জোট জট
সম্পাদকীয়, ২৪ মার্চঃ শেষ পর্যন্ত তিপ্রা মথা এবং বিজেপির মধ্যে এডিসি নির্বাচনের জন্য শরিকি সমঝোতা অর্থাৎ জোট হয়নি। তবে এখনও এই জোট নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব জীবিত রয়েছে। জীবিত রেখেছেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো স্বয়ং। অন্যদিকে বিধানসভায় কিন্তু এখনও তিপ্রা মথা এবং বিজেপির জোট রয়েছে। অর্থাৎ রাজ্য মন্ত্রিসভায় তিপ্রা মথার প্রতিনিধি এখনও রয়েছেন। রাজনীতিতে সচরাচর এমন বিষয় খুব একটা দেখা যায়নি। আবার উল্টোদিকে এডিসিতে গত পাঁচ বছর বিজেপি এবং মথার মধ্যে কোন জোট ছিল না। মথা ক্ষমতায় এবং বিজেপি বিরোধী। এই বিষয়ও রাজনীতিতে খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু বিরল দৃশ্য ত্রিপুরায় দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছর যাবত। তিপ্রা মথা এবং বিজেপির মধ্যে গত প্রায় বছর খানেকেরও বেশি সময় ধরে পাহাড় দখল নিয়ে একটা ক্ষমতার লড়াই চলছিল। বিজেপি যেহেতু রাজ্যে ক্ষমতায়, কেন্দ্রেও ক্ষমতায় তাই বিজেপি চাইছে পাহাড়ে জনজাতিদের গড়ে তাদের শক্তি বাড়াতে। কিন্তু মথা তা দিতে নারাজ। তাই বিজেপি পাহাড়ে গেলেই তাদের সাথে মথার বিরোধ হতো। মারামারি হতো, মামলা মোকদ্দমা হতো ইত্যাদি ইত্যাদি। গত ৬ মাসে এই মথা-বিজেপি বিরোধ বেড়েছে বৈ কমেনি। এবং তখন থেকেই আভাষ মিলেছিল যে, এবার পাহাড় ভোটে মথাকে ছেড়ে কথা বলবে না বিজেপি। শেষ পর্যন্ত একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল যে, বিজেপি-মথা জোট নিয়ে। দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব বহু চেষ্টা করেও মথা নেতৃত্বকে বাগে আনতে পারেনি। ফলে আপাতত এডিসি ভোটে পাহাড়ে মথা এবং বিজেপির মধ্যে আসন সমঝোতা হয়নি। হতে পারে ভোটের পর মথা এবং বিজেপি জোট করে কাউন্সিল চালাবে। সত্যি সত্যিই যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার অবধি এই জোটে জট লেগে থাকে তাহলে কী এবারের এডিসি ভোট এক অন্য মাত্রা পেতে চলেছে। অন্যদিকে বিজেপির অপর শরিক আইপিএফটিও এবার এডিসি ভোটে পাহাড়ে মাথা তুলতে চাইছে। এডিসি ভোটে আইপিএফটি ৯টি আসনে বিজেপির সাথে কোনরকম কথা ছাড়াই একতরফা প্রার্থী দিয়েছে। এর অর্থ এডিসি ভোটে বিজেপির অপর শরিক আইপিএফটিও জোটে যায়নি। ফলে সরকারের তিন শরিক বিজেপি, মথা এবং আইপিএফটি পৃথক পৃথকভাবে ভোটে লড়ছে। অপরপক্ষে রয়েছে সিপিএম। রয়েছে কংগ্রেস জোট। অর্থাৎ এবার এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে পাঁচমুখী লড়াই হচ্ছে। সচরাচর এডিসিতে এই ধরনের রাজনৈতিক দৃশ্য দেখা যায় না। বহুদিন পর এবার এডিসির লড়াই সত্যিকার অর্থেই জমজমাট হয়ে উঠছে।
তবে চর্চার মূলে রয়েছে মথা এবং বিজেপির জোটে না যাওয়া। গত বিধানসভা ভোটে মথা বিজেপিকে অনেকটা সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল। পাহাড়ের পাশাপাশি সমতলেও মথা প্রার্থী দাঁড় করিয়ে বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়েছিল। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন মথা এবং বিজেপির মধ্যে কোন গোপন খেলা হয়নি? প্রকাশ্যে তারা জোট না করলেও আসলে পর্দার আড়ালে অনেক খেলা চলতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। কেননা গত কদিন ধরে রাজ্য বিজেপি ছিল অনেকটাই নীরব জোট নিয়ে। জোট হবে ধরেই নিয়েছিল প্রদেশ বিজেপি। তাই শেষ সময়ে মথা সুপ্রিমো জোট না হবার ঘোষণা দিতেই তড়িঘড়ি বিজেপি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেয়। এক্ষেত্রে বিজেপি মথার ঘর কিছুটা ভাঙিয়ে নিয়েছে। এবার দেখার, সত্যি সত্যিই যদি মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখের পর মথা ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে সিপিএম, কংগ্রেস জোট এবং আইপিএফটিও ময়দানে থাকে তাহলে এবারের এডিসি ভোট চমকপ্রদ হতে যাচ্ছে এটা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে অনেক ফলাফল উল্টে যেতে পারে বলেও অনুমান।