তিন দশক পর প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে নতুন মুখতারেক রহমান মন্ত্রিসভার শপথ
দৈনিক সংবাদ অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী: বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তার মন্ত্রী পরিষদের ৪৯ সদস্য (মন্ত্রী) শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

তিন দশক পর নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেলো বাংলাদেশ। রেওয়াজ ভেঙে এবং রাষ্ট্রপতির অফিস বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত এবং কোরআন পাঠ দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম গোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। এরপর নতুন মন্ত্রীদের পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সবশেষে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করে তাদেরকে শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রতিমন্ত্রীদের শপথ এবং শপথে স্বাক্ষরের জন্য অনুষ্ঠান শেষ হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গী হচ্ছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ৪০ নতুন মুখ নিয়ে। তাদের মধ্যে বিএনপির জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন। অনেকেই প্রথমবার এমপি হয়েই সরকার পরিচালনার দায়িত্বপেয়ে গেছেন। তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তার মেয়ে দীনা আফরোজকে সঙ্গে নিয়ে। উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আববারকেও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার বড় চমক খলিলুর রহমান, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা দেওয়া এবং প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা কোরিডোর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিএনপির অনেকে তার অপসারণও চেয়েছিলেন। পররাষ্ট্র ক্যাডারের প্রাক্তন কর্মকর্তা খলিল এমপি না হলেও দায়িত্ব পালন করবেন টেকনোক্র্যাট হিসেবে। তিনি পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব।

নতুন মুখের ছড়াছড়ির মধ্যে বিএনপির অভিজ্ঞ ও পুরোনো নেতাদের অনেকেরই সরকারে জায়গা হয়নি। তাদের মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টামণ্ডলীর নেতারাও রয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাদপড়া ‘সিনিয়রদের’ মধ্যে কেউ-কেউ পরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে খন্দকার মোশারফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাননি। তাদের চারজনই বিএনপির প্রয়াত নেতা খালেদা জিয়ার কেবিনেটে ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে প্রাক্তন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী সেলিম রহমান এবং বিএনপির এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খানও সরকারে আসতে পারেননি। বিএনপির প্রাক্তন মন্ত্রীদের মধ্যে মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাদের নাম নেই। প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আমান উল্লাহ আমানকেও তিনি নতুন সরকারে রাখেননি। শরিক দলের নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
