অনলাইন প্রতিনিধি :-কৃষকের জন্য শুধু প্রকল্প নয়, প্রয়োজন শক্ত ভিত। সেই ভিতই তৈরি করছে বর্তমান সরকার। শান্তিরবাজার ও মনপাথর বাজারে নবনির্মিত মার্কেট স্টলের উদ্বোধন করে আয়োজিত সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকার আর দাননির্ভর রাজনীতি চায় না,চায় আত্মনির্ভর মানুষ।কৃষকের শ্রমে উৎপাদিত ফসল যাতে ন্যায্য দামে বিক্রি হয় সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার সারা রাজ্যে বাজার পরিকাঠামা শক্তিশালী করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিটি বাজারে সরকারী উদ্যোগে স্থায়ী ও আধুনিক বাজার স্টল নির্মাণ করা হচ্ছে, বলেছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে মোট ৫৫৪টি বাজার রয়েছে, যার মধ্যে একুশটি কৃষিপণ্য ন্যায্য দামে বিপণনের জন্য এগ্রি প্রডিউস মার্কেট।গত সাত বছরে বর্তমান সরকার বাজার ও স্টল নির্মাণে ৩০৩ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছে,যেখানে আগের সরকার সাত বছরে মাত্র কুড়ি কোটি ছাব্বিশ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট কারা সত্যিকারের কৃষকের পাশে রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই আরও সাতটি বাজারে স্থায়ী স্টল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা। ভবিষ্যতে সব বাজারেই আধুনিক মানের ই-নাম স্টল গড়ে তোলা হবে। যাতে কৃষক সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে বাজারদর জানতে ও বিক্রি করতে পারেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ঘরে ঘরে রোজগার। শুধু স্লোগান নয়, বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। আমরা শুধু উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলছি না। উৎপাদিত ফসল বিক্রির পরিকাঠামোও তৈরি করছি।সাব্রুমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বিরোধী দলনেতার বিধায়কত্ব থাকা সত্ত্বেও সেখানে অন্য এলাকার তুলনায় বেশি স্টল নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটাই সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, বলেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত আত্মনির্ভর হওয়া। ফ্রি চাল কোনো না কোনোদিন বন্ধ হবে। আত্মনির্ভর না হলে তখন মানুষ দাঁড়াবে কোথায়?এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাজার, স্টল, স্বসহায়ক দল তৈরি করে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, আর সেই সুযোগ কাজে লাগানো মানুষের কর্তব্য। আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি ধান ক্রয়, কিষান নিধি, কেসিসি, শস্য বিমা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে বর্তমান সরকারের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন এবং জানান, কৃষকের আয় বাড়াতে সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা অপরিহার্য। এদিন সকালে মন্ত্রী প্রথমে বীরচন্দ্র মনুস্থিত সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর ভেজিটেবল (সিএভি) পরিদর্শন করেন। পরে বীরচন্দ্র মনুতে দ্বিতল বিশিষ্ট নবনির্মিত পাকা স্টলের উদ্বোধন করে কৃষক ও স্থানীয়দের সামনে ভাষণ দেন। শেষে শান্তিরবাজারে নবনির্মিত দ্বিতল বাজার স্টলের উদ্বোধন করে সেখানেও সভায় বক্তব্য রাখেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অধিকর্তা ফণীভূষণ জমাতিয়া, উপ-অধিকর্তা সুমিত কুমার সাহা, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, দক্ষিণ জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত সহ অন্য বিশিষ্ট জনেরা।উল্লেখ্য,মনপাথর বাজারে মোট স্টলের সংখ্যা ৬৭টি। ব্যয় হয়েছে প্রায় চার কোটি। শান্তিরবাজার স্টলের সংখ্যা ৩৪ টি। ব্যয় হয়েছে সোয়া দুই কোটির বেশি টাকা।