জাত চেনালেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কংগ্রেস রাজনীতিতে বহু বছর ধরেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাম নিয়ে চর্চা চলছিল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দলের রাশ তুলে দিতে দাবি দীর্ঘদিনের। বর্তমান বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ২০০৪ সাল থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে রয়েছেন। বহু পরীক্ষা দিয়েছেন রাহুল। কিন্তু রাহুলের ফেলের তালিকা দীর্ঘতর। রাহুল গান্ধীকে কংগ্রেসের একটা অংশ পছন্দ করে না- এটা সত্য। সোনিয়া গান্ধী পরবর্তীতে কংগ্রেস নেতা হিসাবে রাহুল গান্ধী উঠে এলেও রাহুলের সাফল্যের খতিয়ান সামান্যই। তবে একথা সত্য যে রাহুল গান্ধী তার পথে অবিচল থেকেছেন। ক্রিকেটের পরিভাষায় বলতে গেলে রাহুল গান্ধী কিন্তু এখনও ক্রিজে টিকে আছেন। অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হতো না। এত হারার পরও রাহুল গান্ধী যে ময়দানে এখনও টিকে আছেন তা অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে তা এক বিরল ঘটনাও বলা চলে। রাহুলের কিছুটা সাফল্য বলতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। সেই সুবাদে কংগ্রেসের আসন একদিকে যেমন দ্বিগুণ হয় তেমনি লোকসভায় কংগ্রেস বেশ শক্তিশালী হয়। কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদাও পায়। রাহুল গান্ধী লোকসভার বিরোধী দলনেতাও হন। সে সময় রাহুল লোকসভায় ২টি আসন থেকে লড়েছিলেন। ফলে তাকে একটি আসন ছাড়তেই হতো। পরবর্তী সময় রাহুলের ছেড়ে যাওয়া আসনে লড়লেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ফলশ্রুতিতে প্রিয়াঙ্কা লোকসভার সাংসদও বনেন। এরপর থেকেই সংসদীয় রাজনীতিতে জাত চেনাতে লাগলেন প্রিয়াঙ্কা। সংসদের
ভেতরে এবং বাইরে রাহুলের পাশে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও হয়ে ওঠলে কংগ্রেসের অন্যতম মুখ। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সাংসদ হয়েছেন বছরখানে হলো। এর মধ্যে সংসদে তার ভাষণ বিরোধীদের মধ্যে তো বটে শাসক দলের অনেকেরই চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু তাই নয়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে যখনই শাসক দলের তরফে জোরালো আক্রমণ করা হয়েছে, বোন হিসাবে, নেত্রী হিসাবে রাহুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মুখের মতো জবাব দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সংসদে যখন বক্তব্য রাখতে ওঠেন তখন বোঝার কোন উপায় নেই যে, প্রিয়াঙ্কা প্রথমবারের কোন সাংসদ। সাধারণত প্রথমবারের কোন সাংসদ সংসদে বলতে গিয়ে হোঁচট খান, নানা সংসদীয় পরম্পরা না জানার কারণে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সেখানে বেজায় সাবলীল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল পরিশীলিত এবং মার্জিত ভাষার ব্যবহার। শাসক শিবিরকে এমনভাবে বিদ্ধ করেন প্রিয়াঙ্কা যাতে মনে হবে অত্যন্ত সহজ ভাষা। কিন্তু আদতে তা গভীর ক্ষতের দগদগে ঘা দিয়ে যায় শাসককে। সাম্প্রতিক বন্দেমাতরম বিতর্কে প্রিয়াঙ্কার সাবলীল এবং তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য শুনে ইন্ডিয়া শিবির তো বটেই, শাসক শিবিরের তামাম নেতাও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এরপর আসে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর জার্মান সফরের প্রসঙ্গ। মিডিয়া এবং শাসক শিবিরে এ নিয়ে নানা ব্যঙ্গ বিদ্রূপ, মিম আসার পরও দমেননি প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা শাসক শিবিরকে মুখের মতো জবাব দিয়ে বলেছেন- কই, প্রধানমন্ত্রীও তো সংসদের অধিবেশন চলার সময় বিদেশে যান। তার বেলায় তো কোন প্রশ্ন ওঠে না। যত দোষ শুধু রাহুল গান্ধীর বেলায়। এরই মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরকারের ডাকা তথা স্পিকারের ডাকা নৈশভোজে গিয়ে সটান হাজির হন। যেভাবে প্রিয়াঙ্কা স্পিকারের ডাকা নৈশভোজে হাজির হন তা সৌজন্য রাজনীতিতে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাহুল গান্ধী বর্তমানে বিদেশে। রাহুল গান্ধীকে নিয়ে শাসক শিবিরে একটা অ্যালার্জি রয়েছে। কেননা রাহুল গান্ধী কট্টর বিজেপিবিরোধী। বিজেপি বিরোধিতা তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। বিজেপির সাথে তার আপোশ নেই। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে নরমেগরমে কথা বলেছেন তাতে প্রধানমন্ত্রী এবং শাসক শিবিরও অভিভূত। প্রধানমন্ত্রী বলতেও বাধ্য হয়েছেন যে, যেকোনো প্রয়োজনে যেন তাকে বলেন প্রিয়াঙ্কা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতীন গড়কড়ির সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। এর আগে সহাস্যে সংসদে নীতীন গড়কড়িকে বলেন যে, তার সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট তিনি পাচ্ছেন না। গড়কড়িও সহাস্যে বলেন যে, যেকোন সময় প্রিয়াঙ্কা যেন তার সাথে দেখা করেন। সেই থেকে প্রিয়াঙ্কা বিজেপি শিবিরেও হয়ে উঠেছেন চর্চার অন্যতম বিষয়। ভবিষ্যতে কংগ্রেস রাজনীতির অন্যতম মুখ যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। অনেকেই বলছেন প্রিয়াঙ্কা তার রূপ মেলে ধরছেন দিন দিন। নিজের জাত চেনাচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। একসময় 'দাদি' ইন্দিরার ছাপ দেখা যেত প্রিয়াঙ্কার মধ্যে। আদতে প্রিয়াঙ্কা কি ভবিষ্যতে কোনও ছাপ রাখতে পারবেন কিনা তা সময়ই বলবে।