January 7, 2026

জি রাম জি-র ভবিষ্যৎ

 জি রাম জি-র ভবিষ্যৎ

মনরেগা নাম পাল্টে জি রাম জি বিল আনা হয়েছে। ইউপিএ সরকার তার প্রথম পর্যায়ে সরকারের সময় দেশে মনরেগা চালু করেছিলো। মনরেগা হলো রোজগারের অধিকার আইন, অর্থাৎ গ্রামীণ মানুষের রোজগারের গ্যারান্টি সুনিশ্চিত করার আইন। ইউপিএ সরকারের এ ছিল এক যুগান্তকারী আইন। যা গ্রামীণ মানুষকে রোজগারে কিছুটা সুরাহা দিয়েছিলো। একে বছরে একশদিনের কাজের স্কিমও বলা হয়। প্রথমে চালু হয়েছিল রেগা অর্থাৎ NREGA-পরবর্তীতে এর নাম রাখা হয় MGNREGA বা মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট। সেই মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত রোজগার আইনের বর্তমানে পাল্টে নাম দেওয়া হয়েছে বিকশিত ভারত জি রাম জি।


পুরোপুরি মহাত্মা গান্ধীর নাম এর থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধু নাম পাল্টানোই নয়, এর পুরো খোলসটাকেও পাল্টে ফেলা হয়েছে। রাজ্যগুলির ঘাড়ে আর্থিক দায় চাপানো হয়েছে। এ নিয়েই এখন রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা হচ্ছে। ইউপিএ আমলে এই আইন চালু হওয়ায় এর বিরোধিতা মূলত করছে কংগ্রেস। এই দলে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিও। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ধরে রেগায় বরাদ্দ নিয়ে বেজায় সরব। কেন্দ্রীয় সরকার এমএন রেগার টাকা আটকে রেখেছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে তৃণমূল।
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্পে বরাদ্দ দিনদিনই কমিয়ে দিচ্ছে – এরকম অভিযোগ হামেশাই শোনা যেতো বিরোধী দলগুলির কাছে। এবার একেবারে নামই পাল্টে দিলো কেন্দ্র। শুধু নাম পাল্টানোই নয়, একেবারে খোলনলচেও পাল্টানো হয়েছে এমএন রেগার। কংগ্রেস বলছে, এই বিলও প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে কেন্দ্র। আসলে কেন্দ্রের বর্তমান সরকার কংগ্রেসের নাম ও নিশান পুরো মেটাতে চাইছে। কংগ্রেস আমলে নেওয়া এর আগে তথ্য জানার অধিকার আইনের অনেক কিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর হাত দেওয়া হলো রেগা আইনে। বিজেপি সরকারের একটা যে ভাবনা এবং প্রচার কাজ করে থাকে তাহল নিজস্ব স্টাইলে কাজ করা। সংসদ ভবনকে যেমনটা নতুনভাবে সাজিয়ে পুরোনো ব্রিটিশ আমলের তকমা ঝেড়ে ফেলা, তেমনি বিভিন্ন জায়গা, রাস্তার নাম পাল্টানো, রেল স্টেশনের নাম পাল্টানো সবই বিজেপি সরকারের ভাবনার ফসল। এখন সবকিছুই হচ্ছে বিকশিত ভারতের নামে, আত্মনির্ভর ভারতের নামে। তাই যেন এমজিএনরেগার নাম পাল্টে বিকশিত ভারত জি রাম জি দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সহ নানা দল এ নিয়ে আপত্তি তুললেও তা ধোপে টিকবে বলে মনে হচ্ছে না।নয়া এই বিলে ৪০% অর্থ রাজ্যের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। যেসব রাজ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থান দরকার সেই সমস্ত রাজ্য অর্থ নিয়ে সমস্যায় পড়বে। আসলে এটি রেগাকে তুলে দেবার একটা অপপ্রয়াস হতে পারে। যেসব রাজ্যে ডবল ইঞ্জিনের সরকার সেই সরকারগুলির সমস্যা নেই। তারা যেকোনোভাবে অর্থ ম্যানেজ করে নিতে পারবে। আর যে সমস্ত রাজ্যে বিরোধী দলের সরকার রয়েছে আদতে সমস্যায় পড়বে সেই সরকারগুলি। একদিকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমে যাবে অন্যদিকে রাজ্যগুলিকে ৪০% অর্থ বহন করতে হবে। ফলে রাজ্যগুলির উপর আর্থিকভাবে বোঝা বাড়বে। আখেরে সমস্যায় পড়বে গ্রামীণ কর্মসংস্থান।যদিও বিরোধীরা বলছে এই বিলও প্রত্যাহার করতে বাধ্য হবে কেন্দ্র। যেমনটা তিনটি কৃষি বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে কেন্দ্র। সমস্যা
হল, কৃষি বিল নিয়ে কৃষকরা আন্দোলন করেছিল জোরদারভাবে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা এমন আন্দোলন করেছিলো যে দিল্লীতে বেজায় চাপ বাড়ছিল। বাধ্য হয়ে কেন্দ্র তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করেছিলো। কৃষকদের বিভিন্ন সংগঠন জোরদার আন্দোলন করেছিলো বলেই তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহৃত হয়েছিলো। প্রশ্ন হচ্ছে জি রাম জি বিলও কি প্রত্যাহার সম্ভব? দেশজুড়ে রেগার তেমন কোনো মজবুত সংগঠন নেই। বামেদের যখানে কিছুটা প্রভাব রয়েছে সেই জায়গায় রেগার কিছু সংগঠন রয়েছে। সেই সংগঠন নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা কার্যত অসম্ভব। কংগ্রেসও জোরদার আন্দোলন করবে এমন সম্ভাবনাও কম। ফলে রেগা নিয়ে আন্দোলন আদৌ কতখানি সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। উল্টোদিকে শাসক বিজেপির পক্ষে নিজস্ব প্রচার রয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই দেশ জুড়ে বিকশিত ভারত জি রাম জি বিল নিয়ে প্রচার শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। সুতরাং যতই গান্ধীর বদলে রাম আসুক রেগায় আন্দোলন দিয়ে নাম পাল্টানো রদ কিংবা বিল রদ সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *