ষেত্রে এসআইয়ের কি প্রয়োজন?আসলে বিহার দিয়ে দেশে যে এস আই আর শুরু হয়েছিল তখন থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে চরম বিবাদ শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্টে বহু মামলাও হয়। কিন্তু আদতে এই মামলাগুলির সুরাহা হতে হতে ভোট পেরিয়ে যায়। ফলে এস আই আর সংক্রান্ত মামলার আর কোন নিষ্পত্তি হয়নি।

বিহারের বেলায়ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই এস আই আর নিয়ে বহু চিৎকার চেঁচামেচি করলেও আদতে তা কোন কাজে আসেনি।এস আই আর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত হল আদতে এটি হল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এবং এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছে। শেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে শায়েস্তা করতেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে এই এসআই এর প্রক্রিয়া সম্পাদন করানো হচ্ছে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে। এত বিশাল কর্মযজ্ঞ দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে করা দুঃসাধ্য ব্যাপার।কিন্তু কমিশন এরকম চাপ সৃষ্টি করেছে যে তা বলাই বাহুল্য। এবং সবটা যে মহৎ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে তাও নয়।এটা পুরোটাই হচ্ছে ভোটের উদ্দেশ্যে- একমাত্র উদ্দেশ্য ভোট।ভোটও শেষ হবে, এস আই আর প্রক্রিয়ায় হিম ঘরে চলে যাবে। এটা সবাই জানে।

মাঝখানে মানুষের সীমাহীন লাঞ্ছনা গঞ্জনা ইত্যাদি সহ্য করতে হচ্ছে। তবে এটা সত্য পশ্চিমবঙ্গে এসআই এর প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম এখনো বাদ। তাদের নাম ভোটার তালিকায় এখনো অন্তর্ভুক্ত করানো যায়নি। বহু লক্ষ ভোটার এবার পশ্চিমবঙ্গে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হবে। এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতেই হবে। কেননা ভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম একটি অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেবার নির্বাচন কমিশন কে? বৈধ ভোটাররা ভোট না দিতে পারলে তার দায় নির্বাচন কমিশনকেই তো নিতে হবে। দায় একমাত্র নির্বাচন কমিশনের। আর কিছুদিনের মধ্যেই ভোট হয়তো মিটে যাবে। সরকারের ভাঙ্গা গড়ার খেলা চলতেই থাকবে। কিন্তু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার যে লড়াই তা ইতিহাসের পাতায় একদিন জায়গা পাবে ঠিকই ততদিনে নির্বাচন কমিশনও কাঠগড়ায় উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *