January 7, 2026

ঢেঁকি আজ কোণঠাসা জাদুঘরই শেষ ভরসা!!

 ঢেঁকি আজ কোণঠাসা জাদুঘরই শেষ ভরসা!!

অনলাইন প্রতিনিধি :-'ঢেঁকি' কালের বিবর্তনে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।শহুরে জীবনে ঢেঁকি আর দেখা যায় না। অবশ্য গ্রামীণ জীবনের অঙ্গ হিসাবে অনেক কাল থেকে ঢেঁকি একটি জায়গা করে আছে। একসময় গ্রামের বহু বাড়িতে ঢেঁকি থাকতো। বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ঢেঁকির প্রয়োজনীয়তা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। আজকের প্রজন্মের কাছে ঢেঁকির অবস্থান যেন মিউজিয়ামে থাকার মতো। শহর থেকে ঢেঁকি হারিয়ে গেলেও আজও কোনো কোনো গ্রামের বাড়িতে টিমটিম করে টিকে আছে! আগে গ্রামের বাড়িতে ঢেঁকির ব্যাপক ব্যবহার ছিলো। চালের গুঁড়ো করার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হতো। বিশেষ করে সংক্রান্তির পিঠেপুলি সময় এর কদর বেড়ে যায়।গ্রামের কারোর নিজের বাড়িতে ঢেঁকি না থাকলেও প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে চাল গুঁড়ো করে আনতো। তবে গ্রামের বাড়িতে ঢেঁকি ব্যবহারের দেখার সুখ স্মৃতিপটে অমলিন হয়ে আছে।একসময় অগ্রহায়ণ মাসশেষে এবং পৌষ সংক্রান্তিতে ঢেঁকির শব্দ শোনা যেতো গ্রামের প্রায় বাড়িতে।গ্রামের অনেক বাড়িতে আলাদাভাবে ঢেঁকিঘর থাকতো। ঢেঁকি ব্যবহারের জন্য মূলত দুই পাশে দুজন থাকে। এক পাশ খুব শক্তভাবে বাঁধা থাকে। অপর পাশে কাঠের পাটাতনে একটা লম্বা কাঠ বাঁধা থাকে। কাঠ বরাবর একটি ছোট্ট গর্ত থাকে। গর্তের মধ্যে থাকে চাল। অপর পাশে পা দিয়ে কাঠের পাটাতনকে পর্যায়ক্রমে উপর-নিচ করা হয়। অপরপ্রান্তে যে গর্তটি রয়েছে এই পাশে একজন গর্তের মধ্যে থাকা চালকে চলন্ত ঢেঁকির সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে হাতের কাজ সুনিপুণভাবে করে। চাল যখন পুরো পালিশ হয়ে যাবে তখন অপরপ্রান্তে পা দিয়ে ঢেঁকিটাকে তুলে রাখা।
 মূলত এই কাজটা মহিলারাই বেশি করে। এখনো গ্রামে অনেকের বাড়িতে কম সংখ্যায় হলেও ঢেঁকির ব্যবহার করা হয়। মূলত চাল গুড়া করার জন্য ঢেঁকির ব্যবহার করা হয়।গুঁড়া আতপ চাল পুলি পিঠা তৈরি করতে দরকার হয়।এক সময় গ্রামের মানুষ চাল গুঁড়ো করতো ঢেঁকি দিয়ে।এখন গ্রামের মানুষও এতো ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে চায় না। সোজাসুজি বাজার থেকে চালের গুঁড়া নিয়ে আসে। আধুনিক যুগে সেই ঢেঁকির জায়গা দখল করে নিয়েছে বিদ্যুৎ চালিত মেশিন। এর মাধ্যমে মানুষ এখন অতি সহজেই অল্প সময়ে ধান থেকে চাল পাচ্ছে। মেশিনে চালের গুঁড়ো তৈরি করার কাজ চলছে সর্বত্র। হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র আর প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় হয়তো সে সবের দেখা মিলবে কেবল জাদুঘরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *