জটিলতায় বাংলাদেশিদের ভারতভ্রমণ কমেছে ৮০ ভাগ!!
অনলাইন প্রতিনিধি :- ভারত ভ্রমণে ভিসা জটিলতা ও হাইকমিশন অফিস বন্ধের কারণে বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বাংলাদেশিরা এখন আগের মতো ভিসা পাচ্ছে না। এ কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত আগের সব সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। গত তিনদিনে পাঁচ হাজার ৩৯২ জন যাত্রী বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করেছেন, যা আগের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ কম। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা অফিস বন্ধ করে দেওয়া ও ভারত সরকার নতুন নিয়মে অনলাইন ‘আগমন ফরম’ বাধ্যতামূলক করায় ভ্রমণকারীদের জন্য ইন্ডিয়ান ভিসা অনলাইন অ্যারাইভেল ওয়েবসাইটে আগমন ফরম পূরণের নিয়ম চালু করেছে। যাত্রার ৭২ ঘন্টা আগে এই ফরম পূরণ করে প্রিন্ট করে কপি সঙ্গে রাখতে হয়। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, ওয়েবসাইটের সার্ভার সচল না থাকায় আবেদন করতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর আগে যাত্রীদের ভারতের ইমিগ্রেশন গিয়ে অ্যারাইভাল ফরম হাতে লিখে পূরণ করতে হতো। এখন অনলাইনে তা বাধ্যতামূলক করেছে ভারত সরকার। ভিসা ফি ও খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। বর্তমানে একজন যাত্রীকে ভারতীয় দূতাবাসে ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় এক হাজার ৫০০ টাকা ভিসা ফি বাবদ এবং ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণকর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের এক হাজার ৫৭ টাকা ভ্রমণ ফি ও পোর্ট চার্জ দিতে হয়। এটি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এদিকে, ভিসার জন্য পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমা দিলে ৯৫ শতাংশ যাত্রীকে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে প্রতি যাত্রীর এক হাজার ৫০০ টাকা করে গচ্ছা যাচ্ছে। ভিসা জটিলতায় ভ্রমণ কমেছে গত বছরের ৫ আগষ্ট থেকে। ভারত সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ দেখিয়ে টুরিস্ট, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ রাখে। শুধু মেডিকেল ভিসা চালু থাকলেও শর্তসাপেক্ষে তা ৫ শতাংশ রোগীকে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় ভিসা না পেয়ে অধিকাংশ রোগী দালালের মাধ্যমে জমা দিলে কিছু কিছু ভিসা মিললেও সেখানে ৮-১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। যে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেখিয়ে ভিসা নেওয়া হয়েছে, তার কাছেই চিকিৎসা করতে হবে। এই শর্ত লঙ্ঘন করলে ফেরার পথে যাত্রীদের আটকে দিচ্ছে ভারতীয়
ইমিগ্রেশন।
বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আগে প্রতিদিন যেখানে সাত থেকে আট হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতেন, সেখানে এখন ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।গত মঙ্গলবার বেনাপোল স্থলবন্দরে সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার সময় ফরিদপুরের শ্যামল দত্ত জানান, তিনবার ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়েও ভিসা পাননি। চতুর্থবার দালালের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিসা পেয়েছি। এছাড়া ভিসা অফিসে লেগেছে এক হাজার ৫০০ টাকা। ভ্রমণ কর দিতে হয়েছে এক হাজার ৬০ টাকা। এত টাকা খরচা করার পর ডাক্তার দেখানোর টাকাই থাকছে না যাত্রীদের কাছে। বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এস এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত তিনদিনে মোট পাঁচ হাজার ৩৯২ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে শনিবার ভারতে গেছেন ৮৪৭ জন, ফিরেছেন ৭৭৯ জন, রবিবার গেছেন ৯৭৭ জন, ফিরেছেন ৮৮০ জন। সোমবার গেছেন এক হাজার ১৩৯ জন, ফিরেছেন ৭৭০ জন। ভিসা বন্ধ, ভিসা দিতে জটিলতা ও নতুন নিয়মের কারণে যাতায়াত |অনেকাংশে কমে গেছে।